জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের পর পরিত্যক্ত থাকা বরগুনা জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেছে ছাত্রলীগের স্থানীয় নেতা–কর্মীরা। এ সময় কার্যালয়ের ভেতরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও শেখ হাসিনার ছবি টাঙানো হয়। ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) বরগুনা শহরের শের-ই-বাংলা সড়কে অবস্থিত জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সদস্য ও জেলা ছাত্রলীগের নেতা ফাহাদ হাসান তানিমের নেতৃত্বে কয়েকজন নেতা–কর্মী পরিত্যক্ত কার্যালয়ের সামনে জড়ো হন। তাদের সঙ্গে থাকা একটি বাঁশে জাতীয় পতাকা বেঁধে কার্যালয়ের সামনে উত্তোলন করা হয়। পরে তারা কার্যালয়ের ভেতরে প্রবেশ করে শেখ মুজিবুর রহমান ও শেখ হাসিনার ছবি টাঙান।
ফাহাদ হাসান তানিম বলেন, দেশরত্ন শেখ হাসিনার নির্দেশে দেশের বিভিন্ন স্থানে আওয়ামী লীগের পার্টি অফিস খোলা হচ্ছে। সেই ধারাবাহিকতায় আওয়ামী লীগ কার্যালয় খোলার কাজে অংশ নিয়েছে বরগুনা জেলা ছাত্রলীগ। তিনি দাবি করেন, কার্যালয়টি ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে এবং সেখান থেকেই দল নতুনভাবে ঘুরে দাঁড়াবে।
এ বিষয়ে জেলা বিএনপির সদস্য সচিব হুমায়ুন হাসান শাহীন বলেন, রাষ্ট্রঘোষিতভাবে কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা আওয়ামী লীগের বিভিন্ন কার্যালয়ে ছবি টাঙানো ও জাতীয় পতাকা উত্তোলনের ঘটনা ঘটছে। বিষয়টি প্রশাসনকে জানানো হয়েছে এবং আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।
বরগুনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আব্দুল আলীম বলেন, খুব সকালে ও গোপনে কার্যালয়ে ছবি টাঙানো ও পতাকা উত্তোলন করা হয়ে থাকতে পারে। বিষয়টি জানার পর ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও যাচাই করে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
বরগুনা জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও বরগুনা উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আব্বাস হোসেন মন্টু মোল্লা বলেন, সারাদেশে দলীয় কার্যালয়গুলো নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার যে উদ্যোগ চলছে, তাতে তরুণ প্রজন্ম ভূমিকা রাখছে এবং এতে তাদের নৈতিক সমর্থন রয়েছে।
প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণ–অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনার পতনের পর বরগুনা জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে ভাঙচুর চালিয়ে তালাবদ্ধ করা হয়। এরপর দীর্ঘ সময় নেতা–কর্মীরা আত্মগোপনে ছিলেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর তাদের অনেকে আবার প্রকাশ্যে সক্রিয় হতে শুরু করেছেন। গণ–অভ্যুত্থানের সময় কার্যালয়টিতে অন্তত দুই দফা হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।
