ঢাকা-১০ আসন

বেশিরভাগ পোলিং এজেন্ট বিএনপি-জামায়াতের

আপডেট : ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১১:৩৪ এএম

ঢাকা-১০ আসনে প্রার্থী রয়েছেন ১০ জন। তবে ভোট শুরুর পর বেলা সোয়া ১১টা পর্যন্ত বিভিন্ন কেন্দ্র ঘুরে দেখা গেছে, বিএনপি ও জামায়াত ছাড়া অন্য দল ও প্রার্থীদের পোলিং এজেন্টের উপস্থিতি খুব একটা চোখে পড়েনি। অধিকাংশ কেন্দ্রে এ দুই দলের প্রতিনিধিদেরই সক্রিয় দেখা গেছে। তবে ধানমন্ডির নিউ মডেল বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের একটি কেন্দ্রে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের পক্ষে একজন পোলিং এজেন্টের উপস্থিতি দেখা গেছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে পাশের নিউ মডেল বহুমুখি উচ্চ বিদ্যালয়ের ১ নম্বর কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রিজাইডিং অফিসার শওকত দেশ রূপান্তরকে বলেন, বেশিরভাগ দল ও প্রার্থী তাদের পোলিং এজেন্টের নাম জমা দেননি। যারা নাম দিয়েছেন, তাদের এজেন্টরা কেন্দ্রে আছেন।

তিনি আরও জানান, ওই কেন্দ্রে সকাল থেকে বেলা পর্যন্ত প্রায় ১৪ শতাংশ ভোট পড়েছে।

ধানমন্ডি, হাজারীবাগ, কলাবাগান, নিউমার্কেট ও কামরাঙ্গীরচরের একাংশ নিয়ে গঠিত ঢাকা-১০ আসনকে একটি গুরুত্বপূর্ণ আসন হিসেবে বিবেচনা করা হয়। জাতীয় সংসদের ৩০০ আসনের মধ্যে এটি ১৮৩ নম্বর আসন। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ১৪, ১৫, ১৬, ১৭, ১৮, ২২ ও ৫৫ নম্বর ওয়ার্ড নিয়ে এ আসনের বিস্তৃতি।

বাণিজ্যিক এলাকা হিসেবে পরিচিত হওয়ায় রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে এ আসনের গুরুত্ব আলাদা। ধানমন্ডি-হাজারীবাগ-নিউমার্কেট-কামরাঙ্গীরচরজুড়ে বিস্তৃত অসংখ্য ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে কেন্দ্র করে এখানে প্রতিবছর গড়ে কয়েক হাজার কোটি টাকার লেনদেন হয়। প্লাস্টিক, চামড়া, পোশাকসহ নানা খাতের ব্যবসার প্রাণকেন্দ্র এই অঞ্চল। ফলে ভোটাররা জানিয়েছেন, তারা ভেবেচিন্তেই ভোট দেবেন।

এই আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৮৮ হাজার ৬৬০ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৪ হাজার ৬০৪ জন, নারী ভোটার ১ লাখ ৮৪ হাজার ৫০ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন ৬ জন।

বিগত নির্বাচনের ফলাফল পর্যালোচনায় দেখা যায়, ১৯৯১ সালের পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী মেজর (অব.) আবদুল মান্নান জয়লাভ করেন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। ১৯৯৬ সালের সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের এইচবিএম ইকবালের কাছে অল্প ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হন মেজর (অব.) আবদুল মান্নান। তবে ২০০১ সালের অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আবারও এইচবিএম ইকবালকে হারিয়ে বিজয়ী হন তিনি। নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের একেএম রহমতুল্লাহ জয় পান, যেখানে বিএনপি প্রার্থী এমএ কাইয়ুম প্রায় অর্ধেক ভোটের ব্যবধানে হেরে যান। এরপর থেকে আসনটি আওয়ামী লীগের দখলে ছিল। তবে এবার ভোটারদের মধ্যে পরিবর্তনের প্রত্যাশার কথাও শোনা যাচ্ছে।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১০ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ১০ জন প্রার্থী। তারা হলেন—ধানের শীষ প্রতীকে বিএনপির শেখ রবিউল আলম, হাতি প্রতীকে বাংলাদেশ রিপাবলিকান পার্টির (বিআরপি) মো. আবু হানিফ হৃদয়, হাতপাখা প্রতীকে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. আবদুল আউয়াল, দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশের মো. জসীম উদ্দীন সরকার। এছাড়া আনারস প্রতীকে বাংলাদেশ লেবার পার্টির আবুল কালাম আজাদ, ঈগল প্রতীকে এবি পার্টির নাসরীন সুলতানা, লাঙল প্রতীকে জাতীয় পার্টির বহ্নি বেপারী, ছড়ি প্রতীকে সাংস্কৃতিক মুক্তিজোটের মো. আনিছুর রহমান, প্রজাপতি প্রতীকে আমজনতার দলের আব্দুল্লাহ আল হুসাইন এবং কলম প্রতীকে জনতার দলের মো. জাকির হোসেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত