রাজধানীর যাত্রাবাড়ী আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা বজায় রাখতে কাজ করছেন দুই বন্ধু- ইমন ও সামীউল। দুজনেই পেশায় আনসার সদস্য এবং আসন্ন এইচএসসি পরীক্ষার্থী। গত বছর ভোটার হওয়ার পর এবারই ছিল তাদের জীবনের প্রথম ভোট দেওয়ার সুযোগ। কিন্তু নিজের সেই নাগরিক অধিকারের চেয়ে রাষ্ট্রীয় দায়িত্বকেই বড় করে দেখেছেন এই দুই তরুণ যোদ্ধা।
ভোটের আগের রাত থেকেই কেন্দ্র পাহাড়ায় নির্ঘুম সময় কাটিয়েছেন তারা। দেশ রূপান্তরকে ইমন ও সামীউল জানান, গতকাল থেকে তারা এই কেন্দ্রে অবস্থান করছেন। ঢাকা-৪ আসনের ভোটার ইমন ধোলাইখাল এলাকার বাসিন্দা এবং ঢাকা-৫ আসনের ভোটার সামীউল থাকেন যাত্রাবাড়ীর নবীনগরে। নিজ নিজ এলাকায় ভোট দেওয়ার তীব্র আকাঙ্ক্ষা থাকলেও দায়িত্বের খাতিরে কেন্দ্রে আটকে থাকতে হয়েছে তাদের। তবে এ নিয়ে তাদের মধ্যে কোনো আক্ষেপ নেই; বরং রাষ্ট্রের শৃঙ্খলা রক্ষায় অংশ নিতে পেরে তারা গর্বিত।
দায়িত্ব পালনকালে ইমনের সাহসিকতার এক অনন্য চিত্র ফুটে উঠেছে। তিনি জানান, গত রাতে কিছু অসাধু ব্যক্তি কেন্দ্রে ঢোকার চেষ্টা করেছিল এবং তাদের বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়েছিল। কিন্তু নিজেদের সততায় অটল থেকে তারা সরাসরি সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন। ইমন বলেন, ‘মানুষ আসছে, ভোট দিচ্ছে। আমি একটা রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালন করছি, এটা ভেবেই ভালো লাগছে। একটা ভালো নির্বাচনের জন্য আমরা রাতদিন পরিশ্রম করছি।’
অস্বচ্ছল পরিবারের সন্তান ইমনের জীবনের এই কঠোর পরিশ্রমের পেছনে রয়েছে এক আবেগঘন লক্ষ্য। তিনি জানান, অনেকদিন ধরেই মাকে কিছু উপহার দেওয়ার ইচ্ছে ছিল তার, কিন্তু সামর্থ্য ছিল না। এবারের নির্বাচনী দায়িত্ব শেষে যে সম্মানী পাবেন, তার পুরোটা তিনি মায়ের হাতে তুলে দিতে চান। ইমনের কাছে এটি কেবল ডিউটি নয়, বরং মায়ের স্বপ্ন পূরণের একটি সোপান।
একই কেন্দ্রে কর্মরত সামীউল বলেন, ‘কত মানুষ ভোট দিতে আসতেছে! দেখে আমারও একটু খারাপ লাগছে। কারণ আমারও প্রথমবার ভোট দেওয়ার খুব ইচ্ছে ছিল। কিন্তু সরকারি দায়িত্ব ফেলে তো কোথাও যেতে পারি না।’ ব্যক্তিগত ইচ্ছেকে দূরে ঠেলে দেশের স্বার্থে সামীউলের এই ত্যাগ উপস্থিত ভোটারদেরও প্রশংসা কুড়িয়েছে।
আব্দুল আজিজ স্কুল এন্ড কলেজ কেন্দ্রে ভোট দিলেন হাবিব
বেশিরভাগ পোলিং এজেন্ট বিএনপি-জামায়াতের