আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে কুমিল্লায় নিরাপত্তা নিয়ে বিশেষ সতর্কতায় রয়েছে প্রশাসন। বিগত স্থানীয় সরকার ও জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংঘটিত সহিংসতার অভিজ্ঞতা বিবেচনায় নিয়ে জেলার প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ ভোটকেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
জেলা রিটার্নিং অফিসার কার্যালয় জানায়, কুমিল্লার ১১টি সংসদীয় আসনের ১৭টি উপজেলায় মোট এক হাজার ৪৯১টি ভোটকেন্দ্র রয়েছে। এর মধ্যে ৯৩৪টি কেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। সবচেয়ে বেশি উদ্বেগের বিষয় হলো কুমিল্লা-৩ (মুরাদনগর) ও কুমিল্লা-১১ (চৌদ্দগ্রাম) আসনের সব ভোটকেন্দ্রই ঝুঁকির আওতায় রয়েছে। দেবিদ্বার উপজেলায় ১১৬টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ৭০টি ঝুঁকিপূর্ণ। এই আসনে বিএনপির প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল হওয়ায় ভোটের মাঠে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন জোট ও গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থীর মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে।
এদিকে জেলার সবচেয়ে বেশি ভোটকেন্দ্র রয়েছে মুরাদনগর উপজেলায় ১৫৯টি। এই উপজেলার সব ভোটকেন্দ্রই ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। ফলে পুরো উপজেলাজুড়েই বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
এছাড়া মেঘনা উপজেলায় মোট ৩৮টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ১৭টি ঝুঁকিপূর্ণ। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মৌসুমী আক্তার জানান, নদীবেষ্টিত চালিভাঙ্গা ইউনিয়নের পাঁচটি ভোটকেন্দ্রে পুলিশ ও আনসারের পাশাপাশি সেনাবাহিনীর একটি দল দায়িত্ব পালন করবে।
প্রশাসনের ভাষ্য, ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে নজরদারি জোরদার করতে সিসি ক্যামেরা স্থাপনকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে ৫২৮টি কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা থাকলেও নতুন করে আরও ৮৪৮টি কেন্দ্রে ক্যামেরা বসানো হচ্ছে।
দেবিদ্বার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং অফিসার রাকিবুল হাসান বলেন, শান্তিপূর্ণ ভোট নিশ্চিত করতে ৯৮টি ভোটকেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয়ে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।
এ বিষয়ে সহকারী রিটার্নিং অফিসার নুরুল আমিন জানান, শতভাগ ভোটকেন্দ্র সিসি ক্যামেরার আওতায় আনা হচ্ছে।
এ বিষয়ে কুমিল্লা জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং অফিসার মু. রেজা হাসান বলেন, অতীতের সহিংসতার অভিজ্ঞতা থেকেই ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোর তালিকা করা হয়েছে। তবে জেলার সব ভোটকেন্দ্রেই শান্তিপূর্ণ ভোট গ্রহণের জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েন থাকবে।
