আসন পুনরুদ্ধারে মরিয়া বিএনপি জয় নিশ্চিত করতে চায় জামায়াত

আপডেট : ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৩:৫২ এএম

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের দিন যতই ঘনিয়ে আসছে, ততই জমে উঠেছে জয়পুরহাট-২ আসনের প্রচার-প্রচারণা। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ভোটারদের মন জয়ের চেষ্টা করছেন প্রার্থীরা। সেই সঙ্গে নানা উন্নয়ন করার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন তারা। এক সময়ের বিএনপির দুর্গ হিসেবে পরিচিত এ আসনটিতে এবার ধানের শীষ ও দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থীর মধ্যে তুমুল লড়াই হবে। সৎ, যোগ্য ও ভোটারদের সুখে-দুঃখে পাশে থাকবেন এমন প্রার্থীকে ভোট দেওয়ার কথা বলছেন সাধারণ ভোটাররা।

এ আসনে বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকে মনোনয়ন পেয়ে লড়ছেন ঢাকা জেলার সাবেক ডিসি ও সাবেক সচিব আব্দুল বারী। আর জামায়াতের দাঁড়িপাল্লা প্রতীক পেয়েছেন জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি ও আক্কেলপুর উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান এসএম রাশেদুল আলম সবুজ। এ ছাড়া এবি পার্টির প্রার্থী এসএ জাহিদ হোসেন প্রার্থী থাকলেও সম্প্রতি তিনি নির্বাচনে জামায়াতের প্রার্থীকে সমর্থন দিয়ে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। এ কারণেই বিএনপি-জামায়াতের প্রার্থীর মধ্যে ভোটের মূল লড়াই হবে।

নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা যায়, জয়পুরহাটের কালাই, ক্ষেতলাল ও আক্কেলপুর উপজেলা নিয়ে গঠিত জয়পুরহাট-২ আসন। জয়পুরহাট-২ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৫১ হাজার জন। এর মধ্যে পুরুষ এক লাখ ৭৪ হাজার, নারী এক লাখ ৭৭ হাজার ও তৃতীয় লিঙ্গের দুজন। মোট ভোটকেন্দ্র ১০৪টি। কৃষিনির্ভর এ আসনে ১৯৯১ সাল থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত টানা চারবার বিএনপি থেকে আবু ইউসুফ মো. খলিলুর রহমান ও ২০০৮ সালে বিএনপির ইঞ্জিনিয়ার গোলাম মোস্তফা সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। দলের সিদ্ধান্তের কারণে পরের নির্বাচনগুলোতে বিএনপি থেকে আর কেউ অংশগ্রহণ করেননি। এবার এ আসনটি পুনরুদ্ধার করতে চায় বিএনপি। অন্যদিকে সাংগঠনিক ভিত অনেকটা শক্তিশালী করে জিততে চায় জামায়াত।

ক্ষেতলাল উপজেলার বটতলী এলাকার তৌহিদুল ইসলাম বলেন, ‘আমি নতুন ভোটার। খুব আনন্দ নিয়ে এবার ভোট দেব। আমি এমন একজনকে ভোট দিতে চাই, যিনি আমাদের দেশের উন্নয়ন করবে, গরিব-দুঃখী মানুষের পাশে থাকবে। এটাই আমাদের প্রত্যাশা।’

বিএনপির ধানের শীষের প্রার্থী আব্দুল বারী দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমি যেখানেই যাচ্ছি সেখানেই স্বতঃস্ফূর্তভাবে সাড়া পাচ্ছি, মানুষের সমর্থন পাচ্ছি। এজন্য শতভাগ আশাবাদী, আমি বিপুল ভোটে নির্বাচিত হবে। আমি নির্বাচিত হলে কৃষি উপকরণ সহজলভ্য করব, কৃষকদের উন্নয়নে কাজ করে যাব।’

জামায়াতের দাঁড়িপাল্লার প্রার্থী এমএম রাশেদুল আলম সবুজ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমি জনগণের কাছে যাচ্ছি, ভোটারদের ব্যাপক সাড়া পাচ্ছি। ভোটাররা ফ্যাসিবাদ ও বৈষম্যমুক্ত একটি বাংলাদেশ দেখতে চায়। সেজন্য তারা জামায়াতকে বেছে নিতে চায়। জামায়াতের প্রতি মানুষের আস্থা আছে। আমার বিশ্বাস জনগণ আমাকে ভোট দিয়ে বিজয়ী করবে। আমি বিজয়ী হলে দুর্নীতিমুক্ত জনবান্ধব প্রশাসন, মাদকমুক্ত সমাজ, সুদমুক্ত অর্থনীতি ব্যবস্থা, মানুষের কর্মের ব্যবস্থা, নারীদের অধিকার নিশ্চিত করা, অমুসলিমদের ধর্মীয় স্বাধীনতার নিরাপত্তার ব্যবস্থাসহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ করব।’

এ বিষয়ে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক আল মামুন মিয়া দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘জয়পুরহাটের নির্বাচনী পরিবেশ অনেক ভালো। এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট ও জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আচরণবিধি প্রতিপালন সংক্রান্ত কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। এ পর্যন্ত কাউকে জরিমানা বা শাস্তি দেওয়া হয়নি। আচরণবিধি যথাযথ পালন হচ্ছে বলে আমার বিশ্বাস। পাশাপাশি চার উপজেলাতে সেনাবাহিনীর ক্যাম্প রয়েছে। এ ছাড়া পুলিশ, র‌্যাব, বিজিবি কাজ করছে। পাশাপাশি গোয়েন্দা সংস্থা কাজ করছে। ভোটকেন্দ্রগুলোতে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ভোটকেন্দ্রগুলোতে বিদ্যুৎ ও সিসিটিভি ক্যামেরার ব্যবস্থা থাকবে। আশা করছি, সবার অংশগ্রহণে অবাধ ও সুষ্ঠু একটি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এ ছাড়া গণভোটের ব্যাপারে মানুষকে উদ্বুদ্ধ করছি। তারা শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন বলে আশা করছি।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত