সচিবালয় এলাকায় নীরব এলাকা বাস্তবায়নে সমন্বিত অভিযান

আপডেট : ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৯:৩২ এএম

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি), ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন (ডিএসসিসি), বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) ও পরিবেশ অধিদপ্তরের সমন্বয়ে নীরব এলাকা বাস্তবায়নে সমন্বিত অভিযান পরিচালনার ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবে মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) হাইকোর্টের মাজার গেইটের সম্মুখে এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশের আয়োজন করা হয়েছে।

ওই আয়োজনে প্রধান অতিথি ছিলেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। তিনি বলেন, শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণ বিধিমালা, ২০২৫ এ পুলিশকে তাৎক্ষণিক জরিমানা আদায় করার ক্ষমতা প্রদান করার পর থেকে নীরব এলাকা বাস্তবায়নে সমন্বিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। গত মাসে বিমানবন্দর এলাকায় এই সমন্বিত অভিযানের উদ্বোধন করা হয়েছে।

তিনি প্রত্যাশা ব্যক্ত করে বলেন, নির্বাচনের পরে যদি পুলিশ এবং পরিবেশ অধিদপ্তর একসাথে কাজ করে তাহলে শব্দদূষণের যে অত্যাচার সেটা থেকে আমরা হয়তো মুক্তি পেতে পারবো।

তিনি আরও বলেন, বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণ বিধিমালা, ২০২৫ জারি করেছে, এই বিধিমালা বাস্তবায়নের মাধ্যমে শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হবে। পরিবেশ উপদেষ্টা আরও বলেন, ঢাকার যেসব এলাকা নীরব এলাকা হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে, সেগুলো নির্বাচনের পর নতুন সরকার বাস্তবায়ন করবে। রিজওয়ানা হাসান বলেন, আইন কঠোরভাবে প্রয়োগ করা গেলে শব্দদূষণ এবং অপ্রয়োজনীয় হর্ন বাজানো অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে। অযথা হর্ন বাজানো শুধু বিরক্তিকর নয়, এটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. নুরুন নাহার, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মো. মাহমুদুল হাসান এনডিসি, বিআরটিএ এর চেয়ারম্যান আবু মমতাজ সাদ উদ্দিন আহমেদ, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ নাভিদ শফিউল্লাহ, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (অ্যাডমিন) মো. সরওয়ার, বিপিএম-সেবা, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) মো. আনিছুর রহমান, পরিবেশ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক মো. জিয়াউল হক এবং শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে সমন্বিত ও অংশীদারিত্বমূলক প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক ফরিদ আহমেদ। 
এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন, বিআরটিএ এবং পরিবেশ অধিদপ্তরের সিনিয়র কর্মকর্তারা।

সংক্ষিপ্ত আলাচনা শেষে পরিবেশ অধিদপ্তর, ডিএমপি, ডিএসসিসি, বিআরটিএ এই চার প্রতিষ্ঠানের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও প্রসিকিউটরের মাধ্যমে ঘোষিত নীরব এলাকার চারটি পয়েন্টে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়। ডিএমপির শতাধিক পুলিশ কর্মকর্তা, ট্রাফিক পুলিশের সহায়তাকারী (ট্যাগ) এবং পরিবেশবাদী সংগঠন গ্রীণ ভয়েসের ষাটজন ভলান্টিয়ারদের সহযোগিতায় মোবাইল কোর্ট পরিচালনা এবং জরিমানা করা হয়। শব্দদূষণের বিরুদ্ধে এই সমন্বিত অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে সংশ্লিষ্টজনেরা জানিয়েছেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত