শেষ মুহূর্তেও নজর আ.লীগের ভোটে

আপডেট : ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৭:৫২ এএম

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে বড় ফ্যাক্টর হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের ভোটব্যাংক। ভোটের মাঠে থাকা সব দলের প্রার্থীরা শেষ মুহূর্তেও কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা দলটির এই ভোটব্যাংক নিজেদের পক্ষে টানার সব চেষ্টায় ব্যস্ত ছিলেন। দলটির ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাসহ সব চাওয়া পূরণের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। এমনকি অনেক প্রার্থীর কাছে নিজেদের কর্মী-সমর্থকের চেয়েও বেশি গুরুত্ব পেয়েছেন আওয়ামী লীগ সমর্থকরা। তবে এরপরও আওয়ামী লীগের বেশিরভাগ ভোটার কেন্দ্রে যাবেন না বলে দাবি করছেন দলটির শীর্ষ নেতারা।

ভোটের আগের দিন গতকাল বুধবার বেলা সাড়ে ৩টার দিকে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের শীর্ষ এক নেতা দেশ রূপান্তরকে বলেন, আওয়ামী লীগের যারাই ভোটকেন্দ্রে যাবেন, তাদের বিএনপিকে বেছে নেওয়া উচিত হবে। এ ছাড়া সামাজিক সম্পর্কের কারণে ভোটগুলো বিভিন্ন দলের প্রতীকে পড়তে পারে।  

বিভিন্ন এলাকায় খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিএনপি-জামায়াতসহ নির্বাচনে অংশ নেওয়া সব দলের প্রার্থীরাই শেষ বেলায় আওয়ামী লীগ সমর্থক হিসেবে পরিচিতদের বাড়িতে বাড়িতে গিয়েছেন। ভোট নিশ্চিত করতে অর্থ দেওয়ার ঘটনাও ঘটছে। গভীর রাতে স্থানীয় পর্যায়ের আওয়ামী লীগের প্রভাবশালীদের সঙ্গে হয়েছে গোপন মিটিং। আত্মগোপনে থাকা অনেক নেতার সঙ্গে আলোচনা হয়েছে অনলাইনে।

আওয়ামী লীগের বেশ কয়েকজন নেতা গত মঙ্গল ও বুধবার দাবি করেন, তারা বিদেশে থাকলেও ভোট কেন্দ্র করে বিএনপি-জামায়াতের প্রার্থী, ঘনিষ্ঠজন এবং আত্মীয়স্বজনের ফোন পাচ্ছেন। ভোট দেওয়ার বিনিময়ে নানা আশ্বাস দিচ্ছেন বিভিন্ন দলের প্রার্থীরা।

এরপরও ভোট বর্জনের সিদ্ধান্তের কারণে আওয়ামী লীগের সর্বোচ্চ ৫ থেকে ১০ শতাংশ ভোটার কেন্দ্রে যেতে পারেন বলে দাবি করছেন দলের নেতারা। তারা জানান, নির্বাচনে অংশগ্রহণ করা দলগুলোর প্রার্থীরা যতই আশ্বাস বা চাপ দিন না কেন, আওয়ামী লীগের সমর্থকদের মধ্যে ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার আগ্রহ তেমন নেই।

দলটির শীর্ষ দুই নেতা দেশ রূপান্তরকে বলেন, আওয়ামী লীগের যারা কেন্দ্রে যাবেন, তাদের ভোট সব দলের বাক্সেই পড়বে। তবে বিভিন্ন আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের পক্ষে এই ভোট পড়ার সম্ভাবনা বেশি বলে মনে হচ্ছে। রাজধানী ঢাকা, বন্দরনগরী চট্টগ্রাম ও বিভাগীয় শহর অঞ্চলে আওয়ামী লীগের ভোটারদের কেন্দ্রে না যাওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। শহর অঞ্চলের বাইরের আসনে আওয়ামী লীগ ভোটারদের কিছু অংশ ভোটকেন্দ্রে যেতে পারেন।

দেশ ও বিদেশে থাকা আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আওয়ামী লীগের ভোট পেতে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করা বিএনপি-জামায়াতের প্রার্থীদের ব্যাপক তৎপরতায় তারাও বিস্মিত। তবে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে অংশ নেওয়া আরেক দল জাতীয় পার্টির প্রার্থীদের আওয়ামী লীগের ভোট পেতে ততটা তৎপরতা দেখা যায়নি। 

এর কারণ ব্যাখ্যা করে জাতীয় পার্টির একজন প্রেসিডিয়াম সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে দেশ রূপান্তরকে বলেন, ভোটকেন্দ্রে আওয়ামী লীগ সমর্থকরা গেলে ব্যালটে লাঙ্গল প্রতীকেই সিল মারবেন। স্বাভাবিক প্রবণতা হিসেবেই এটি ঘটার কথা। নৌকার অনুপস্থিতিতে আওয়ামী লীগের ভোট লাঙ্গলেই বেশি পড়বে।

আওয়ামী লীগ সমর্থকদের কাছে টানার চেষ্টা বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতারা স্বীকার করছেন। ঢাকা-৩ আসনে বিএনপি প্রার্থী এবং দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় দেশ রূপান্তরকে বলেন, বিএনপি নির্বাচনে জিততে চায়। সুতরাং সবার ভোট বিএনপি প্রত্যাশা করে। বিএনপি প্রার্থীরা ভোটার হিসেবে সম্মান করে দেশের সাধারণ ভোটারের দরজায় যাচ্ছেন। এখানে কে আওয়ামী লীগ, সেটা দেখা হচ্ছে না।

একাধিক সূত্র বলছে, আওয়ামী লীগের যেসব ভোটার কেন্দ্রে যাবেন, তারা বিএনপি, জামায়াত ও জাতীয় পার্টিসহ স্বতন্ত্র প্রার্থীদের ভোট দিলেও গণভোটে সবাই ‘না’ দেবেন।

এ প্রসঙ্গে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘নির্বাচন মানেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা। নির্বাচনে সব দলই জিততে চায়। তাই সবার ভোট সবাই পেতে চায়। আওয়ামী লীগের ভোট প্রত্যাশা করে রাজনৈতিক দলগুলোর দৌড়ঝাঁপ শুধুই জয়ের লক্ষ্যে। নির্বাচনে এটা স্বাভাবিক প্রবণতা।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত