দেশের প্রকাশনা শিল্পের অস্তিত্ব রক্ষায় বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কাছে জরুরি হস্তক্ষেপ চেয়ে আবেদন জানিয়েছেন দেশের বিভিন্ন স্তরের প্রকাশকরা। আসন্ন অমর একুশে বইমেলা পবিত্র রমজান মাসে আয়োজনের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তীব্র আপত্তি জানিয়ে প্রকাশকরা দাবি করেছেন, মেলাটি ঈদুল ফিতরের পর আয়োজন করা হোক।
প্রকাশকদের পক্ষ থেকে আজ প্রকাশক ঐক্য এক খোলা চিঠিতে তারেক রহমানের কাছে এই আবেদন জানিয়েছে। চিঠিটি এসেছে দেশ রূপান্তরের হাতে। চিঠিতে আহমেদ পাবলিশিং হাউজ, কাকলী, অনন্যা, অন্যপ্রকাশ, অ্যাডর্ন পাবলিকেশন, কথাপ্রকাশসহ দেশের প্রায় তিন শতাধিক প্রকাশনা সংস্থার প্রতিনিধিরা আবেদন জানিয়েছেন।
চিঠিতে প্রকাশকরা গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেছেন বিএনপির ঐতিহাসিক অবদানের কথা। সদ্যসমাপ্ত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন দলের নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের জন্য তারা উষ্ণ অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।
চিঠিতে প্রকাশকরা জানান, গত প্রায় দেড় বছর ধরে দেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অস্থিরতায় প্রকাশনা শিল্প এক ভয়াবহ বিপর্যয়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। তার ওপর সদ্য সমাপ্ত নির্বাচনের কারণে গত দুই মাস দেশের ছাপাখানাগুলো নির্বাচনী কাজে বিবেচিত্য থাকায় সৃজনশীল বই উৎপাদনের কাজ পুরোপুরি বন্ধ ছিল। কাগজের আকাশছোঁয়া দাম এবং আনুষঙ্গিক সংকটে প্রকাশকরা আজ দিশেহারা।
এমন এক বাস্তবতায়, বিদায়ী প্রশাসন ও বাংলা একাডেমি কর্তৃপক্ষ আগামী ২০ ফেব্রুয়ারি থেকে মাহে রমজানে 'অমর একুশে বইমেলা ২০২৬' আয়োজনের বিষয়ে অনড় অবস্থানে রয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন প্রকাশকরা। তারা জানিয়েছেন, রোজার ফলে দেশের স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ হয়ে যাবে। শিক্ষার্থীরাই বইমেলার প্রাণ। তাদের অনুপস্থিতিতে এবং রোজার মাসে অনুষ্ঠেয় এই মেলা হবে নিশ্চিতভাবেই পাঠকশূন্য ও নিষ্প্রাণ।
দেশের ৯০ ভাগ প্রকাশক মনে করেন, এই সময়ে মেলায় অংশগ্রহণ করা হবে তাদের জন্য ‘ব্যবসায়িক আত্মহত্যার’ শামিল। এই অবস্থায় কাদের স্বার্থরক্ষায় এই মেলা আয়োজনে এত তৎপরতা এবং এখানে কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্য আছে কিনা, সে নিয়ে প্রশ্ন জেগেছে প্রকাশকদের মধ্যে।
প্রকাশকরা জানিয়েছেন, তারা মেলা বর্জন করতে চান না, তারা চান একটি 'সফল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক মেলা'। তাদের দাবি ছিল—পবিত্র রমজান ও নির্বাচনী পরবর্তী পরিস্থিতি বিবেচনায় মেলাটি পিছিয়ে ঈদুল ফিতরের পর আয়োজন করা হোক, যখন পাঠকদের হাতে সময় ও অর্থ—উভয়ই থাকবে।
তারেক রহমানের কাছে প্রকাশকদের আকুল আবেদন—
১. ২০ ফেব্রুয়ারি থেকে ঘোষিত 'নামমাত্র' বইমেলা স্থগিত করার নির্দেশনা প্রদান করুন।
২. পবিত্র ঈদুল ফিতরের পর, উৎসবমুখর পরিবেশে এবং সকল প্রকাশকের অংশগ্রহণে একটি পূর্ণাঙ্গ ও প্রাণবন্ত বইমেলা আয়োজনের ব্যবস্থা গ্রহণ করুন।
প্রকাশকরা বলেছেন, তারেক রহমানের এই একটি সিদ্ধান্ত শুধু হাজারো প্রকাশককে দেউলিয়া হওয়া থেকে বাঁচাবে না, বরং প্রমাণ করবে যে—নতুন সরকার জ্ঞান, সৃজনশীলতা এবং জনমতের প্রতি কতটা শ্রদ্ধাশীল
উল্লেখ্য, সাংস্কৃতিক বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় থেকে ইতিমধ্যে অমর একুশে বইমেলা ২০২৬ আয়োজনের প্রস্তুতি সংক্রান্ত নির্দেশনা জারি করা হয়েছে, যেখানে বাংলা একাডেমি, জাতীয় গ্রন্থাগার ও সচিবালয়সহ সংশ্লিষ্ট সকল কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। প্রকাশকদের এই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তারেক রহমান বা বিএনপির পক্ষ থেকে এখনো পর্যন্ত কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে কথা বলতে সম্মতি পাওয়া যায়নি বাংলা একাডেমির মহাপরিচালকেরও।
