পূর্ণতা পায়নি আবদুল জব্বার স্মৃতি জাদুঘর

আপডেট : ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০২:০৪ এএম

প্রতিষ্ঠার ১৮ বছর পেরিয়েও ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলার পাঁচুয়া গ্রামে স্থাপিত ভাষাশহীদ আবদুল জব্বার গ্রন্থাগার ও স্মৃতি জাদুঘর এখনো পূর্ণতা পায়নি। যদিও গ্রন্থাগারে বিভিন্ন ধরনের বই রয়েছে, তবুও জাদুঘরটিতে নেই শহীদ আবদুল জব্বারের ব্যবহৃত কোনো জিনিসপত্র। ফলে দর্শনার্থীরা হতাশা নিয়ে ফিরে যেতে বাধ্য হচ্ছেন।

জাদুঘরটি ২০০৮ সালে শহীদ আবদুল জব্বারের স্মৃতিরক্ষায় নির্মাণ করা হয়। কিন্তু শহীদ জব্বারের ছবি, ব্যবহৃত জিনিসপত্র না থাকায় দর্শনার্থীদের আগ্রহ কমছে। এছাড়া গ্রন্থাগারের টেবিল-চেয়ারগুলো প্রায় অলস পড়ে থাকে, আর চলাচলের রাস্তাটিও বেহাল। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, একুশে ফেব্রুয়ারির সময় কিছু সৌন্দর্য বর্ধনের কাজ হলেও বছরের বাকি সময় জাদুঘরটি প্রায় শূন্যই পড়ে থাকে।

স্থানীয় বাসিন্দা সাইফুল ইসলাম বলেন, জাদুঘরের নাম শহীদ আবদুল জব্বারের, কিন্তু তার কোনো স্মৃতিচিহ্ন নেই। দর্শনার্থীরা এসব দেখতে চান, কিন্তু হতাশ হয়ে ফিরে যেতে হয়।

স্থানীয় শিক্ষার্থী আফরোজা সুলতানা বলেন, ভাষাশহীদ সম্পর্কে জানতে মানুষ আসেন, কিন্তু লাইব্রেরিতে যথেষ্ট বই নেই, তাই তারা কিছুই জানতে পারেন না।

গ্রন্থাগারের দায়িত্বপ্রাপ্ত লাইব্রেরিয়ান কায়সারুজ্জামান বলেনÑ গ্রন্থাগারে বই আছে ৪১৭৫টি, কিন্তু জাদুঘরে শহীদ জব্বারের ছবি ও ব্যবহৃত জিনিস নেই। তারা প্রশ্ন করেন, কিন্তু আমাদের কোনো উত্তর নেই।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এন এম আবদুল্লাহ-আল-মামুন জানিয়েছেন, জব্বার নগরের নামকরণে সরকারি গেজেট প্রকাশ, সড়ক সংস্কার ও ভাষাশহীদের নামে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নির্মাণসহ বিভিন্ন পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।

ময়মনসিংহ জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শাহ্ মোহাম্মদ কামরুল হুদা বলেন, ভাষাশহীদ আবদুল জব্বার গ্রন্থাগার ও স্মৃতি জাদুঘর উন্নয়নের জন্য সরকারের পরিকল্পনা রয়েছে। এটি একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ কমপ্লেক্সে রূপ দিতে খুব শিগগিরই মন্ত্রণালয়ে একটি প্রস্তাব পাঠানো হবে। কমপ্লেক্স হিসেবে গৃহীত হলে সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা এখানে থাকবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত