পরওয়ারের অভিযোগ

দাঁড়িপাল্লার বিজয় ঠেকাতে পানির মতো কালো টাকা ঢালা হচ্ছে

আপডেট : ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৮:১৫ পিএম

জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও খুলনা-৫ আসনে ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য সমর্থিত দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী মিয়া গোলাম পরওয়ার অভিযোগ করে বলেছেন, দাঁড়িপাল্লার বিজয় ঠেকাতে ব্যর্থ হয়ে একটি পক্ষ বিপুল পরিমাণ কালো টাকা ব্যবহার করে সহিংসতা ও নাশকতার পরিকল্পনা করছে। আবারও দাগী সন্ত্রাসীদের সক্রিয় করার চেষ্টা চলছে।

তিনি অভিযোগ করে আরও বলেন, টাকা ব্যয় করে চিহ্নিত দাগী পুরাতন সন্ত্রাসী যারা কারাগারে ছিল, যারা লুকিয়ে ছিল তাদের বাইরে আনা হচ্ছে। এসব সন্ত্রাসীদের একত্রিত করে অবৈধ অস্ত্রধারীদের সঙ্গে মিলিয়ে নির্বাচনের সময় কেন্দ্রভিত্তিক সহিংসতা ও নাশকতার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। লাখ লাখ টাকা দিয়ে বোমা তৈরি ও অস্ত্র সংগ্রহের পরিকল্পনার তথ্য তারা পাচ্ছেন। কালো টাকার যে স্রোত, পানির মতো ঢালা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

আজ শনিবার বিকেলে খুলনা জেলার ফুলতলা উপজেলা স্বাধীনতা চত্বরে অনুষ্ঠিত নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ সব কথা বলেন।

জনসভায় তিনি বলেন, ক্ষমতায় যাওয়ার আগেই একটি পক্ষ চাঁদাবাজি, দখলবাজি, সহিংসতা ও হত্যাকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েছে। দাঁড়িপাল্লার পক্ষে ভোট চাইতে গিয়ে নারী ভোটারদের হিজাব খুলে নেওয়ার হুমকি, শারীরিক নির্যাতন, সভা-মিটিংয়ে হামলা এবং পীর-মুরুব্বিদের হত্যার ঘটনাও ঘটেছে বলে দাবি করেন তিনি।

মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, যারা ক্ষমতায় যাওয়ার আগেই মায়েদের কাপড় খুলে দিতে চায়, তারা ক্ষমতায় গেলে গোটা জাতিকে বিবস্ত্র করে ফেলবে।

৫ আগস্টের পর আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় না থাকলেও দখলবাজি ও চাঁদাবাজি বন্ধ হয়নি উল্লেখ করে তিনি বিএনপির দিকে ইঙ্গিত করে বলেন, ক্ষমতায় যাওয়ার আগেই যদি খাল-বিল, মাঠ-ঘাট দখল করা হয়, তাহলে ক্ষমতায় গেলে মা-বোন, হিন্দু-মুসলিম কারও জানমাল নিরাপদ থাকবে না। এই পরিস্থিতিতে জনগণ ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

সরকারি কর্মচারীদের বেতন ও পে-স্কেল সংক্রান্ত আন্দোলনের বিষয়ে তিনি বলেন, এসব দাবি যুক্তিসঙ্গত হলেও নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এমন কোনও কর্মসূচি দেওয়া উচিত নয়, যাতে নির্বাচন-পূর্ব পরিস্থিতি অশান্ত হয়ে ওঠে। যেকোনও দাবি নিয়মতান্ত্রিকভাবে তোলা উচিত।

সরকারি কর্মচারীরা দেশপ্রেমিক নাগরিক ও ভোটার উল্লেখ করে তিনি বলেন, মাত্র কয়েক দিন পরই নির্বাচন এই সময়ে অস্থিরতা সৃষ্টি না করাই সমীচীন। নির্বাচনের পর রাজনৈতিক সরকারের মাধ্যমে এসব দাবি নিষ্পত্তি করা যেতে পারে বলেও মত দেন তিনি।

ফুলতলা-ডুমুরিয়ার ১৪টি ইউনিয়নে অভূতপূর্ব গণজাগরণের কথা তুলে ধরে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, নারী-পুরুষের পাশাপাশি সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষও দাঁড়িপাল্লার পক্ষে ভোট দেওয়ার ঘোষণা দিচ্ছেন। তিনি দাবি করেন, এই গণসমর্থন দেখে প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক শক্তির মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে, যার ফলেই হুমকি ও ভয়ভীতি ছড়ানো হচ্ছে।

দাঁড়িপাল্লা প্রতীককে ঘিরে বিভ্রান্তি ছড়ানোর অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে তিনি বলেন, ২০০১ সালে আমি এমপি ছিলাম। তখন দেশ পাকিস্তান হয়নি, হিন্দুদের শাখা-সিঁদুরও কেড়ে নেওয়া হয়নি। রাজনৈতিক পরাজয়ের ভয় থেকে মিথ্যাচার ছড়িয়ে এবার দাঁড়িপাল্লার জোয়ার থামানো যাবে না।

মিয়া গোলাম পরওয়ার ঘোষণা দেন, ১১ দলীয় ঐক্য বিজয়ী হলে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানকে প্রধানমন্ত্রী করে সরকার গঠন করা হবে। সেই সরকার দুর্নীতির বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করবে, দলীয়করণ বন্ধ করবে এবং সামাজিক সুবিচার প্রতিষ্ঠা করবে বলে তিনি অঙ্গীকার করেন।

তিনি বলেন, নির্বাচনী ইশতেহারের প্রতিশ্রুতির মধ্যে রয়েছে নৈতিকতাভিত্তিক শিক্ষা ব্যবস্থা, নারীদের মাস্টার্স পর্যন্ত বিনা খরচে শিক্ষা, ৬০ বছরের ঊর্ধ্বে নাগরিকদের ফ্রি চিকিৎসা, শিশু ও গর্ভবতী মায়েদের সরকারি চিকিৎসা, কৃষির আধুনিকায়ন, ব্যবসা-বাণিজ্যে ওয়ান-স্টপ সার্ভিস, সুদমুক্ত ও যাকাতভিত্তিক অর্থব্যবস্থা এবং বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ দেশে ফিরিয়ে আনা।

তিনি বলেন, নতুন বাংলাদেশে আইন-আদালত রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণমুক্ত হবে, ভিন্নমতের ওপর দমন-পীড়ন বন্ধ হবে এবং খুনি ও দুর্নীতিবাজদের আর রক্ষাকবচ দেওয়া হবে না।

নিজের রাজনৈতিক জীবনের প্রসঙ্গ তুলে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, এমপি থাকাকালে তিনি ৩৫০ কোটি টাকার উন্নয়নকাজ করেছেন এবং দুর্নীতির কোনও অভিযোগ তার বিরুদ্ধে প্রমাণিত হয়নি। বিল ডাকাতিয়ার জলাবদ্ধতা নিরসন ও কৃষি পুনরুজ্জীবন তার প্রধান অগ্রাধিকার বলেও তিনি জানান।

তিনি বলেন, ৫৪ বছরের রাজনৈতিক ব্যবস্থায় দেশ দুর্নীতি, চাঁদাবাজি, দখল বাণিজ্য, মামলা বাণিজ্য, ফ্যাসিবাদ ও বিচারহীনতার উপহার পেয়েছে। আমরা এই বাংলাদেশ পাল্টে নতুন বাংলাদেশ গড়তে চাই। নিজের রাজনৈতিক দর্শন তুলে ধরে, আমার বাড়ি সারা বাংলাদেশ। যেখানে প্রয়োজন, সেখানেই পৌঁছে যাওয়া আমার দায়িত্ব।

গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট চেয়ে তিনি বলেন, হ্যাঁ জিতলে বাংলাদেশ জিতবে। হ্যাঁ মানে আজাদি। আর না মানে গোলামি।

ফুলতলা উপজেলা আমীর অধ্যাপক আব্দুল আলিম মোল্লার সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি ছিলেন এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ, জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য খুলনা জেলা আমির মাওলানা এমরান হুসাইন, সেক্রেটারি মুন্সি মিজানুর রহমান, সহকারী সেক্রেটারি মুন্সি মঈনুল ইসলাম, মিয়া গোলাম কুদ্দুস ও অধ্যক্ষ গাউসুল আযম হাদী, মহানগরী সহকারী সেক্রেটারি আজিজুল ইসলাম ফারাজী ও জেলা কর্মপরিষদ সদস্য শেখ সিরাজুল ইসলাম প্রমুখ।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত