গণতন্ত্রের ট্রেন গন্তব্যে পৌঁছাবে : সিইসি

আপডেট : ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৪:৪৭ এএম

প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাসির উদ্দিন বলেছেন, বাংলাদেশ গণতন্ত্রের যে ট্রেনে উঠেছে, সেটি গন্তব্যে পৌঁছাবে। গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৯টায় রাজধানীর ইস্কাটন গার্ডেন উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রে নিজের ভোট প্রদানের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে সিইসি এ কথা বলেন।

সিইসি বলেন, আমরা জাতির কাছে উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট উপহার দেওয়ার ওয়াদা করেছিলাম। ঈদের সময়ের মতো মানুষ ট্রেন, বাস, লঞ্চে করে গ্রামে-গঞ্জে গেছেন ভোট দিতে। অনেক দিন পর উৎসবের আমেজে মানুষ আনন্দের সঙ্গে ভোট দিচ্ছেন। বিভিন্ন মাধ্যমে খোঁজখবর নিয়ে এখন পর্যন্ত জানা গেছে সারা দেশে উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটগ্রহণ চলছে। দু-একটি জায়গায় ভোটকেন্দ্রের বাইরে কিছু গোলমাল হলেও তাৎক্ষণিকভাবে সেগুলোর সমাধান করা হয়েছে।

ঠাকুরগাঁওয়ের একটি কেন্দ্রের উদাহরণ টেনে সিইসি বলেন, সেখানে জামায়াত ও বিএনপির প্রার্থী পাশাপাশি দাঁড়িয়ে হাসিমুখে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলছিলেন। এটিই গণতন্ত্রের সৌন্দর্য।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলেন, আমরা একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য কাজ করে গেছি। আমরা কারও পক্ষে নই, কারও বিপক্ষে নই। গতকাল আমি দেশের বিভিন্ন জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারদের সঙ্গে আলোচনা করেছি। তাদের জানিয়েছি, তারা যেন কোনো দলের পক্ষ না নিয়ে নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করেন। শুধু নিজে নিরপেক্ষ থাকলেই হবে না, আশপাশের সবাইকেও নিরপেক্ষ থাকতে হবে। আমি মনে করি, এই জাতির ক্রান্তিলগ্নে আমি কিছু অবদান রাখতে চাই। আমি সেই চেষ্টাই করছি। আমরা একটি সুন্দর নির্বাচনের পরিবেশ সৃষ্টি করার চেষ্টা করেছি। এই দেশে কোনো পাতানো নির্বাচন হবে না। পাতানো নির্বাচনের ইতিহাস ভুলে যেতে হবে। কেন্দ্র দখলের, ভোটের বাক্স দখলের ইতিহাস ভুলে যেতে হবে।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলেন, ২০২৬ সালের সারা বিশ্বের সবচেয়ে বড় একটি নির্বাচন দিচ্ছে বাংলাদেশ। এত বড় নির্বাচন বিশ্বের আর কোথাও হয়নি। গণভোট ও জাতীয় নির্বাচনের ভোট মিলিয়ে ২৫৪ মিলিয়ন ব্যালট পেপার এই নির্বাচনে ছাপাতে হয়েছে। সেইসঙ্গে এসব ব্যালট পেপার কেন্দ্রে কেন্দ্রে পৌঁছাতে হয়েছে। বিশাল এই কর্মযজ্ঞ সফলতার সঙ্গে এই নির্বাচনে নির্বাচন কমিশনের অধীন প্রায় ১৭ লাখ মানুষ কাজ করছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিভিন্ন গুজবের বিষয়ে সিইসি বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং এআইয়ের তৈরি কনটেন্ট আমাদের জন্য প্রধান চ্যালেঞ্জ। এসব আপাতত মোকাবিলায় আমরা অনেক প্রস্তুতি নিয়েছি, তারপরও এসব গুজব মোকাবিলা করে শেষ করা যাচ্ছে না। এসব গুজবের বড় উৎস দেশের সীমানার বাইরে, যেখানে আমাদের কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। তাই আমরা সত্য তথ্য দিয়ে অপতথ্য মোকাবিলার কৌশল নিয়েছি। গণমাধ্যমই সেই সত্য তথ্য প্রকাশ করবে। এ ক্ষেত্রে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের চেয়ে প্রথম সারির মিডিয়ার ওপর আমরা বেশি বিশ্বাস রাখি।

এই নির্বাচনের মাধ্যমে ইসির প্রতি কি আস্থা ফিরে আসবে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশনের ওপরে আস্থা এরই মধ্যে ফিরে এসেছে। তা না হলে তো এত লোক আসত না। দলগুলো তো আস্থা রেখেছে মুখে যাই বলুক না কেন। আপনার তো অতীতের নির্বাচনগুলোও দেখেছেন। আমাদের ওপর আস্থা আছে বলেই আজকে এতগুলো ক্যামেরা নিয়ে হাজির হয়েছেন। আমাদের ওপর আস্থা আছে বলেই হাজির হয়েছেন।

সিইসি বলেন, ভোটকেন্দ্রে আগে তো আপনারা অনেক কুকুর দেখিয়েছেন টেলিভিশনে, আজকে কেন্দ্রের ধারের কাছে তো কুকুর দেখছি না। আগে দেখিয়েছেন মাঠ খালি, কুকুরের ছবি দিয়ে টেলিভিশনে পত্র-পত্রিকায় দেখিয়েছেন। আজকে কুকুর তো খুঁজে পাবেন না। এখন সব মানুষ আর মানুষ।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত