‘রাজবাড়ীতে ভোটকেন্দ্র সংস্কারে ভয়াবহ অনিয়ম’ শিরোনামে দৈনিক দেশ রূপান্তর পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশের পর দুই সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. তবিবুর রহমান এই বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তবে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দিষ্ট তারিখ উল্লেখ হয়নি বলে জানিয়েছেন তিনি।
তদন্ত কমিটিতে আহ্বায়ক হিসেবে রয়েছেন জেলা প্রাথমিক সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা মো. জামাল উদ্দীন খান ও সদস্য সহকারী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মোস্তাফিজুর রহমান।
মো. জামাল উদ্দীন খান বলেন, তদন্ত কমিটির সংক্রান্ত একটি চিঠি আমি হাতে পেয়েছি। সকল প্রাসঙ্গিক বিধি বিধান অনুসরণপূর্বক জরুরি ভিত্তিতে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে।
এ বিষয়ে বালিয়াকান্দি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা চৌধুরী মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, ভোট কেন্দ্র সংস্কার খাতে বরাদ্দপত্রে কাজ তদারকির বিষয়ে নির্দেশনা থাকায় তিন সদস্যের তদারকি কমিটি গঠন করে দেওয়া হয়েছে। তারা প্রতিটি বিদ্যালয়ে গিয়ে যাচাই-বাছাই করছেন। যাচাইয়ের পর যেন বিল ছাড় হয় সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
৮ ফেব্রুয়ারি দেশ রূপান্তর পত্রিকার অনলাইনে ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে ভোটকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর সংস্কার ও মেরামতের জন্য এ অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হলেও বাস্তবে অধিকাংশ বিদ্যালয়ে কোনো কাজই হয়নি বলে অনুসন্ধানে উঠে এসেছে।
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর জানায়, প্রথম ধাপে সারা দেশের ১২ হাজার ৫৩১টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জন্য ৪১ কোটি ১২ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। দ্বিতীয় ধাপে একই বিদ্যালয়গুলোতে দ্বিগুণ বরাদ্দ দিয়ে আরও ৮২ কোটি ২৩ লাখ ৫২ হাজার ৬৪২ টাকা দেওয়া হয়। এর অংশ হিসেবে জেলার ১৩৫ বিদ্যালয়ের কেন্দ্র মেরামতের জন্য দুই ধাপে ১ কোটি ১ লাখ ৫৫ হাজার ২৭ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। এর মধ্যে প্রথম ধাপে ৩৩ লাখ ৮৫ হাজার ৯ টাকা এবং দ্বিতীয় ধাপে ৬৭ লাখ ৭০ হাজার ১৮ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়।
বালিয়াকান্দিতে ৩২টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অনুকূলে প্রথম ধাপে ৯ লাখ ৪৬ হাজার ৬৬৪ টাকা এবং দ্বিতীয় ধাপে একই বিদ্যালয়গুলোতে আরও দ্বিগুণ বাড়িয়ে ১৮ লাখ ৯৩ হাজার ৩৩৬ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। দুই ধাপে মোট বরাদ্দের পরিমাণ দাঁড়ায় ২৮ লাখ ৪০ হাজার টাকা। গড়ে প্রতিটি বিদ্যালয় ৪০ হাজার থেকে দেড় লাখ টাকা পর্যন্ত বরাদ্দ পায়।
বরাদ্দের শর্ত অনুযায়ী বিদ্যালয় ভবনের ক্ষতিগ্রস্ত কক্ষ, দরজা-জানালা, বেঞ্চ-ডেস্ক, স্যানিটেশন ব্যবস্থা এবং বিদ্যুৎ ও পানির লাইনের জরুরি সংস্কার করার কথা থাকলেও অনুসন্ধানে এর বিপরীত চিত্র দেখা গেছে।
