ছুটি নিয়ে নানা নাটকীয়তার পর রোজার মাসের পুরোটাই সরকারি-বেসরকারি প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয় বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। যদিও শিক্ষাপঞ্জি ও ছুটির তালিকা অনুযায়ী আগামী ৮ মার্চ থেকে রোজা ও ঈদের ছুটি শুরুর কথা ছিল।
কিন্তু শিক্ষক-শিক্ষার্থীর দাবির পরিপ্রেক্ষিতে দায়িত্ব নেওয়ার প্রথম দিনই দেশের সব বিদ্যালয়ের ছুটি নিয়ে নতুন এই সিদ্ধান্ত নিল সরকার।
গতকাল বুধবার শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় ২০২৬ সালের শিক্ষাবর্ষের সংশোধিত ছুটির তালিকা ও শিক্ষাপঞ্জি নির্ধারণ করেছে। সেখানেই এই ছুটির বিষয়টি উল্লেখ রয়েছে। পরে মন্ত্রণালয় দুটি এ-সংক্রান্ত পৃথক প্রজ্ঞাপন জারি করে।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী পবিত্র রমজান, শ্রীশ্রী হরিচাঁদ ঠাকুরের আবির্ভাব, শবেকদর, জুমাতুল বিদা, ঈদুল ফিতর, স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে ১৯ ফেব্রুয়ারি থেকে আগামী ২৬ মার্চ পর্যন্ত ছুটি থাকবে।
পূর্বঘোষিত ছুটির তালিকা অনুযায়ী আরও কয়েক দিন ক্লাস শেষে এই ছুটি হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়িয়েছে। পবিত্র রমজান মাসে স্কুল বন্ধ রাখার নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট দায়ের করা হয়েছিল। ১৫ ফেব্রুয়ারি সেই রিটের শুনানি হয়। এতে পুরো রমজান মাস অর্থাৎ ১৮ ফেব্রুয়ারি থেকে পুরো রমজান সরকারি-বেসরকারি নিম্ন মাধ্যমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখতে নির্দেশ দেয় হাইকোর্ট। পরে গত সোমবার পুরো রমজান মাসে স্কুল বন্ধ রাখতে হাইকোর্টের দেওয়া আদেশ স্থগিত করেছে আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত। হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে করা আবেদনের শুনানি নিয়ে আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতি ফারাহ মাহবুবের নেতৃত্বাধীন চেম্বার জজ আদালত স্থগিতের আদেশ দেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন, গণভোট ও শিবরাত্রি ব্রত উপলক্ষে প্রাথমিক, মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও কলেজগুলো টানা পাঁচ দিন বন্ধ ছিল। গত সোমবার থেকে প্রতিষ্ঠানগুলোতে ক্লাস শুরু হয়েছে।
তবে নির্বাচনের ছুটির মধ্য দিয়ে মাদ্রাসাগুলোর শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা ঈদের ছুটি শুরু করেছেন। মাদ্রাসার ছুটির তালিকা ও বর্ষপঞ্জি অনুযায়ী, আগামী ২৮ মার্চ পর্যন্ত ছুটি চলবে।
এদিকে কলেজের ছুটির তালিকা ও বর্ষপঞ্জি অনুযায়ী, বুধবার থেকে কলেজগুলোয় ঈদের ছুটি শুরু হয়েছে। ক্লাস শুরু হবে ২৯ মার্চ থেকে।