সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের চার প্রার্থীর জয়

আপডেট : ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৭:৩৫ এএম

জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ৭৯ প্রার্থীর মধ্যে থেকে জয় পেয়েছেন চারজন। এদের মধ্যে দুজন পার্বত্য চট্টগ্রামের জাতিগত সংখ্যালঘু। অন্য দুজন ধর্মীয় সংখ্যালঘু। তারা সবাই বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মনোনীত প্রার্থী। ২৯৯টি নির্বাচনী আসনের মধ্যে ২৯৭টির প্রাপ্ত বেসরকারি ফলাফল বিশ্লেষণে এ তথ্য পাওয়া গেছে।

কেরানীগঞ্জ উপজেলার জিনজিরা, আগানগর, তেঘরিয়া, কোন্ডা ও শুভাঢ্যা এলাকা নিয়ে গঠিত ঢাকা-৩ আসন। এ আসন থেকে জয় পেয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। তিনি পেয়েছেন ৯৮ হাজার ৭৮৫ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মো. শাহীনুর ইসলাম। তিনি পেয়েছেন ৮২ হাজার ২৩২ ভোট।

মাগুরা-২ আসনে জয়ী হয়েছেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান নিতাই রায় চৌধুরী। গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের বেয়াই নিতাই রায় ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে ভোট পেয়েছেন ১ লাখ ৪৭ হাজার ৮৯৬টি। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের প্রার্থী মো. মুশতারশেদ বিল্লাহ। তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ১৭ হাজার ১৮ ভোট।

তিন পার্বত্য চট্টগ্রাম জেলায় জাতিগত সংখ্যালঘু প্রার্থীরা দুটি জয় পেয়েছেন। বান্দরবান থেকে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে জয়লাভ করেছেন সাচিং প্রু। তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ৪১ হাজার ৪৫৫ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রার্থী আবু সাঈদ মো. সূজা উদ্দীন। তিনি পেয়েছেন ২৬ হাজার ১৬২ ভোট। সাচিং প্রু বান্দরবান জেলা বিএনপির আহ্বায়ক। ২০১৮ সালের নির্বাচনেও তিনি বিএনপির মনোনয়নে ভোট করেছিলেন। রাঙ্গামাটি আসনে বিএনপির মনোনয়ন নিয়ে নির্বাচনে জয়লাভ করেছেন দীপেন দেওয়ান। তিনি পেয়েছেন ২ লাখ ১ হাজার ৫৪৪ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী পহেল চাকমা। তিনি ফুটবল প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ৩১ হাজার ২২২ ভোট।

বিএনপি এবার ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘু সম্প্রদায় থেকে ছয় ব্যক্তিকে মনোনয়ন দিয়েছিল। তাদের মধ্যে দুজন পরাজিত হয়েছেন। তারা হলেন বাগেরহাট-১ আসনের কপিল কৃষ্ণ ম-ল ও বাগেরহাট-৪ আসনের সোমনাথ দে।

এবারের নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপি একজন করে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের প্রার্থী দিয়েছিল। তারা দুজনই পরাজিত হয়েছেন। তারা হলেন খুলনা-১ আসনে জামায়াতের প্রার্থী কৃষ্ণ নন্দী এবং মৌলভীবাজার-৪ আসনে এনসিপির প্রার্থী প্রীতম দাশ।

সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) তথ্যনুযায়ী, এবারের নির্বাচনে ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘু সম্প্রদায় থেকে প্রার্থী হয়েছেন ৭৯ জন। রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ১৭ জন সংখ্যালঘু প্রার্থী ছিলেন বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি)।

নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী ছিলেন ১২ জন। নিবন্ধিত ৬০টি রাজনৈতিক দলের মধ্যে ২২টি দল সংখ্যালঘু সম্প্রদায় থেকে ৬৭ জনকে মনোনয়ন দিয়েছিল।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত