বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) বাংলাদেশে নিপাহ ভাইরাসে আক্রান্ত একজন রোগীর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। তবে সংস্থাটি জানিয়েছে, এ রোগের আন্তর্জাতিক বিস্তারের ঝুঁকি এখনও কম।
ডব্লিউএইচও জানায়, রাজশাহী বিভাগের নওগাঁ জেলার ৪০ থেকে ৫০ বছর বয়সী এক নারী গত জানুয়ারি হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর মারা যান। পরদিন পরীক্ষাগারে তার নিপাহ ভাইরাসে সংক্রমণ নিশ্চিত হয় এবং ৩ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ আনুষ্ঠানিকভাবে বিষয়টি ডব্লিউএইচওকে জানায়।
রোগীর ২১ জানুয়ারি জ্বর ও স্নায়বিক উপসর্গ দেখা দেয়। তার কোনো ভ্রমণের ইতিহাস না থাকলেও তিনি কাঁচা খেজুরের রস পান করেছিলেন, যা নিপাহ সংক্রমণের একটি পরিচিত উৎস। স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ এ পর্যন্ত তার সংস্পর্শে আসা ৩৫ জনকে পরীক্ষা করেছে, তবে নতুন কোনো সংক্রমণ পাওয়া যায়নি। এই ঘটনা ভারতের পশ্চিমবঙ্গে সাম্প্রতিক দুটি নিপাহ সংক্রমণ শনাক্তের পর সামনে এলো, যার ফলে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার কিছু দেশে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে ভ্রমণ বা বাণিজ্যিক নিষেধাজ্ঞার প্রয়োজন নেই বলে জানিয়েছে ডব্লিউএইচও।
সংস্থাটি বলেছে, 'নিপাহ ভাইরাসজনিত জনস্বাস্থ্য ঝুঁকি জাতীয়, আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক পর্যায়ে কম বলে মূল্যায়ন করা হয়েছে।' আন্তর্জাতিকভাবে রোগ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কাও কম বলে উল্লেখ করা হয়।
২০০১ সাল থেকে বাংলাদেশে নিপাহ ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় ৩৪৮টি, যার প্রায় অর্ধেকই কাঁচা খেজুরের রস পান করার সঙ্গে সম্পর্কিত। সাধারণত ডিসেম্বর থেকে এপ্রিল পর্যন্ত খেজুরের রস সংগ্রহ ও পান করার মৌসুমে নিপাহের প্রাদুর্ভাব দেখা যায়। নিপাহ ভাইরাসের বিরুদ্ধে বর্তমানে কোনো অনুমোদিত টিকা বা নির্দিষ্ট চিকিৎসা নেই। সংক্রমিতদের মধ্যে মৃত্যুহার ৪০ থেকে ৭৫ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে। ডব্লিউএইচও প্রধান টেড্রোস আধানম গেব্রেয়েসুস নিপাহকে একটি 'বিরল কিন্তু গুরুতর রোগ' হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, এর বিস্তার রোধে কর্তৃপক্ষ নজরদারি, পরীক্ষা ও জনসচেতনতা কার্যক্রম জোরদার করেছে।
