বাংলাদেশ বিনির্মাণে ‘জনতার ইশতেহার’ জামায়াতের

আপডেট : ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৮:০৩ এএম

জুলাই আকাক্সক্ষাকে ধারণ করে নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণের ‘জনতার ইশতেহার’ শিরোনামে নির্বাচনী ইশতেহার প্রস্তুত করেছে জামায়াতে ইসলামী। আগামীকাল বুধবার আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে তা প্রকাশ করা হবে। এতে বৈষম্যহীন এবং সব ধর্ম-বর্ণের মানুষের জন্য আগামীর বাংলাদেশ গড়ে তোলার বার্তা থাকবে। নাগরিক সুবিধাসহ দুর্নীতিমুক্ত দেশ গড়ার প্রত্যয়ে থাকছে একগুচ্ছ প্রতিশ্রুতি।

ক্ষমতায় গেলে প্রথম ১০০ দিনের মধ্যে ফার্স্ট হান্ডেড ডেইজ প্রোগ্রামের মাধ্যমে দুর্নীতি শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনার প্রতিশ্রুতিও রাখছে ইশতেহারে। তাছাড়া প্রথম ১০০ দিন এবং পাঁচ বছর কী কী করবে তারও বিস্তারিত পরিকল্পনা থাকবে ইশতেহারে।

দলীয় সূত্র বলছে, বুধবার সন্ধ্যায় রাজধানীর বনানীর হোটেল শেরাটনে ইশতেহার ঘোষণা উপলক্ষে সংবাদ সম্মেলন আয়োজন করবে জামায়াত। দলের আমির ডা. শফিকুর রহমানসহ শীর্ষ নেতারা উপস্থিত থাকবেন। বিদেশি প্রতিনিধি, বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত, হাইকমিশনার, আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধি, কূটনীতিক ও বিশিষ্ট ব্যক্তিরা অংশ নেবেন।

জামায়াত বলছে, তাদের ইশতেহারে জনমতের প্রতিফলন ঘটবে। ইশতেহার তৈরি করার আগেই দেশের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের মতামত নেওয়া হয়েছে। ইশতেহারে দেশের অর্থনীতির আমূল পরির্বতনের জন্য শ্রমনির্ভর অর্থনীতি থেকে জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতিতে রূপান্তরের রূপরেখা দেবে। স্বল্প শিক্ষিতদের প্রশিক্ষণ দিয়ে দক্ষ করে গড়ে তোলার পাশাপাশি আইসিটি খাতকে গুরুত্ব দিয়ে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করতে চায়। বিশেষ সংখ্যালঘু ধরাণা থেকে বেরিয়ে আসতে চায় জামায়াত। তাদের ভাষ্য, সব নাগরিক দেশে সমান অধিকার ও মর্যাদা নিয়ে বসবাস করবে। তাছাড়া জাতীয় পরিচয়পত্র, টিন সার্টিফিকেট, হেলথ কার্ডসহ সবকিছুকে এক জায়াগায় নিয়ে আসার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে দলটি।

জামায়াতের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য ড. হাফিজুর রহমান গতকাল দেশ রূপান্তরকে বলেন, জামায়াত ক্ষমতায় গেলে তরুণদের দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলা হবে। সব মানুষের হাতে কাজ তুলে দিতে চাই। শিক্ষাব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন করে কর্মমুখী শিক্ষাব্যবস্থায় জোর দেওয়া হবে। তিনি বলেন, দুর্নীতি নির্মূল করতে পারলে দেশের অধিকাংশ সমস্যা সমাধান হয়ে যবে। তাই ১০০ দিনের অ্যাকশন প্ল্যানেই আমরা দুর্নীতিকে বিদায় জানাতে চাই।

জনতার ইশতেহার : নির্বাচনী ইশতেহারে জনমত যুক্ত করতে গত ১০ ডিসেম্বর ‘জনতার ইশতেহার’ ওয়েবসাইট ও মোবাইল অ্যাপ আনুষ্ঠানিকভাবে চালু করে জামায়াত। প্ল্যাটফর্মে আমরা ৩৭ হাজারেরও বেশি মানুষ মতামত দেয়। লিখিত মতামতের পাশাপাশি অনেকেই অডিও এবং ভিডিও করে নিজেদের মতামত তুলে ধরেন। যেখানে মানুষের আশা-আকাক্সক্ষা, অনুভূতি ও বাস্তব অভিজ্ঞতার প্রতিফলন ঘটেছে।

জাতীয়, বিভিন্ন খাতভিত্তিক, ৩০০ সংসদীয় আসনভিত্তিক, পেশাভিত্তিক, অঞ্চল-শহর ও জেলাভিত্তিক খাতে নানা মতামত দেয় নাগরিকরা। সেই মতামতগুলো যাচাই-বাছাই করে জামায়াতের ইশতেহারে যুক্ত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। একই সঙ্গে এ ইশতেহারের নামকরণ করা হয়েছে ‘জনতার ইশতেহার’।

জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতি : ক্ষমতায় গেলে জামায়াত শ্রমনির্ভর অর্থনীতি থেকে জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতিতে রূপান্তর করবে। ভ্যাট ১৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশ করতে চায় দলটি। জাকাতভিত্তিক অর্থনীতিকে গুরুত্ব দিতে চায় দলটি। এ ছাড়া সুষ্ঠু অর্থনৈতিক ব্যবস্থা গড়ে তোলার মাধ্যমে অর্থ পাচার এবং ঘুষ-দুর্নীতি রোধ, রেমিট্যান্সের প্রবাহ বৃদ্ধি করে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে চায়। পাশাপাশি ধীরে ধীরে সুদভিত্তিক অর্থ ব্যবস্থা থেকে বেরিয়ে আসার কর্ম পরিকল্পনা রয়েছে জামায়াতের।

জামায়াত ক্ষমতায় গেলে ক্ষুদ্র ও মাঝারি কৃষকদের জন্য সুদবিহীন ঋণ সুবিধা দেবে। বিশেষ করে ব্যবসায় ও কৃষিবান্ধব অর্থনীতির পাশাপাশি রেমিট্যান্স, তথ্যপ্রযুক্তি খাতকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। দক্ষ জনশক্তির মাধ্যমে ৫-৭ বছরের মধ্যে রেমিট্যান্স আয় দুই থেকে তিনগুণ বৃদ্ধি করা হবে।

নির্বাচিত হওয়ার প্রথম তিন বছরে শিল্পে গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পানির চার্জ না বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি থাকবে ইশতেহারে। বন্ধ কলকারখানা পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপে চালু এবং ১০ শতাংশ মালিকানা শ্রমিকদের জন্য বরাদ্দ রাখার কথা থাকছে ইশতেহারে।

কর্মসংস্থানের জন্য নতুন মন্ত্রণালয় : কর্মসংস্থান তৈরিতে শিক্ষিত ও স্বল্প শিক্ষিত জনগোষ্ঠী নিয়ে আলাদা কর্ম পরিকল্পনা তৈরি করেছে জামায়াত। ক্ষমতায় গেলে দক্ষ জনশক্তি ও চাকরিক্ষেত্র তৈরির লক্ষ্যে নতুন মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠা করবে দলটি। পাঁচ বছরে এক কোটি তরুণকে বাজারভিত্তিক প্রশিক্ষণ দেবে। নারী, তরুণ এবং অবহেলিত জনগোষ্ঠীকে প্রাধান্য দিয়ে পাঁচ লাখ নতুন উদ্যোক্তা তৈরি করার পরিকল্পনা করেছে জামায়াত। প্রতিটি জেলায় ‘জব ইয়ুথ ব্যাংক’ গঠন করে পাঁচ বছরে ৫০ লাখ ‘জব একসেস’ তৈরি করবে। সব জেলায় গ্র্যাজুয়েটদের জন্য ‘ইয়ুথ টেক ল্যাব’ স্থাপন করবে। স্বল্প শিক্ষিত যুবকদের জন্য স্কিল ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম চালু করবে।

দলটির নেতারা বলছেন, বেকার ভাতা দেওয়ার চেয়ে বেকারদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা জরুরি। তাতে সবার সম্মান ও দেশের অর্থনীতি উন্নত হয়। এজন্য কর্মমুখী শিক্ষার প্রসার, নতুন নতুন কলকারখানা তৈরি, ব্যাংক ব্যবস্থার আধুনিকায়ন, কর্মীদের উন্নত প্রশিক্ষণ দিয়ে বিদেশে পাঠানোসহ থাকবে নানা পরিকল্পনা।

আইসিটি : তরুণদের চাহিদা পূরণ করতে আইসিটি খাতকে গুরুত্ব দিচ্ছে জামায়াত। ২০৩০ সালের মধ্যে ২০ আইসিটি জব নিশ্চিত করা হবে। ‘আইসিটি ভিশন ২০৪০’ ঘোষণা করে এ সেক্টর থেকে ৫০০ কোটি মার্কিন ডলার আয় করার পরিকল্পনা করেছে। আইসিটি খাতে ১৫০ কোটি মার্কিন ডলার ব্যয় সাশ্রয় করার পরিকল্পনাও রয়েছে জামায়াতের। এ লক্ষ্যে ১০ লাখ নতুন ফ্রিল্যান্সার তৈরি করবে। ফ্রিল্যান্সার ও ডিজিটাল রপ্তানির জন্য ন্যাশনাল পেমেন্ট গেটওয়ে স্থাপন করা হবে বলে জানিয়েছেন দলের নেতারা।

নাগরিক সেবা সহজীকরণ : ভোগান্তি লাঘবে এনআইডি, টিন, হেলথ কেয়ার ও সামাজিক সব সেবা একসঙ্গে নিয়ে আসার পরিকল্পনা করেছে জামায়াত। এজন্য স্মার্ট সোশ্যাল সিকিউরিটি কার্ড চালু করার কথা বলছে দলটি। তাছাড়া শহর জীবনকে আধুনিক ও গতিময় করে তুলতে গণপরিবহনে শৃঙ্খলা আনার পরিকল্পনা করেছে দলটি। জামায়াত ক্ষমতায় গেলে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বড় শহরে গণপরিবহনে ‘সিটি ডিজিটাল ট্রাভেল পাস’ চালু করবে। যেখানে ডিজিটাল পেমেন্ট সিস্টেম থাকবে। এ কার্ডের মাধ্যমে যেকোনো গণপরিবহনে ভ্রমণে নির্দিষ্ট পরিমাণ ভাড়া কেটে নেবে। ফলে যাত্রী-পরিবহন শ্রমিকদের মধ্যে সুসম্পর্ক বাগ্বিত-ার পরিবর্তে সুসম্পর্ক গড়ে উঠবে। তাছাড়া পার্কিং সমস্যা দূর করতে বহুতল পার্কিং তৈরি করে গাড়ি চলাচলের জন্য সড়কগুলো সচল রাখার পরিকল্পনা করা হয়েছে।

নারী শিক্ষা ও কর্মসংস্থান : ‘নির্ভয়ে চলো নারী’ শিরোনামে জামায়াতের ইশতেহারে নারী সহায়ক নগর পরিকল্পনার কথা থাকবে। ঢাকাসহ দেশের বড় শহরগুলো নারীদের জন্য পাবলিক টয়লেট, ব্রেস্টফিডিং কর্নার ও নামাজের জায়গার ব্যবস্থা করা হবে। নারী শিক্ষার্থীদের জন্য মাতৃত্বকালীন সুযোগ-সুবিধার কথা থাকবে।

দলটির নেতারা বলছেন, ক্ষমতায় গেলে জামায়াত নারীদের উন্নয়নে সহায়ক হবে। এজন্য নারীদের নিরাপত্তা ও সম্মান, কর্মসংস্থানসহ বিভিন্ন বিষয়ে ইশতেহারে উল্লেখ থাকবে। তাছাড়া কর্মজীবী মায়েদের জন্য কর্মঘণ্টা কমিয়ে আনার বিষয়ে ইতিমধ্যে ঘোষণা দিয়েছেন দলটির আমির ডা. শফিকুর রহমান। বিষয়টিও ইশতেহারে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। নারী শিক্ষার প্রসারে ঢাকার ইডেন ও বদরুন্নেসা কলেজের সমন্বয়ে বিশ্বের বৃহৎ নারী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠাসহ একগুচ্ছ পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে জামায়াত।

স্বাস্থ্য খাত : জামায়াত ক্ষমতায় গেলে জিডিপির ৬-৮ শতাংশ বরাদ্দ থাকবে স্বাস্থ্য খাতে। ৬০ বছরের বেশি এবং ৫ বছরের কমবয়সী শিশুদের জন্য বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করবে জামায়াত। ৬৪ জেলায় ৬৪টি বিশেষায়িত হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করবে। বিশেষ করে যেসব জেলা স্বাস্থ্যসেবা অনুন্নত সেখানে অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করবে। ‘ফার্স্ট থাউজেন্ড ডেইজ প্রোগ্রাম’-এর আওতায় গর্ভধারণ থেকে শুরু করে শিশুর বয়স দুই বছর বয়স পর্যন্ত মা ও শিশুর প্রাথমিক স্বাস্থ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তাকে সামাজিক নিরাপত্তার আওতায় নিয়ে আসার পরিকল্পনা রয়েছে তাদের।

শিক্ষাব্যবস্থা : ক্ষমতায় গেলে প্রতি বছর ১০০ জন শিক্ষার্থীকে সরকারিভাবে সুদমুক্ত লোনে বিশ্বের সেরা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে পড়াশোনার ব্যবস্থা করে দেবে জামায়াত। যাতে গরিবের মেধাবী সন্তানরাও যেন হার্ভার্ড, এমআইটি, অক্সফোর্ড, ক্যামব্রিজের মতো বড় বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে পারে। তাছাড়া গ্র্যাজুয়েশন শেষে চাকরি পাওয়া পর্যন্ত সময়ে পাঁচ লাখ গ্র্যাজুয়েটকে সর্বোচ্চ দুই বছর মেয়াদি মাসিক সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা সুদমুক্ত ঋণ (কর্জে হাসানা) প্রদান করা হবে। মেধা ও প্রয়োজনের ভিত্তিতে এক লাখ শিক্ষার্থীর জন্য মাসিক ১০ হাজার টাকা সুদমুক্ত শিক্ষাঋণ দেওয়া হবে।

দলটির নেতারা বলছেন, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন বড় কলেজগুলোকে বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তর করা হবে। সব নিয়োগ হবে মেধাভিত্তিক। দেশের শিক্ষাব্যবস্থা যুগোপযোগী ও আধুনিক করতে চায় জামায়াত। উন্নত জ্ঞান-বিজ্ঞানের সমন্বয়ের সঙ্গে কর্মমুখী শিক্ষাকে গুরুত্ব দিতে চায় দলটি। দেশে যাতে কোনো শিক্ষিত বেকার তৈরি না হয়, সেজন্য নেওয়া হবে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা। পাড়ায় পাড়ায় লাইব্রেরি গড়ে তোলা, দেশে উন্নত গবেষণাগার তৈরি, জনগণকে ইসলামি ও বিজ্ঞানমনস্ক করার নানা পরিকল্পনা থাকবে ইশতেহারে।

কৃষি ও শিল্প : কৃষকদের জন্য সুদমুক্ত ঋণের ব্যবস্থা করবে জামায়াত। নির্বাচনী ইশতেহারে এবার কৃষিবান্ধব শিল্প গড়ার প্রতিশ্রুতি থাকবে। উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলাসহ অঞ্চলভিত্তিক কৃষিশিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে চায়। বিশেষ করে বিভিন্ন প্রত্যন্ত অঞ্চলে কৃষি উপকরণ সহজলভ্য করার পাশাপাশি ফসল সংরক্ষণের হিমাগার তৈরি করার প্রতিশ্রুতি দেবে।

উদাহরণ দিয়ে জামায়াত নেতারা জানিয়েছেন, সিরাজগঞ্জ ও এর আশপাশ এলাকায় দুধ বেশি উৎপাদন হয়। জামায়াত ক্ষমতায় গেলে এসব এলাকায় গুঁড়া দুধ তৈরির কারখানা প্রতিষ্ঠা করা হবে। এভাবে যে এলাকায় যা উৎপাদন হয় সেখানেই শিল্প গড়ে তোলার চেষ্টা করবে দলটি। এতে করে কৃষকরা ন্যায্যমূল্য পাওয়ার পাশাপাশি কর্মসংস্থান তৈরি হবে।

ক্ষমতায় গেলে বন্ধ হয়ে যাওয়া কল-কারখানা পুনরায় চালু করার উদ্যোগ গ্রহণ করবে জামায়াত। পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপে চালু করা এসব করাখানায় ১০ শতাংশ মালিকানা থাকবে শ্রমিকদের।

জামায়াত নেতারা আরও বলছেন, তারা ক্ষমতায় গেলে দেশের সংস্কৃতি জগৎ আরও সমৃদ্ধশালী ও রুচিসম্মত হবে। যার যার যে অবস্থান আছে, সেখানে তারা দেশ ও জাতির জন্য কাজ করতে পারবে। সিনেমা-নাটক, বিনোদন সবই থাকবে। ইশতেহারে এ বিষয়ে স্পষ্ট ঘোষণা থাকবে।

জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের দেশ রূপান্তরকে বলেন, জামায়াতের ইশতেহার হবে জন-আকাক্সক্ষার ইশতেহার, যার নামকরণ করা হয়েছে জনতার ইশতেহার। এজন্য আমরা মানুষের কাছ থেকে মতামত নিয়েছি। জুলাই আকাক্সক্ষাকে ধারণ করে আগামীর বাংলাদেশ সাজানোর রূপরেখা থাকবে এ ইশতেহারে।

তিনি বলেন, ইশতেহারে মানবাধিকার, ন্যায়বিচার, বাকস্বাধীনতা, মানসম্মত শিক্ষা, টেকসই গণতন্ত্র ও কল্যাণ রাষ্ট্র নিশ্চিতের কথা থাকবে। তাছাড়া স্বাস্থ্য, নারীদের নিরাপত্তা, শিশু থেকে বয়স্ক সবার জন্য নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণের রূপরেখা থাকবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত