রাফাহ সীমান্তে জরুরি ত্রাণের আহ্বান জাতিসংঘ মহাসচিবের

আপডেট : ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১০:২৫ এএম

গাজায় মানবিক সহায়তা ও চিকিৎসার জন্য আহত ও অসুস্থদের বাইরে নেওয়ার সুযোগ অবিলম্বে দিতে ইসরায়েলের প্রতি আবারও আহ্বান জানিয়েছেন জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। ক্রমবর্ধমান চিকিৎসা সংকটের মধ্যেও রাফাহ সীমান্ত দিয়ে যাতায়াতে কড়াকড়ি অব্যাহত রেখেছে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ।

মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে বক্তব্য দিতে গিয়ে গুতেরেস বলেন, রাফাহ সীমান্তসহ সব পথ দিয়ে দ্রুত ও বাধাহীনভাবে মানবিক সহায়তা প্রবেশ নিশ্চিত করতে হবে। এদিন বিদেশে চিকিৎসা নিতে আশায় রাফাহ সীমান্তে জড়ো হন শতাধিক অসুস্থ ও আহত ফিলিস্তিনি। তবে মাত্র ১৬ জনকে মিসরে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়, যা ইসরায়েলের আগের ঘোষিত দৈনিক উভয় দিকে ৫০ জন চলাচলের প্রতিশ্রুতির চেয়ে অনেক কম। 

সহায়তা সংস্থাগুলো জানায়, রাফাহ সীমান্তে বিলম্বের কোনো স্পষ্ট কারণ জানানো হয়নি। সীমান্ত পার হতে গিয়ে ফিলিস্তিনিদের ব্যক্তিগত মালামাল ফেলে যেতে বাধ্য করা হচ্ছে। প্রায় দুই বছর ধরে কার্যত বন্ধ থাকার পর সীমান্তটি আংশিকভাবে পুনরায় খোলা হয়েছে। বর্তমানে গাজায় প্রায় ২০ হাজার মানুষ বিদেশে জরুরি চিকিৎসার অপেক্ষায় রয়েছেন।

এই পরিস্থিতিতে গাজার স্বাস্থ্য ব্যবস্থা কার্যত ধ্বংস হয়ে পড়েছে। ইসরায়েলি হামলায় অধিকাংশ হাসপাতাল ও চিকিৎসা অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত বা সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়েছে। গাজার স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, খান ইউনিসের কাছে ইসরায়েলি বাহিনীর গুলিতে ১৯ বছর বয়সী এক ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এতে অক্টোবরের মাঝামাঝিতে কার্যকর হওয়া তথাকথিত যুদ্ধবিরতির পর নিহতের সংখ্যা ৫০০ ছাড়িয়েছে।
চিকিৎসা কর্মকর্তারা সতর্ক করে বলেছেন, রোগীদের সরিয়ে নেওয়া বন্ধ রাখা এবং ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জাম প্রবেশে বাধা দেওয়া অনেকের জন্য প্রাণঘাতী হয়ে উঠতে পারে, কারণ গাজার ভেতরে গুরুতর আহত ও দীর্ঘমেয়াদি রোগীদের চিকিৎসার কার্যকর কোনো বিকল্প আর নেই।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত