নির্বাচনী পরিবেশ অত্যন্ত ইতিবাচক আশাব্যঞ্জক

আপডেট : ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৮:০৮ এএম

ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশন (ইইউ ইওএম) বাংলাদেশে আগামীকাল বৃহস্পতিবারের জাতীয় নির্বাচনের আগে নির্বাচনী পরিবেশকে অত্যন্ত ইতিবাচক ও আশাব্যঞ্জক বলে বর্ণনা করেছে।

দেশের ৬৪ জেলায় ৯০ জন স্বল্পমেয়াদি পর্যবেক্ষক মোতায়েনের আগে মিশনের প্রধান পর্যবেক্ষক ইভারস ইজাবস গতকাল মঙ্গলবার ঢাকায় হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘আমরা দেশের সব জেলা ও অঞ্চলের প্রার্থী এবং কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলেছি। সামগ্রিক পরিবেশ খুবই ইতিবাচক এবং আশাব্যঞ্জক।’

তিনি বলেন, স্বল্পমেয়াদি পর্যবেক্ষকরা ভোটকেন্দ্র খোলা থেকে শুরু করে ভোটগ্রহণ, ভোটগ্রহণ বন্ধ হওয়া, ব্যালট গণনা ও ফলাফল তালিকাভুক্তির পুরো প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করবেন। তাদের করা পর্যবেক্ষণ ও প্রতিবেদন এ নির্বাচনের নিরপেক্ষ ও তথ্যভিত্তিক মূল্যায়নের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হবে।

ইইউ মিশন একটি বিশ^াসযোগ্য ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন দেখার প্রত্যাশায় আছে জানিয়ে তিনি বলেন, গণতন্ত্র, রাজনৈতিক ক্ষমতার জবাবদিহি ও আইনের শাসনের মতো অভিন্ন নীতির ভিত্তিতেই বাংলাদেশে তাদের পর্যবেক্ষণ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। বাংলাদেশে যার সঙ্গেই কথা হয়েছে তাদের প্রায় সবাই মনে করেন, এবারের নির্বাচন দেশের ইতিহাস ও গণতন্ত্রের জন্য নতুন একটি অধ্যায় হওয়া উচিত।

ইভারস ইজাবস বলেন, মিশনের নির্বাচন পর্যবেক্ষণের মূল নীতি হবে বস্তুনিষ্ঠতা, নিরপেক্ষতা ও শ্রদ্ধা। মিশনের সদস্যরা এ নীতি মেনে চলবে। মিশন সহিংসতার কোনো ঘটনা শনাক্ত করেছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, তাদের দল পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। তবে ১৪ ফেব্রুয়ারি তাদের অন্তর্বর্তীকালীন প্রতিবেদন প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত কোনো মন্তব্য করা হবে না।

সম্ভাব্য ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্র সম্পর্কে এক প্রশ্নের জবাবে ইভারস ইজাবস বলেন, এ বিষয়ে আইনপ্রয়োগকারী সংস্থা ও সেনাবাহিনীর সঙ্গে কথা হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ ও কম ঝুঁকিপূর্ণ কিছু জেলা থাকলেও মিশনের সামগ্রিক ধারণা হলো পরিস্থিতি সরকারি কর্তৃপক্ষের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

নিরাপত্তার বিষয়ে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উদ্বেগের বিষয়ে তিনি বলেন, অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচন অনুষ্ঠানের দৃষ্টিকোণ থেকে মিশন এমন উদ্বেগের দিকগুলো গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। তিনি মনে করেন, ভোটদানের ক্ষেত্রে নারী ও সংখ্যালঘু সব সম্প্রদায়ের অংশগ্রহণ থাকা দরকার। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার-প্রচারণার ওপরও মিশনের নজর আছে, এমনটিও জানান।

ইইউর তথ্য অনুযায়ী, স্বল্পমেয়াদি পর্যবেক্ষক নিয়োগের আগে ইইউ মিশনের ৫৬ জন দীর্ঘমেয়াদি পর্যবেক্ষক কাজ শুরু করেন, যারা গত জানুয়ারির মাঝামাঝি থেকে বাংলাদেশে অবস্থান করছেন। যারা নির্বাচন-প্রশাসনের প্রস্তুতি, প্রচার ও ভোটার সচেতনতামূলক উদ্যোগসহ নির্বাচন-পূর্ববর্তী পরিবেশ পর্যবেক্ষণ করেন।

ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সদস্যদের একটি প্রতিনিধিদলও পর্যবেক্ষণ মিশনে যুক্ত রয়েছে। এর বাইরে ঢাকায় ইইউ সদস্য রাষ্ট্রগুলো, কানাডা, নরওয়ে ও সুইজারল্যান্ডের কূটনৈতিক মিশন থেকেও ৩৫ জন নির্বাচন পর্যবেক্ষণে যুক্ত রয়েছেন। সব মিলিয়ে ইইউ ইওএমের আওতায় প্রায় ২০০ ব্যক্তি নির্বাচন পর্যবেক্ষণে যুক্ত থাকছেন।

ইভারস ইজাবস বলেন, নির্বাচনের দুই মাস পর একটি বিস্তৃত চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করা হবে, যেখানে বিভিন্ন বিষয়ে সুপারিশ অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

ইইউ মিশন, কমনওয়েলথ, ইন্টারন্যাশনাল রিপাবলিকান ইনস্টিটিউট, জাপান ও তুরস্কের পর্যবেক্ষকরা আলাদাভাবে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।

নির্বাচনে জড়িত দল, প্রার্থী ও সরকারি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলা ছাড়াও বিদেশি পর্যবেক্ষকরা অন্য দেশি-বিদেশি পর্যবেক্ষণ দলের সঙ্গেও মতবিনিময় করছেন। এর অংশ হিসেবে ইইউ ইওএম গতকাল এশিয়ান নেটওয়ার্ক ফর ফ্রি ইলেকশনের একটি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠক করেছে। সেখানে নির্বাচনের প্রস্তুতি, নির্বাচন-পূর্ব পরিস্থিতি, নারীদের ভূমিকাসহ পুরো নির্বাচনী প্রক্রিয়া নিয়ে তারা মতবিনিময় করে।

এর বাইরে কমনওয়েলথ পর্যবেক্ষক দল জাতীয় নির্বাচন ও গণভোটের বিভিন্ন আইনি দিক সম্পর্কে ধারণা নিতে গতকাল প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী ও আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুলের সঙ্গে মতবিনিময় করে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত