ডায়াবেটিস একটি বিপাকীয় রোগ। রমজান মাসে বদলে যাওয়া সময়সূচিতে ভিন্ন ধরনের খাদ্য গ্রহণের কারণে বিপাক প্রক্রিয়ায় তারতম্য সৃষ্টি হয়। যা ডায়াবেটিস রোগীদের ক্ষেত্রে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রার ওপর যথেষ্ট প্রভাব ফেলে। রক্তের গ্লুকোজের মাত্রা কখনো কমে যায় কখনো হু হু করে বেড়ে যায়। সে কারণে কোনো কোনো ডায়াবেটিস রোগীর রোজা রাখা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে দাঁড়ায়। ডায়াবেটিস আক্রান্ত রোগীদের ক্ষেত্রে নিম্নোক্ত অবস্থায় রোজা রাখা অনুচিত।
হাইপোগ্লাইসেমিয়া
যারা বারবার হাইপোগ্লাইসেমিয়ায় আক্রান্ত হচ্ছে তাদের রোজা রাখা ঠিক হবে না। হাইপোগ্লাইসেমিয়ায় আক্রান্ত হলে বেশ কিছু লক্ষণ প্রকাশ পায়। যারা এই লক্ষণগুলো উপলব্ধি করতে পারেন না তাদের জন্যও একই কথা। রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা খুব বেশি কমে গেলে অনেক সময় রোগী অজ্ঞান হয়ে যান। হাসপাতালে ভর্তি পর্যন্ত হতে হয়। তখন অন্যের সাহায্য নিতে হয়। এমন মারাত্মক ধরনের হাইপোগ্লাইসেমিয়ায় আক্রান্ত হলে অবশ্যই রোজা রাখা যাবে না।
অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিসজনিত জটিলতা
রক্তে চিনির মাত্রা অনেক বৃদ্ধি পেলে মারাত্মক জটিল অবস্থা তৈরি হতে পারে এটাকে বলা হয় ডায়াবেটিক কিটো এসিডোসিস কিংবা হাইপার অসমোলার হাইপারগ্লাইসেমিক স্টেট। রমজান শুরুর তিন মাসের মধ্যে এ ধরনের কোনো জটিলতায় আক্রান্ত হলে তার জন্য রোজা রাখা বিশেষ ঝুঁকিপূর্ণ।
অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস
যাদের ডায়াবেটিস বেশিরভাগ ক্ষেত্রে অনিয়ন্ত্রিত অবস্থায় থাকে তাদেরও রোজা রাখা ঠিক নয়। বিগত তিন মাসের ডায়াবেটিসের নিয়ন্ত্রণ বোঝার জন্য যে পরীক্ষা করা হয় তার মাত্রা শতকরা ১০ ভাগের বেশি হলে রোজা রাখার ক্ষেত্রে সাবধান হতে হবে।
কিডনি রোগ
যারা কিডনি বিকল হওয়ার কারণে নিয়মিত ডায়ালাইসিস নিচ্ছেন তারা রোজা রাখবেন না। কিডনি বিকল হওয়ার কারণে যাদের ই-জিএফআর ৩০-এর নিচে তাদেরও রোজা রাখা ঠিক হবে না।
অস্থিতিশীল ডায়াবেটিস
যাদের ডায়াবেটিস খুব বেশি অস্থিতিশীল বা ওঠানামা করে তাদের ক্ষেত্রেও রোজা রাখা অনুচিত। এ ধরনের ডায়াবেটিসকে বলা হয় ব্রিটল ডায়াবেটিস। বিপাকীয় কার্যক্রমের ব্যাপক তারতম্যের জন্য রোজা রাখা এদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।
অস্থিতিশীল ধমনির রোগ
অস্থিতিশীল হৃদরোগ কিংবা স্ট্রোকের রোগীদের রোজা রাখা বিশেষ ঝুঁকিপূর্ণ। এদের রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণ কমে গেলে মারাত্মক সমস্যা দেখা দিতে পারে।
গর্ভকালীন ডায়াবেটিস
ডায়াবেটিস আক্রান্ত গর্ভবতী মায়েরা বিশেষ ঝুঁকিপূর্ণ। গর্ভকালীন অবস্থায় ডায়াবেটিস রোগ নিয়ন্ত্রণের জন্য চিকিৎসা পদ্ধতি বদলে যায়। ইনসুলিন নিতে হয়। তাদের জন্য রোজা রাখা ঠিক হবে না।
উপরোক্ত ঝুঁকি থাকার পরও যারা রোজা রাখতে চান তাদের জন্য করণীয়
ডায়াবেটিস সংক্রান্ত শিক্ষা
ডায়াবেটিস বিশেষজ্ঞের অধীনে থাকা
নিয়মিত রক্তের গ্লুকোজের মাত্রা জানা
ওষুধের মাত্রা বদলে নেওয়া
বিপদ সংকেত পেলে রোজা
ভেঙে ফেলা
বারবার হাইপোগ্লাইসেমিয়া কিংবা উচ্চমাত্রার গ্লুকোজ থাকলে রোজা না রাখা।
