বিএনপি-জামায়াত সংঘর্ষে নারীসহ আহত শতাধিক

আপডেট : ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৭:৩৭ এএম

নির্বাচনের বাকি দুদিন। আর রাজনৈতিক দলগুলোর নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হচ্ছে আগামীকাল। এখনো দেশের বিভিন্ন স্থানে বিএনপির মিত্র জামায়াতের সঙ্গে দলটির নেতাকর্মীরা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ছেন। গতকাল রবিবারও টাঙ্গাইল-৪ ও পটুয়াখালী-২ এ জামায়াতের নারীকর্মীদের ওপর হামলা চালিয়েছে বিএনপির নেতাকর্মীরা। এসব ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বিশেষ অভিযান চালিয়ে কয়েকজনকে আটক করেছে। পরে দুই পক্ষই সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েছে। এ ছাড়া টাঙ্গাইল-৪ (কালিহাতী) আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী সমর্থকদের ওপরে হামলা করেছে বিএনপির নেতাকর্মীরা বলে অভিযোগ করেছে স্বতন্ত্র প্রার্থী আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী। এসব সংঘর্ষে জামায়াতের নারীকর্মীসহ বিএনপির শতাধিক নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। নির্বাচনী সহিংসতায় আহতদের স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

টাঙ্গাইল : টাঙ্গাইল-৪ (কালিহাতী) আসনে নির্বাচনী প্রচারকে কেন্দ্র করে বিএনপির কর্মীদের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে স্বতন্ত্র প্রার্থী আব্দুল লতিফ সিদ্দিকীর সমর্থকদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় বিএনপির অন্তত পাঁচ নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। ঘটনার প্রতিবাদে রাতেই কালিহাতীতে বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের উদ্যোগে বিক্ষোভ মিছিল হয়েছে। পুলিশ এ ঘটনায় একজনকে আটক করেছে।

হামলায় আহতরা হলেন, নারান্দিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও ধানের শীষ প্রতীকের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আলাউদ্দিন আল আজাদ, পালিমা গ্রামের নজরুল ইসলাম, কামাল, কাজিম উদ্দিন ও আব্দুল কুদ্দুস।

স্বতন্ত্র প্রার্থী আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী গত রবিবার দুপুরে ঘটনাস্থল লুহুরিয়া গিয়ে তার হাঁস প্রতীক সমর্থকদের ওপর হামলা করেছেন বলে দাবি করেন। তিনি বলেন, নির্বাচনী প্রচার শেষ করে ফেরার পথে বিএনপির নেতাকর্মীরা অতর্কিত হামলা চালায়। এ ঘটনায় পুলিশ আমার এক সমর্থককে আটক করেছে। প্রশাসন একপেশে আচরণ করছে বলেও অভিযোগ তোলেন তিনি।

বিএনপির নেতাকর্মীরা জানান, রাতে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী লুৎফর রহমান মতিনের কর্মীরা লুহুরিয়া বাজার এলাকায় প্রচার ও লিফলেট বিতরণ শেষে বিএনপির কার্যালয়ে অবস্থান করছিলেন। এ সময় হঠাৎ করে স্বতন্ত্র (হাঁস) প্রতীকের প্রার্থী আব্দুল লতিফ সিদ্দিকীর অনুসারীরা অতর্কিত হামলা চালায়। এতে কয়েক নেতাকর্মী আহত হন। ঘটনার প্রতিবাদে কালিহাতী উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের উদ্যোগে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করে। মিছিলটি কালিহাতী থানা এলাকা থেকে শুরু হয়ে বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে থানার সামনে গিয়ে শেষ হয়। এ সময় বিক্ষোভকারীরা হামলার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

বিএনপির প্রার্থী লুৎফর রহমান মতিন বলেন, ‘শান্তিপূর্ণভাবে নির্বাচনী কার্যক্রম চালাতে চাই। পরিকল্পিতভাবে কর্মীদের ওপর হামলা হয়েছে। বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে থানায় জানানো হয়েছে। সুষ্ঠু ও স্বাভাবিক নির্বাচনী পরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ চাই। এ ঘটনায় রাতেই বিএনপির পক্ষ থেকে থানায় অভিযোগ দেওয়া হলে পুলিশ অভিযান চালিয়ে আব্দুল মজিদ (৩৫) নামে একজনকে আটক করে।

এ বিষয়ে কালিহাতী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জে ও এম তৌফিক আজম বলেন, হামলার ঘটনায় অভিযোগ পেয়েছি। একজনকে আটক করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

পটুয়াখালী : পটুয়াখালী-২ (বাউফল) আসনের বাউফল উপজেলার বিচ্ছিন্ন চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নে নির্বাচনী প্রচার কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াতের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। গতকাল রবিবার দুপুরে ইউনিয়নের ভা-ারিয়া বাজার এলাকায় এ সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের চন্দ্রদ্বীপ থেকে ট্রলারযোগে বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। তাদের মধ্যে জামাল মৃধা (৪৮) নামে একজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল (শেবাচিম)-এ পাঠানো হয়েছে। জামাল মৃধা জামায়াতের সমর্থক বলে দলীয় সূত্রে দাবি করা হয়েছে।

গুরুতর আহতদের মধ্যে রয়েছেন, মো. জুয়েল, মো. নয়ন, লিমা জাহান, মো. শাহজালাল, মো. সুজন, শহিদুল বেপারি, হাফেজ আনিসুর রহমান, আমিনুল মাতুব্বর, নুরু মাতুব্বর, সাইফুল শরিফ, আল আমিন চৌকিদার ও মো. সোহাগ। তাদেরসহ ২৪ জন বর্তমানে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, জামায়াতের নারীকর্মীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের পক্ষে প্রচার চালান। এ সময় বিএনপির কর্মীরা তাদের বিরুদ্ধে ভোটারদের টাকা দেওয়ার অভিযোগ তুলে বাধা দেন। এর জেরে উভয় পক্ষের নেতাকর্মীরা ঘটনাস্থলে জড়ো হলে সংঘর্ষ শুরু হয়। প্রায় ৩০ মিনিট ধরে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার মধ্যে সংঘর্ষ চলে। ঘটনার পর পুরো চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

এদিকে জামায়াতের নেতাকর্মীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে বাউফল পৌর শহরের হাসপাতাল সড়কে জামায়াত একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করে। মিছিলটি জনতা ভবনের সামনে ঘুরে হাসপাতালের কাছে পৌঁছলে এক বিএনপি সমর্থককে মারধরের অভিযোগ ওঠে। এতে উভয় পক্ষের মধ্যে আবারও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। পরে জামায়াতের কর্মী-সমর্থকরা বাউফল থানার ওসি সিদ্দিকুর রহমানের বদলির দাবিতে থানার সামনে বরিশাল-বাউফল সড়ক অবরোধ করে। এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত সন্ধ্যা পৌনে ৭টা পর্যন্ত অবরোধ চলছিল।

উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি খালিদুর রহমান অভিযোগ করে বলেন, বাউফল থানার ওসি নিরপেক্ষতা হারিয়েছেন। তার ইন্ধনেই জামায়াতের কর্মীরা একের পর এক হামলার শিকার হচ্ছে। তার বদলির দাবিতে অনড়।

এ বিষয়ে জামায়েতে ইসলামীর প্রার্থী ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ বলেন, দলীয় নেতা-কর্মীদের মিছিলে হামলা করে বিএনপি। এতে প্রায় অর্ধশত নেতা-কর্মীকে কুপিয়ে আহত করা হয়েছে। টাকা লেনদেনের বিষয় প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, সেখানে টাকার লেনদেনের কোনো বিষয় ছিল না। এটি একদম মিথ্যে, বানোয়াট ও তাদের সাজানো নাটক।

এ বিষয়ে উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আপেল মাহমুদ ফিরোজের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি অসুস্থতার কথা বলে ফোন সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেন।

তবে বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সিদ্দিকুর রহমান অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘পুলিশের বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ মিথ্যা। শতভাগ নিরপেক্ষ থেকে দায়িত্ব পালন করছি। চন্দ্রদ্বীপসহ উপজেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত