নওগাঁয় জামায়াত-বিএনপির সংঘর্ষ, দুই দলের পাল্টাপাল্টি সংবাদ সম্মেলন

আপডেট : ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৬:৪১ পিএম

নওগাঁ-৫ (সদর) আসনে জামায়াত-বিএনপির কর্মী-সমর্থকদের সংঘর্ষের ঘটনায় পাল্টাপাল্টি সংবাদ সম্মেলন করেছে দুই দল। মঙ্গলবার রাত ১১টায় জামায়াতে ইসলামী নওগাঁ পৌর শাখার উদ্যোগে পৌর শাখায় সংবাদ সম্মেলন করেন নওগাঁ-৫ (সদর) আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী অ্যাড. আ স ম সায়েম।

আর আজ বুধবার বেলা সাড়ে ১১টায় নওগাঁ জেলা বিএনপির দলীয় কার্যালয় শহরের কেডির মোড়ে সংবাদ সম্মেলন করেন জেলা বিএনপির সভাপতি আবু বক্কর সিদ্দিক নান্নু।

সংঘর্ষের সময়ের প্রত্যক্ষদর্শী ও উভয় দলের নেতাকর্মী সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার নওগাঁ সদরের হাঁসাইগাড়ী ইউনিয়নে নির্বাচনী প্রচারণা করে নওগাঁ-৫ (সদর) আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী অ্যাড সায়েম। দলীয় নেতাকর্মীদের জন্য দুপুরের খাবার আয়োজন করেন মাখনা কোমলগোটা গ্রামের জামায়াতের কর্মী শহীদ মোল্লা।

শহীদ মোল্লার বাড়িতে দুপুরের খাবারের জন্য এলাকায় নির্বাচনী প্রচারণা শেষে জামায়াতের কর্মী-সমর্থকরা অপেক্ষা করছিলেন। এ সময় এলাকার বিএনপির কর্মী সমর্থকরা খাবারের ভিডিও ধারণ করছিলেন। খাবারের ভিডিও ধারণ করতে জামায়াতের নেতাকর্মীরা বাধা দেন। এতে জামায়াত-বিএনপির কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে তর্ক শুরু হয়। এক পর্যায়ে দুই পক্ষের এলাকাবাসীর সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরে সেনাবাহিনী ও পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে। সংঘর্ষের ঘটনায় উভয় পক্ষে অন্তত ১৫ জন কর্মী-সমর্থক আহত হয়েছেন।

মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১১টায় নওগাঁ-৫ আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি সায়েম সংবাদ সম্মেলনে বলেন, নির্বাচনী প্রচারণার অংশ হিসেবে মঙ্গলবার হাঁসাইগাড়ী ইউনিয়নে প্রচারণা করছিলেন। কয়েকটি গ্রামে নির্বাচনী প্রচারণা শেষে একটি বাড়িতে কর্মী সমর্থকদের নিয়ে বিশ্রাম করছিলাম। সে বাড়িতেই সফরে থাকা নেতাকর্মীদের জন্য দুপুরের খাবারের ব্যবস্থা করা হয়। হঠাৎ করে বিএনপির কর্মী-সমর্থকরা সেখানে হাজির হয়ে তাদের জন্য রান্না করা খাবারের ভিডিও ধারণ করতে শুরু করেন। বিএনপির কর্মী-সর্থকদের ভিডিও ও ছবি উঠাতে বারণ করলে তারা উত্তেজিত হয়ে জামায়াতের নেতাকর্মীদের ওপর এসএস পাইপ নিয়ে মারধর করতে থাকেন। পরে স্থানীয় ভীমপুর পুলিশ ফাঁড়িতে ঘটনা জানালে এসআই প্রণয়সহ কয়েকজন পুলিশ ঘটনাস্থলে আসেন। কিন্তু ঘটনাস্থলে এসে তারা নীরব ভূমিকা পালন করেন। পরবর্তীতে সদর থানা পুলিশ ও পুলিশ সুপারকে বিষয়টি অবহিত করা হলে ঘটনাস্থলে সেনাবাহিনী উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি শান্ত করে।

জামায়াত প্রার্থী সায়েম অভিযোগ করে বলেন, নির্বাচনের শুর থেকেই জামায়াতে ইসলামীর ইমেজকে ভয় পেয়ে শান্তির শহরকে অশান্তিতে পরিণত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। প্রতিপক্ষ তাদের পরাজয় নিশ্চিত বুঝতে পেরে তারা আমাকে হত্যা করার উদ্দেশ্য এ হামলা করে। আগামী বৃহস্পতিবার আমিরে জামায়াত নওগাঁয় আসবেন। আমিরে জামায়াতের প্রোগ্রামকে বাধাগ্রস্ত করতে রাস্তায় রাস্তায় কর্মী-সমর্থকদের গ্রুপ করে বাধাগ্রস্ত করার পরিকল্পনা করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন।

এ সময় তার সঙ্গে জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির সহকারী অধ্যাপক মহিউদ্দিন, সদর উপজেলা আমির অ্যাডভোকেট আব্দুর রহিম, অন্যন্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

অন্যদিকে আজ বুধবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে শহরের কেডির মোড়ে নওগাঁ জেলা বিএনপির কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে নওগাঁ জেলা বিএনপির সভাপতি আবু বক্কর সিদ্দিক নান্নু বলেন, নির্বাচনী আচরণ বিধি লঙ্ঘন করে জামায়াতের কর্মী-সমর্থকরা হাসাইগাড়ী ইউনিয়নের এক জামায়াতের কর্মীর বাড়িতে খাওয়ার আয়োজন করে এবং উপস্থিত নেতাকর্মীদের বাড়িতে খাওয়া-দাওয়া করছিলেন। এ সময় স্থানীয় কয়েকজন যুবক নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করে খাবারের আয়োজনের ভিডিও ধারণ করতে যায়। এ সময় জামায়াতের নেতাকর্মীরা তাদের বাধা দেন। বাধা প্রদানের এক পর্যায়ে যে মোবাইল দিয়ে ভিডিও ধারণ করছিল সেই মোবাইল কেড়ে নিয়ে তাদের মারধর করেন জামায়াতের নেতাকর্মীরা। পরে উপস্থিত নেতাকর্মী ও গ্রামবাসী প্রতিবাদ জানাতে গেলে কথাকাটাকাটির এক পর্যায়ে জামায়াতের নেতাকর্মীরা বিএনপির কর্মী-সমর্থকদের ওপর হামলা চালায়।

সংবাদ সম্মেলনে নওগাঁ জেলা বিএনপির সভাপতি আবু বক্কর সিদ্দিক নান্নু গতকাল রাতে জামায়াত প্রার্থী সংবাদ সম্মেলন করে যে মিথ্যাচার করেছেন তার প্রতিবাদ জানান। নির্বাচন যাতে সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন না হয় তারা সেই পাঁয়তারা করছে। বিএনপির কর্মী-সমর্থকদের হামলার ঘটনায় তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রশাসনের সুদৃষ্টি কামনা করেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে নওগাঁ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মামুনুর রহমান রিপন, সাংগঠনিক সম্পাদক শফিউল আজম রানাসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দরা উপস্থিত ছিলেন।

নওগাঁ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নিয়ামুল হক জানান, মারামারির ঘটনায় বিএনপি এবং জামায়াত উভয়েই থানায় অভিযোগ করেছেন। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যাবস্থা গ্রহণের কথা জানান ওসি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত