বন্দরের ধর্মঘটের বিষয়ে কঠোর হবে সরকার

আপডেট : ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৭:৩৪ এএম

চট্টগ্রাম বন্দরের ধর্মঘট চলতে দেওয়া যায় না বলে মন্তব্য করেছেন নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন। তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে সরকার কঠোর অবস্থানে যাবে।’ গতকাল রবিবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে উপদেষ্টা এসব কথা জানান।

বিদেশি কোম্পানির কাছে বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) ইজারা দেওয়ার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে এবং সুনির্দিষ্ট চার দফা দাবিতে বন্দরে অনির্দিষ্টকালের জন্য শুরু হয়েছে শ্রমিক ধর্মঘট। গতকাল সকাল ৮টা থেকে এ ধর্মঘট শুরু হয়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপদেষ্টা সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘কিছু লোক পুরো বন্দরকে জিম্মি করার চেষ্টা করছে। কয়েক দিন পরে রোজা। এ সময় প্রতিনিয়ত নদীতে অভিযান চলছে। বহির্নোঙরে পড়ে আছে ছোলা, ডাল ও তেল। ১৮ কোটি মানুষকে তারা জিম্মি করেছে। এটা চলতে দেওয়া যায় না। তিনি বলেন, সরকার কঠোর অবস্থানে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এরই মধ্যে কয়েকজনকে ধরা হয়েছে, বাকিদেরও ধরা হবে।

তবে চট্টগ্রামে বন্দর ভবনের সামনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বন্দরের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এম মনিরুজ্জামান দাবি করেন, সেখানকার অবস্থা স্বাভাবিক, শ্রমিক-কর্মচারীরা কাজে যোগ দিয়েছেন। এর মধ্যে কেউ বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করলে তাদের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আইনি ব্যবস্থা নেবে। এর আগে তিনি সকাল ১০টা থেকে কর্মকর্তা ও শ্রমিক-কর্মচারীদের সঙ্গে দুই ঘণ্টা রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেছেন।

এ সময় তিনি বলেন, রমজান সামনে রেখে একটি পক্ষ সংকট তৈরি করার চেষ্টা করছে। এতে বাজারে দ্রব্যমূল্যের প্রভাব পড়তে পারে।

নৌপরিবহন উপদেষ্টা সাখাওয়াত বলেন, ‘আর কয়েক দিন পরে নির্বাচন, ওই আসনে (চট্টগ্রাম বন্দর এলাকায়) তারা একটা গ-গোল সৃষ্টি করতে চাচ্ছেন। আমি প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে অনুরোধ করেছি। কারণ সেখানে যদি নির্বাচন ঠিকমতো না হয়, সারা দেশের নির্বাচন নিয়ে কথা উঠবে। এ সরকার অত্যন্ত স্পষ্ট, আমরা কোনো ধরনের নির্বাচন মনিটরিং বা এ রকম কোনো কিছু করছি না। নির্বাচন অবশ্যই অবাধ এবং সুষ্ঠু হতে হবে।’ তিনি বলেন, ‘যদি কেউ বন্দর চালু রাখার বিরুদ্ধে প্রত্যক্ষভাবে ও পরোক্ষভাবে কোনো কিছু করে, তাহলে তাকে ধরা হবে। আমরা কঠোর অবস্থান নিয়েছি।’

চট্টগ্রাম বন্দরের বর্তমান অবস্থার বিষয়ে জানতে চাইলে উপদেষ্টা বলেন, ‘পোর্ট চালু নেই পোর্ট চালু হবে। ১৮ কোটি মানুষকে জিম্মি রাখা যায় না। তাদের দাবিগুলো খুবই তুচ্ছ অমুককে সরাতে হবে, তমুককে নিয়ে আসতে হবে। এটা করতে হবে, ওটা করতে হবে। ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। এসব কী?’

ডিপি ওয়ার্ল্ডের চুক্তির বিষয়ে তিনি বলেন, ‘ডিপি ওয়ার্ল্ডের বিষয়টি অত্যন্ত পরিষ্কার। এ বিষয়টি এখনো চলমান, তারা একটি চিঠি প্রধান উপদেষ্টাকে দিয়েছেন। তারা আরও সময় চায়। আমরা যে জায়গায় আছি, সেখানে আসতে তাদের আরও সময় প্রয়োজন। আলোচনা চলবে। প্রয়োজন হলে নির্বাচনের পরও আলোচনা চলবে।’

এদিকে এনসিটি পরিচালনা নিয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে বর্তমান সরকারের আমলে কোনো চুক্তি হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) কর্তৃপক্ষের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন। গতকাল বিকেলে রাজধানীর বেইলি রোডে ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা বলেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত