১২ ফেব্রুয়ারি হতে যাচ্ছে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন। গাইবান্ধার পাঁচটি সংসদীয় আসনের মধ্যে পলাশবাড়ী-সাদুল্লাপুর দুই উপজেলা নিয়ে গাইবান্ধা-৩ আসন। এ আসনে ১০ প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এর মধ্যে ভিন্নধর্মী প্রচারে ভোটারদের দৃষ্টি কেড়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী আজিজার রহমান।
এই আসনে বিএনপি, জামায়াত, জাতীয় পার্টিসহ অন্য প্রার্থীরা দলবল নিয়ে প্রচার চালাচ্ছেন, মোটরসাইকেল শোভাযাত্রা করছেন। মঞ্চ সাজিয়ে শত শত কর্মী-সমর্থক নিয়ে নির্বাচনী সভা-সমাবেশ করছেন। কিন্তু স্বতন্ত্র প্রার্থী আজিজার রহমানের প্রচারের কৌশল ভিন্ন।
গত শুক্রবার বেলা ২টা থেকে সাড়ে ৩টা পর্যন্ত আজিজার রহমান পলাশবাড়ী উপজেলার ঘোড়াবান্ধা চৌরাস্তা বাজার, পবনাপুর, ফকিরহাট, আমলাগাছি, সমিতির বাজার, গোডাউন বাজার, আমতলী, সাদুল্লাপুর উপজেলার ঝাউলার বাজার, বৈরাগীর বাজার, বদলাগাড়ী মোড়, ইদ্রাকপুর বাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় প্রচার চালান।
তার সঙ্গে ঘুরে দেখা গেছে, আজিজারের পুরনো একটি সাইকেলের সামনে মাইক বাঁধা। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত সাইকেলে করেই ভোটারদের দ্বারে দ্বারে ঘুরে হ্যান্ডমাইকে ভোট চাইছেন। গ্রাম থেকে গ্রামে ছুটে বেড়াচ্ছেন। রাস্তায় সাইকেল চলমান অবস্থায় তিনি এক হাতে হ্যান্ডেল ধরে রাখছেন, আরেক হাতে হ্যান্ডমাইক ধরে কথা বলছেন। তাকে মাইকে বলতে শোনা যায়, ‘ও চাচি, ও খালা, ও আপা, ও দাদি, ও আন্টি, ও চাচা, ও অটোচালক ভাই, কৃষক ভাই, ও ভাতিজা আমার ঢেঁকি মার্কায় একটি করে ভোট দিন। নির্বাচিত হলে আমি বেকার সমস্যা সমাধান করব। সংসদে গিয়ে আপনাদের সমস্যার কথা বলব। আমি আপনাদের আজিজার বিএসসি।’
আজিজার কখনো রাস্তার মোড়ে মোড়ে, কখনো হাটে-বাজারে বক্তব্য দিচ্ছেন। তাকে দেখে লোকজন জমায়েত হচ্ছেন। আজিজার পরিবর্তনের জন্য নিজের ঢেঁকি প্রতীকে ভোট চাইছেন। দোয়া করতে বলছেন। বক্তব্য শেষে নারী ও বৃদ্ধ ভোটাররা তার মাথা বুলিয়ে দোয়া করছেন। সালাম দিয়ে অনেক ভোটারের সঙ্গে তিনি কোলাকুলি করেন। এসব জায়গায় লোক জমায়েত করে তিনি বলছেন, ‘সবাই লাখ লাখ টাকা খরচ করছেন। কিন্তু আমার সাইকেলে পেট্রোল খরচ হয় না। তাই আমি একাই সাইকেলে নিজের প্রচার চালাচ্ছি। আমার কোনো কর্মীবাহিনী নেই। আপনারাই আমার কর্মী। আমার নির্বাচনী খরচ নেই। যারা টাকা দিয়ে ভোট কিনছেন, তারা নির্বাচিত হলে তো অনিয়ম-দুর্নীতি করে নিজের টাকা আগে তুলবেন। আমার ক্ষেত্রে তা হবে না। বিদেশেও যাব না।’
আজিজার রহমান বলেন, ‘আমি পরিবারের কাছ থেকে মাত্র ১০ হাজার টাকা নিয়ে প্রচার চালিয়ে যাচ্ছি। এ পর্যন্ত প্রায় ৭ থেকে ৮ হাজার টাকা ব্যয় হয়েছে। ভোটারদের কাছেও সাড়া পাচ্ছি, ভোটাররা পরিবর্তন চাইছেন। তারা ঢেঁকি প্রতীকে ভোট দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন।’
এর আগে আজিজার ১৯৯৭ ও ২০০৩ সালে সাদুল্লাপুর উপজেলার ভাতগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে হেরে যান। তিনি ২০১৯ সালে সাদুল্লাপুর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে ও ২০২৪ সালে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে হেরে যান। কিন্তু এবার জয়ের ব্যাপারে তিনি আশাবাদী।
আজিজার রহমানের বাড়ি সাদুল্লাপুর উপজেলার ভাতগ্রাম ইউনিয়নের খোদা বকস গ্রামে। নির্বাচন কমিশনে দাখিল করা হলফনামা অনুযায়ী তার বয়স ৫৭ বছর এবং শিক্ষাগত যোগ্যতা বিএসসি। তিনি সাদুল্লাপুরের দড়ি জামালপুর রোকেয়া সামাদ দ্বিমুখী বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ে শিক্ষক পদে কর্মরত। তার স্ত্রী সালমা বেগম গৃহিণী। সম্পদ বলতে বসতভিটাসহ তিন বিঘা জমির মালিক তিনি।
