আজ খুলনা ও যশোর যাচ্ছেন তারেক রহমান

আপডেট : ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৮:৪৭ এএম

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচনী প্রচারণার অংশ হিসেবে আজ সোমবার (২ জানুয়ারি) খুলনা ও যশোর যাচ্ছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বেলা ১১টায় হেলিকপ্টারযোগে খুলনার উদ্দেশে ঢাকা ছাড়বেন তিনি। খুলনার খালিশপুরের প্রভাতী স্কুল মাঠে এক বিশাল নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেবেন বিএনপি চেয়ারম্যান।

খুলনার জনসভা শেষে হেলিকপ্টারযোগে যশোর যাবেন তারেক রহমান। সেখানে উপশহর মাঠে নির্বাচনী জনসভায় বক্তব্য দেবেন। পরে যশোর থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেবেন তিনি। এর আগে বিএনপি চেয়ারম্যান সিলেট, চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহ, রংপুর ও রাজশাহী বিভাগে জনসভা করেছেন। এরপর নির্বাচনী জনসভা করতে তার বরিশাল যাওয়ার কথা রয়েছে।

খুলনা থেকে আমাদের নিজস্ব প্রতিবেদক জানান, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ২২ বছর পর আজ খুলনায় আসছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। দুপুর ১২টায় তিনি নগরীর খালিশপুরের প্রভাতী স্কুল মাঠে খুলনা মহানগর ও জেলা বিএনপি আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির ভাষণ দেবেন। বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের আগমন উপলক্ষে খুলনা মহানগরীসহ জেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলে বিএনপি এবং দলের অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা ও আনন্দ বিরাজ করছে।

এদিকে, দলীয় চেয়ারম্যান তারেক রহমানের আগমন উপলক্ষে রবিবার (১ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে নগরীর একটি অভিজাত হোটেলে খুলনা মহানগর ও জেলা বিএনপির উদ্যোগে প্রেস ব্রিফিং অনুষ্ঠিত হয়। এতে জানানো হয়, এই জনসভায় খুলনা, বাগেরহাট ও সাতক্ষীরা জেলার বিএনপির ১৪ জন প্রার্থীকে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান ভোটারদের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেবেন।

প্রেস ব্রিফিংয়ে নেতারা বলেন, বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্বাচনী জনসভায় খুলনার বন্ধ মিল-কলকারখানা চালু, দক্ষিণাঞ্চলে পাইপলাইনে গ্যাস, সুন্দরবনকেন্দ্রিক ট্যুরিজম, তথ্যপ্রযুক্তি (আইটি) সেক্টরের উন্নয়ন, কর্মসংস্থানসহ গ্রিন এবং ক্লিন খুলনার প্রতিশ্রুতি প্রত্যাশা করছেন দলের নেতারা। জনসভায় খুলনার উন্নয়নের রূপরেখা তুলে ধরবেন তারেক রহমান।

বিএনপি নেতারা বলেন, সুন্দরবনকে কেন্দ্র করে খুলনায় পর্যটন শিল্পের বিকাশ, উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের জানমাল রক্ষায় টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ, বেকার যুবসমাজের কর্মসংস্থান সৃষ্টি, দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা মিল-কারখানা পুনরায় চালু, খুলনায় গ্যাস সংযোগ নিশ্চিতকরণ এবং নতুন ইকোনমিক জোন নির্মাণসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অর্থনৈতিক পুনর্জাগরণের নানা পরিকল্পনা দলীয় প্রধানের বক্তব্যে গুরুত্ব পাবে।

প্রেস ব্রিফিংয়ে বিএনপির ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক ও খুলনা-৩ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী রকিবুল ইসলাম বকুল বলেন, সোমবার (আজ) বেলা ১১টায় বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান খুলনার উদ্দেশে ঢাকা থেকে হেলিকপ্টারে রওনা করবেন। দুপুর ১২টায় নগরীর খালিশপুরের প্রভাতী স্কুল মাঠে এক বিশাল নির্বাচনী জনসভায় তিনি প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেবেন। জনসভাকে কেন্দ্র করে খুলনাসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা বিরাজ করছে। ইতিমধ্যে জনসভাস্থলে মঞ্চ নির্মাণ, নিরাপত্তাব্যবস্থা, শৃঙ্খলা রক্ষা ও জনসমাগম নির্বিঘœ করতে প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে।

বিএনপির তথ্যবিষয়ক সম্পাদক ও খুলনা-৪ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী আজিজুল বারী হেলাল বলেন, তারেক রহমান ঘোষিত উন্নয়ন রূপরেখা বাস্তবায়িত হলে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হয়ে উঠবে এবং এ অঞ্চলের মানুষ নতুন আশার আলো দেখতে পাবে।

বিশেষ করে, খুলনায় ইকোনমিক জোন নির্মাণ এবং সুন্দরবনকেন্দ্রিক পর্যটন শিল্পের বিকাশ হলে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বাড়বে, নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং জাতীয় অর্থনীতিতে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অবদান বহুগুণে বৃদ্ধি পাবে।

খুলনা-২ (সদর-সোনাডাঙ্গা) আসনের ধানের শীষের প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, নির্বাচনী জনসভায় খুলনা অঞ্চলের উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানের পাশাপাশি বন্ধ কলকারখানা চালুসহ বিএনপি ঘোষিত ১০ দফার বিষয়ে দলের চেয়ারম্যান কথা বলবেন। এ কারণে খুলনার জনসভা শুধু একটি নির্বাচনী সমাবেশ নয় বরং খুলনাসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ নির্ধারণে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হয়ে উঠবে।

প্রেস ব্রিফিংয়ে আরও বক্তব্য দেন বিএনপির খুলনা বিভাগীয় সহসাংগঠনিক সম্পাদক জয়ন্ত কুমার কু-ু, খুলনা মহানগর বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট শফিকুল আলম মনা, জেলা বিএনপির সদস্য সচিব ও খুলনা-৬ আসনের প্রার্থী-মনিরুল হাসান বাপ্পী।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন খুলনা সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান মনি, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান মন্টু, মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শফিকুল আলম তুহিন, বিএনপি নেতা শেখ সাদী, মাসুদ পারভেজ বাবু, চৌধুরী হাসানুর রশিদ মিরাজসহ মহানগর ও জেলা বিএনপি এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতারা।

জনসভা শেষে দুপুর ১টায় হেলিকপ্টারযোগে বিএনপি চেয়ারম্যান যশোরের উদ্দেশে রওনা দেবেন। সর্বশেষ ২০০৪ সালের ৭ জুলাই খুলনায় এসেছিলেন তারেক রহমান।

এদিকে আমাদের যশোর প্রতিনিধি জানিয়েছে, প্রথমবারের মতো আজ যশোর সফরে আসছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তার আগমন উপলক্ষে গতকাল রবিবার দুপুরে প্রেস ক্লাব যশোরের শহীদ গোলাম মাজেদ মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে খুলনা বিভাগীয় ভারপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক ও যশোর-৩ (সদর) আসনে ধানের শীষের প্রার্থী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেছেন, ‘জনসমাগমের কথা বিবেচনায় নিয়ে শহরকে যানজটমুক্ত রাখতে জেলা বিএনপি তারেক রহমানের জনসভার আয়োজন করেছে শহর থেকে কয়েক কিলোমিটার দূরে উপশহর কলেজ মাঠে। এই সমাবেশে তিনি যশোরের ছয়টি সংসদীয় আসনসহ সাত জেলার প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেবেন।’

যশোর জেলা বিএনপি আয়োজিত এই সংবাদ সম্মেলনে দলের ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক নার্গিস বেগম, জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু, সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন খোকন, সাংগঠনিক সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার রবিউল ইসলাম ও মুনির আহমেদ সিদ্দিকী বাচ্চু এবং বিএনপি নেতা আনিসুর রহমান মুকুল উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে অনিন্দ্য ইসলাম অমিত জানান, আজ সোমবার দুপুর দেড়টা নাগাদ হেলিকপ্টারযোগে উপশহর উদ্যানে পৌঁছাবেন বিএনপি চেয়ারম্যান। এরপর উপশহর কলেজ মাঠে দলীয় জনসভার বক্তব্য রাখবেন। তার সঙ্গে কেন্দ্রীয় নেতারাও থাকবেন। মাত্র দুই দিনের নোটিসে বৃহৎ সমাবেশের আয়োজন করতে বিএনপির নেতাকর্মীরা দিনরাত অক্লান্ত পরিশ্রম করছেন। আশা করি সর্বকালের বৃহত্তম গণসমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে।

এদিকে, তারেক রহমানের আগমনকে স্বাগত জানিয়ে গতকাল যশোর শহরে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা করেছে যশোর জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকর্মীরা। সবাই একই রঙের টি-শার্ট গায়ে চড়িয়ে মিলিয়ে অংশ নেওয়ার এ সময় স্লোগানে স্লোগানে মুখরিত করেন শহরের রাজপথ। তাদের কণ্ঠে ধ্বনিত হয়, ‘তারেক রহমান আসছে, যশোরবাসী হাসছে’, তারেক রহমানের আগমন, শুভেচ্ছা স্বাগতম’ ইত্যাদি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত