প্রথমবার সংসদে ময়মনসিংহের ১১ প্রার্থী

প্রজন্ম পরিবর্তনের ইঙ্গিত রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের!

আপডেট : ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০১:১৪ পিএম

জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ময়মনসিংহ ১১ আসনেই অভূতপূর্ব পরিবর্তন এসেছে। প্রতিটি আসন থেকে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি প্রথমবারের মতো জাতীয় সংসদে যাচ্ছেন। দীর্ঘ পাঁচ দশকের রাজনৈতিক ইতিহাসে এটি প্রথমবার ঘটল। যা জেলার রাজনীতিতে বড় ধরনের প্রজন্ম পরিবর্তনের বার্তা বহন করছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। 

১৯৭৩ থেকে ২০২৪ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত সকল নির্বাচনে সবসময় কোনো না কোনো সাবেক সংসদ সদস্য বা অভিজ্ঞ নেতা নির্বাচনে প্রভাব রেখেছেন। কিন্তু এবার ভোটাররা একযোগে সম্পূর্ণ নতুন নেতৃত্বের পক্ষে ভোট দিয়েছেন।

শুক্রবার (১৩ ফেব্রয়ারি) সকালে ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. সাইফুর রহমান নবনির্বাচিতদের হাতে সরকারি ফলাফল ও বিজয়ের সনদ তুলে দেন।

ফলাফল অনুযায়ী, ময়মনসিংহ-১ (হালুয়াঘাট-ধোবাউড়া) আসনে স্বতন্ত্র ঘোড়া প্রতীকের প্রার্থী সালমান ওমর রুবেল এক লাখ ৮ হাজার ২৬৫ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স পেয়েছেন ১ লাখ ১ হাজার ৯২৬ ভোট।

ময়মনসিংহ-২ (ফুলপুর-তারাকান্দা) আসনে জামায়াতে ইসলামীসহ ১১ দলীয় জোট মনোনীত খেলাফত মজলিসের রিকশা প্রতীকের প্রার্থী মুহাম্মদুল্লাহ ১ লাখ ৪৬ হাজার ২০২ ভোট পেয়ে জয়ী হন। বিএনপি মনোনীত মোতাহার হোসেন তালুকদার পেয়েছেন ১ লাখ ১৮ হাজার ৪৩৮ ভোট।

ময়মনসিংহ-৩ (গৌরীপুর) আসনে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী প্রকৌশলী মো. ইকবাল হোসেইন ৭৫ হাজার ৩২০ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। এখানে স্বতন্ত্র ঘোড়া প্রতীকের প্রার্থী আহমেদ তায়েবুর রহমান হিরন পেয়েছেন ৬৫ হাজার ৯৯৫ ভোট।

ময়মনসিংহ-৪ (সদর) আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আবু ওয়াহাব আকন্দ এক লাখ ৭৯ হাজার ৮৬৮ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ১১ দলীয় জোট মনোনীত জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী কামরুল আহসান এমরুল পেয়েছেন এক লাখ ৭১ হাজার ৮৮০ ভোট।

ময়মনসিংহ-৬ (ফুলবাড়িয়া) আসনে জামায়াতে ইসলামীসহ ১১ দলীয় জোট মনোনীত দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী কামরুল হাসান মিলন ৭৭ হাজার ৩২৫ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। বিপরীতে স্বতন্ত্র ফুটবল প্রতীকের প্রার্থী আখতার সুলতানা পেয়েছেন ৫৩ হাজার ৩৩১ ভোট।

ময়মনসিংহ-৭ (ত্রিশাল) আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ডা. মাহবুবুর রহমান লিটন ৯৯ হাজার ৪৯ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আসাদুজ্জামান সোহেল পেয়েছেন ৮৪ হাজার ৮৫১ ভোট।

ময়মনসিংহ-৮ (ঈশ্বরগঞ্জ) আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী লুৎফল্লাহেল মাজেদ ১ লাখ ৮ হাজার ৬৮৫ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। এর বিপরীতে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) অ্যাডভোকেট আওরঙ্গজেব বেলাল পেয়েছেন ৪৬ হাজার ৫১৫ ভোট।

ময়মনসিংহ-৯ (নান্দাইল) আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ইয়াসের খান চৌধুরী ৮৫ হাজার ৭৬১ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির (বিডিপি) প্রার্থী আনোয়ারুল ইসলাম পেয়েছেন ৭১ হাজার ১৬৮ ভোট।

ময়মনসিংহ-১০ (গফরগাঁও) আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আখতারুজ্জামান বাচ্চু ৭৫ হাজার ৫৮৫ ভোট পেয়ে জয়ী হন। এখানে স্বতন্ত্র প্রার্থী আবু বক্কর সিদ্দিকুর রহমান পেয়েছেন ৬৭ হাজার ১৩ ভোট।

ময়মনসিংহ-১১ (ভালুকা): আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ফখর উদ্দিন আহমেদ বাচ্চু ১ লাখ ১১ হাজার ২৩০ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী মোরশেদ আলম পেয়েছেন ৬৬ হাজার ১৬ ভোট।

রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. সাইফুর রহমান জানান, নির্বাচন বড় ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই সম্পন্ন হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব দেখিয়েছে এবং ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল।

স্থানীয়দের বয়ান অনুযায়ী, ময়মনসিংহের রাজনীতিতে এবার একযোগে নতুন নেতৃত্বের উত্থান ঘটেছে। অভিজ্ঞ বা সাবেক সংসদ সদস্যদের পরিবর্তে প্রথমবারের মতো জাতীয় সংসদে যাচ্ছেন ১১ নতুন প্রতিনিধি।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা এটিকে জেলার রাজনীতিতে প্রজন্ম পরিবর্তনের স্পষ্ট ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত