নেইমার ছাড়া ঝুঁকিতে ব্রাজিলের হেক্সা মিশন: রোমারিও

আপডেট : ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০১:২৬ পিএম

ব্রাজিল সুপারস্টার নেইমারের যে ২০২৬ বিশ্বকাপে খেলা হচ্ছে না- তা অনেকটাই নিশ্চিত মনে করছেন অনেকে। কোচ কার্লো আনচেলত্তি স্পষ্ট করে বলে দিয়েছেন, শতভাগ ফিট না হলে এবং ফর্ম না থাকলে কেউই বিশ্বকাপ দলে জায়গা পাবে না। বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে ব্রাজিল কিংবদন্তি রোমারিও বলেছেন, নেইমার না খেলতে পারলে ব্রাজিলের ষষ্ঠ শিরোপা জয়ের সম্ভাবনা কমে যাবে।

১৯৯৪ বিশ্বকাপজয়ী এই সাবেক স্ট্রাইকার বলেন, নেইমারের অনুপস্থিতি ব্রাজিল দলের জন্য বড় ধাক্কা হবে। তার মতে, ভিনিসিয়ুস জুনিয়র ও রাফিনহার মতো আন্তর্জাতিক তারকা থাকা সত্ত্বেও নেইমারের মতো ম্যাচের ভাগ্য বদলে দেওয়ার ক্ষমতা ও ব্যক্তিগত নৈপুণ্য ব্রাজিল দলে অন্য কারও মধ্যে নেই। রোমারিও বলেন, ‘নেইমার ছাড়া ব্রাজিল ষষ্ঠ শিরোপা থেকে অনেক দূরে সরে যাবে। তাকে ছাড়া জাতীয় দল দুর্ভাগ্যজনকভাবে আর দশটা দলের মতো হয়ে যাবে।’

২০২৩ সালের অক্টোবরে উরুগুয়ের বিপক্ষে বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের ম্যাচে বাঁ হাঁটুর লিগামেন্ট ও মেনিস্কাসে গুরুতর চোট পান নেইমার। সে সময় তিনি সৌদি আরবের ক্লাব আল-হিলালের হয়ে খেলছিলেন। ওই চোটের পর থেকে জাতীয় দলে নিয়মিতভাবে দেখা যায়নি তাকে। ২০২৫ সালের শুরুতে ফিটনেস ফিরে পেতে ও জাতীয় দলে ফেরার লক্ষ্য নিয়ে নেইমার ব্রাজিলের ঐতিহ্যবাহী ক্লাব সান্তোসে যোগ দেন। ব্রাজিল কিংবদন্তি রোমারিও।

চোট নিয়েও দলকে অবনমন থেকে বাঁচাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন নেইমার। তার ক্লাব কোপা সুদামেরিকানায় জায়গা করে নেয়। তবে বিশ্বকাপ দলে তার অন্তর্ভুক্তি এখনো পুরোপুরি শারীরিক সুস্থতার ওপর নির্ভর করছে। ব্রাজিল দলের বর্তমান কোচ কার্লো আনচেলত্তি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, শতভাগ ফিট না হলে নেইমারকে দলে ডাকা হবে না। তিনি বলেন, ‘৮০ শতাংশ নয়, ১০০ শতাংশ ফিট হলেই কেবল নেইমারকে দলে নেওয়া হবে।’

আনচেলত্তি নেইমারকে ব্রাজিলের সবচেয়ে প্রতিভাবান ফুটবলার হিসেবে উল্লেখ করলেও, ফিটনেসকে চূড়ান্ত মানদণ্ড হিসেবে বিবেচনা করছেন। সাম্প্রতিক সময়ে ব্রাজিল জাতীয় দল বড় পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। কোচ ফার্নান্দো দিনিজের বিদায়ের পর অল্প সময়ের জন্য দায়িত্বে ছিলেন দোরিভাল জুনিয়র। আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ৪–১ গোলে হারের পর তাকে বরখাস্ত করা হয়। এরপর আনচেলত্তি দায়িত্ব গ্রহণ করেন বিশ্বকাপের প্রস্তুতি এগিয়ে নিতে।

আসন্ন মার্চে ফিফা আন্তর্জাতিক বিরতিতে ফ্রান্স ও ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচগুলো নতুন খেলোয়াড় পরীক্ষা এবং নেইমারের সম্ভাব্য প্রত্যাবর্তনের গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। রোমারিওর বক্তব্য, ‘১৯৭০ সালে ব্রাজিল খেলেছে পেলেকে কেন্দ্র করে, গ্যারিঞ্চাকে ঘিরে। ১৯৯৪ সালে রোমারিও, ২০০২ সালে রোনালদো আর ২০২৬ সালে যদি নেইমারকে কেন্দ্র করে দল গড়া না হয়, তাহলে ব্রাজিল বিশ্বকাপ জিতবে না।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত