সিলেটের বিশ্বনাথে নির্বাচনী মিছিলে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেলেন বিএনপি নেতা। মারা যাওয়া সুহেল আহমদ চৌধুরী (৫৫) বিশ্বনাথ উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও সিলেট জেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি। গতকাল সোমবার বিকেলে এ ঘটনা ঘটে। এদিকে টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনে হরিণ প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থীর মিছিলে অসুস্থ হয়ে আরও দুজনের মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া লক্ষ্মীপুর-৩ আসনে বিএনপি-জামায়াতের নির্বাচনী মিছিলে আবদুস সহিদ (৪৮) ও ওবায়দুল হক (৫০) নামে দুজন মারা যান। স্থানীয় বিএনপির বরাতে সিলেট থেকে আমাদের নিজস্ব প্রতিবেদক জানান, সিলেট-২ (বিশ্বনাথ-ওসমানীনগর) আসনের বিএনপির প্রার্থী তাহসিনা রুশদীর লুনার নির্বাচনী জনসভা ছিল গতকাল বিকেলে। বিশ্বনাথ নতুন বাজারে অনুষ্ঠিত ওই সভায় যোগদানের জন্য সুহেল আহমদ চৌধুরী নেতাকর্মীদের নিয়ে মিছিল সহকারে যাচ্ছিলেন। সভাস্থলের অদূরে তিনি হঠাৎ অজ্ঞান হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।
জেলা বিএনপির সহদপ্তর সম্পাদক মাহবুব আলম এক ফেসবুক পোস্টে জানান, হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়া সুহেল আহমদ চৌধুরীকে নেতাকর্মীরা দ্রুত স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এদিকে টাঙ্গাইল প্রতিনিধি জানান, গতকাল দুপুরে শহরের টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনে হরিণ প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থীর নির্বাচনী আখেরি মিছিলে অসুস্থ হয়ে দুই সমর্থকের মৃত্যু হয়েছে। তাদের একজন টাঙ্গাইল সদর উপজেলার ছিলিমপুর ইউনিয়নের চরপাকুল্লা দক্ষিণপাড়া গ্রামের জোনাব আলী। অন্যজন একই উপজেলার ছোনাট গ্রামের জিয়াউর রহমান।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গতকাল শহীদ স্মৃতি পৌর উদ্যানে হরিণ প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী ফরহাদ ইকবালের শেষ মিছিল ও জনসভা হয়। জোনাব আলী ও জিয়াউর রহমান জনসভা ও মিছিলে যোগ দিয়ে উচ্চৈঃস্বরে সেøাগান দিচ্ছিলেন। সেখানে প্রথমে জোনাব আলী অসুস্থ হয়ে পড়েন। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে জেনারেল হাসপাতালে পাঠালে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। অন্যদিকে একই মিছিল সাবালিয়া এলাকা অতিক্রমকালে জিয়াউর রহমান সেখানে অসুস্থ হয়ে পড়েন। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে জেনারেল হাসপাতালে পাঠালে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। জিয়াউর রহমানের হার্টে সমস্যা ও ডায়াবেটিকস ছিল।
হরিণ প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী ফরহাদ ইকবাল জানান, গতকাল তার গণমিছিল ছিল। সেখানে উপজেলার প্রত্যেক এলাকা থেকে লোকজন এসেছিলেন। মিছিল চলাকালে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে তার দুই কর্মী মৃত্যুবরণ করেছেন। তাদের পরিবারের প্রতি তিনি গভীর শোক ও সমবেদনা প্রকাশ করেছেন।
অন্যদিকে লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি জানান, লক্ষ্মীপুর-৩ আসনে গতকাল বিএনপি-জামায়াতের নির্বাচনী মিছিলে আবদুস সহিদ ও ওবায়দুল হক নামে দুজন মারা গেছেন। লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা (আরএমও) অরূপ পাল তাদের মৃত্যুর বিষয় নিশ্চিত করেছেন।
মৃত আবদুস সহিদ জামায়াতের ও ওবায়দুল হক বিএনপির কর্মী বলে জানা গেছে। সহিদ লক্ষ্মীপুর পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তর বাঞ্ছানগর এলাকার বাসিন্দা ও ওবায়দুল একই এলাকার আব্দুল মুনাফের ছেলে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও হাসপাতাল সূত্র জানায়, বিকেলে জেলা শহরে জামায়াতের প্রার্থী রেজাউল করিমের সমর্থনে গণমিছিল বের হয়। হঠাৎ আবদুস সহিদ অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। আর সন্ধ্যায় একই আসনের বিএনপির প্রার্থী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানির গণমিছিল বের হয়। এতে ওবায়দুল হক অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে তাকে হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
