বিশ্ব গণমাধ্যমে বাংলাদেশের নির্বাচন

আপডেট : ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৪:৪৬ এএম

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মুখে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগের দেড় দশকের বেশি সময়ের শাসনামলের অবসান ঘটার পর ১৮ মাসের অন্তর্বর্তী সময় পেরিয়ে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে। এবারের নির্বাচনে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়েছে বিএনপি এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মধ্যে। একসময়ের জোট মিত্র এই ২ দল বর্তমান নির্বাচনে মুখোমুখি অবস্থানে আছে। ছোট-বড় ৫১টি দল নির্বাচনে অংশ নিয়েছে, তবে নিষেধাজ্ঞা থাকায় আওয়ামী লীগ এ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারেনি। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমেও একসঙ্গে দুই ব্যালটের এই নির্বাচন নিয়ে ব্যাপক আগ্রহ দেখা গেছে। ভোটের আগে প্রায় নিয়মিতভাবেই বাংলাদেশের পরিস্থিতি, ভোটের সম্ভাবনা-আশঙ্কা, কারা পরবর্তী সরকার গঠন করতে যাচ্ছে তা নিয়ে ভারত, পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যমগুলোর পাশাপাশি বিবিসি, রয়টার্স, ডয়েচে ভেলে, গার্ডিয়ানের মতো গণমাধ্যম গুরুত্ব দিয়ে খবর প্রকাশ করেছে। ভোটের দিনেও বিশ্ব গণমাধ্যমের চোখ ছিল বাংলাদেশের দিকে।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি ‘বাংলাদেশ ভোটস ইন ফার্স্ট ইলেকশন সিন্স জেন-জি আউস্টেড ফর্মার পিএম শেখ হাসিনা’ শিরোনামের খবরে তারা-জুলাই সনদ নিয়ে হওয়া গণভোট বিষয়ে মানুষের বিভ্রান্তি, নির্বাচনে তরুণদের প্রাধান্যসহ নানাবিষয় তুলে এনেছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে ভোটকেন্দ্রের বাইরে ভোটারদের দীর্ঘ সারির উল্লেখ আছে। হাসিনাবিরোধী আন্দোলনের পর বাংলাদেশ জুড়ে অস্থিরতায় পোশাক খাতসহ গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন খাতকে নানান বাধাবিঘœ পাড়ি দিতে হচ্ছে জানিয়ে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির প্রতি ভোটারদের আকাক্সক্ষার বিষয়টিও তারা তুলে এনেছে। গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) প্রধান তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে এগিয়ে আছেন ইঙ্গিত দিয়ে বাংলাদেশের ‘গুরুত্বপূর্ণ’ জাতীয় নির্বাচনের খবর দিয়েছে। ক্ষমতায় গেলে তার দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘নো টলারেন্স’, পরিচ্ছন্ন রাজনীতির আশ্বাসের কথাও আছে ‘তারেক রহমান প্রমিজেজ এরা অব ক্লিন পলিটিক্স এজ বাংলাদেশ হোল্ডস ফার্স্ট ইলেকশন সিন্স ফল অব হাসিনা’ শিরোনামের প্রতিবেদনে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনের শিরোনামে বলা হয়েছে, ‘তারেক রহমান বনাম জামায়াত : হাসিনার পতনের ১৮ মাস পর ভোট দিচ্ছে বাংলাদেশ’। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিএনপির বড় প্রতিপক্ষ হলো বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, একটি কট্টরপন্থি ইসলামী দল যেটি একসময় তাদের মিত্র ছিল। টাইমস অব ইন্ডিয়া তাদের এক প্রতিবেদনের শিরোনামে বলেছে, ‘বাংলাদেশের নির্বাচন : হাসিনা নেই, বিএনপির প্রত্যাবর্তন এবং পুনরুজ্জীবিত জামায়াত’। আরেক ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এএনআই-এর প্রতিবেদনের  শিরোনামে বলা হয়েছে, ‘ঐতিহাসিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর অনিশ্চয়তার মধ্যে ভোট হচ্ছে বাংলাদেশে।’ যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম সিএনএন তাদের প্রতিবেদনের শিরোনামে বলেছে, ‘হাসিনাবিরোধী অভ্যুত্থানে জয়ী হয়েছিল জেন-জি: নির্বাচনে প্রাধান্য বিস্তার করেছে পুরনো রক্ষীরা’। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালে অভ্যুত্থানের মাধ্যমে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারকে পতনে তরুণ প্রজন্ম সফল হলেও; অভ্যুত্থান পরবর্তী প্রধান নির্বাচনে প্রাধান্য বিস্তার করেছে বাংলাদেশের চার দশকেরও বেশি পুরনো দল বিএনপি এবং ৬৭ বছরের পুরনো দল জামায়াতে ইসলামি। পাকিস্তানের জাতীয় দৈনিক ডন এবং শীর্ষস্থানীয় টেলিভিশন চ্যানেল জিও নিউজ তাদের প্রতিবেদনের শিরোনামে লিখেছে, ‘২০২৪ সালের জেন-জি বিপ্লবের পর ঐতিহাসিক নির্বাচনে ভোট দিচ্ছে বাংলাদেশ।’ কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা চলমান নির্বাচন নিয়ে লাইভ সংবাদ পরিবেশন করেছে। সংবাদের শিরোনামে বলা হয়েছে, ‘২০২৪ সালের বিক্ষোভে হাসিনার পতনের পর প্রথম নির্বাচনে ভোট দিচ্ছে বাংলাদেশ।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত