স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণের সিদ্ধান্ত তিন বছর পিছিয়ে নিতে বাংলাদেশের করা আবেদন নিয়ে আগামী সোমবার থেকে জাতিসংঘে আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু হবে। পাঁচ দিনব্যাপী এ বৈঠকে বাংলাদেশের আবেদন মূল্যায়নের পদ্ধতি নির্ধারণ করা হবে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই এ বিষয়ে জাতিসংঘের কমিটি ফর ডেভেলপমেন্ট পলিসির (সিডিপি) মতামত জানা যাবে।
জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদের (ইকোসক) অধীন সিডিপির এ বৈঠকে বসছে নিউইয়র্কে। বৈঠকে অংশ নিতে আজ রাতে নিউইয়র্কের পথে রওনা হয়েছেন সিডিপির এনহ্যান্স মনিটরিং মেকানিজম (ইএমএম) উপকমিটির প্রধান ও সিডিপি সদস্য দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য। তিনি সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো।
বাংলাদেশের আবেদনটি গত বুধবার জাতিসংঘে পাঠানো হয়। অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সচিব শাহরিয়ার কাদের ছিদ্দিকী সিডিপি চেয়ারম্যান হোসে আন্তোনিও ওকাম্পোর কাছে এ সংক্রান্ত চিঠি পাঠান। এতে দেশি-বিদেশি নানা চ্যালেঞ্জের কথা উল্লেখ করে উত্তরণের মেয়াদ ২০২৯ সালের ২৪ নভেম্বর পর্যন্ত বাড়ানোর অনুরোধ জানানো হয়।
আগের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী চলতি বছরের ২৪ নভেম্বর বাংলাদেশের এলডিসি থেকে উত্তরণের কথা ছিল।
বাংলাদেশের আবেদন প্রসঙ্গে দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পর্ষদ আগেই জানিয়েছিল উত্তরণ পিছিয়ে দেওয়ার বিষয়ে তারা ভাবছে না। কিন্তু নতুন সরকার দায়িত্ব নিয়েই এ সংক্রান্ত আবেদন করে দিয়েছে। এটি সরকারপ্রধান নয়; একজন সচিবের পক্ষ থেকে পাঠানো হয়েছে। ফলে নতুন সরকারের অভ্যন্তরীণ আলোচনার মাধ্যমেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে কি না, তা স্পষ্ট নয়।
তিনি জানান, বাংলাদেশ আগের উত্তরণ মূল্যায়ন প্রতিবেদনের সঙ্গেই সাম্প্রতিক তথ্য মিলিয়ে বিচার করা হবে। বিশেষ করে গত নভেম্বরে সরকারের দেওয়া প্রতিবেদনের সঙ্গে নতুন আবেদনের তুলনা হবে। মজার ব্যাপার হলো, যে সচিব এখন উত্তরণ পিছিয়ে দেওয়ার আবেদন করেছেন, তিনিই নভেম্বরে জানিয়েছিলেন সবকিছু ঠিক আছে। এ ছাড়া উত্তরণকালীন কৌশলপত্র বাস্তবায়নে বাংলাদেশ কতটা এগিয়েছিল, তাও বিবেচনায় নেওয়া হবে।
একই পাইপলাইনে থাকা নেপাল ও লাওস নতুন করে কোনো আবেদন না করায় তাদের অভিজ্ঞতাও বাংলাদেশের ক্ষেত্রে মূল্যায়ন করা হবে বলে জানান দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য।
এমএম কাঠামোয় ‘ক্রাইসিস বাটন’ নামে একটি বিশেষ ব্যবস্থা রয়েছে। যখন কোনো দেশ অভাবিত পরিস্থিতি বা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়া অবস্থার মুখোমুখি হয়, তখনই এ সুযোগ নেওয়া হয়। বাংলাদেশ এই চিঠি পাঠানোর মাধ্যমে সেই ‘ক্রাইসিস বাটন’ চেপেছে বলে মনে করেন তিনি। শেষবার সলোমন আইল্যান্ডস সুনামি ও সামাজিক অস্থিরতার কারণে এই সুযোগ নিয়ে দুই-তিন বছর বাড়তি সময় পেয়েছিল।
প্রসঙ্গত, এলডিসি থেকে উত্তরণের যোগ্যতা নির্ধারণে তিনটি সূচক বিবেচনা করা হয়। মাথাপিছু আয়, মানবসম্পদ সূচক (এইচএআই) এবং অর্থনৈতিক ও জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণতা সূচক (ইভিআই)। যেকোনো দুটি সূচকে উত্তীর্ণ অথবা মাথাপিছু আয় নির্ধারিত সীমার দ্বিগুণ হলেই উত্তরণের সুপারিশ করা হয়।
২০১৮ ও ২০২১ সালের ত্রিবার্ষিক মূল্যায়নে তিনটি সূচকেই উত্তীর্ণ হয় বাংলাদেশ। ২০২১ সালের মূল্যায়নের ভিত্তিতে ২০২৪ সালে উত্তরণের সুপারিশ করা হয়েছিল। করোনার কারণে দুই বছর পিছিয়ে এখন উত্তরণের চূড়ান্ত ধাপে ছিল বাংলাদেশ। এবার নতুন আবেদনের মাধ্যমে সেই প্রক্রিয়া আরও পিছিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হলো।
