কেউ সাদা শাড়ি, কেউ হলুদ, আবার কেউ লাল শাড়িতে সেজে ক্যামেরাবন্দি হচ্ছেন। চারদিকে যেন উৎসবের আমেজ। সরু সড়কের একপাশ বিশাল এলাকা জুড়ে আগুনরাঙা পলাশ ফুটে আছে। ডালগুলো নুয়ে পড়েছে ফুলের ভারে, দূর থেকে মনে হয় লাল আগুনের শিখা জ¦লছে গাছের গায়ে। বসন্ত এসে নিজের রঙের ভা-ার যেন উজাড় করে দিয়েছে এই পলাশের হাতেই।
এই রঙিন দৃশ্যের দেখা মেলে কীর্তনখোলা নদীর তীরে অবস্থিত মনোমুগ্ধকর বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় (ববি) ক্যাম্পাসে। প্রতিবছরই ৫৩ একর ক্যাম্পাস ছয় ঋতুর সঙ্গে তাল মিলিয়ে নববধূ রূপে সেজে ওঠে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সড়ক জুড়ে ও ক্যাম্পাসের বিভিন্ন জায়গায় যতেœ-অযতেœ টুকটুকে লাল রঙের এই পলাশ ফুল ফুটে আছে। বসন্তের আগমনী বার্তা নিয়ে, শুষ্ক মাটিতে নতুন প্রাণের সঞ্চার ঘটিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে পলাশ ফুলও যেন তার সৌন্দর্য মেলে ধরে। প্রকৃতির ক্যানভাসে নিজ সৌন্দর্যের আভা দিয়ে এক অনন্য শিল্পকর্মের প্রকাশ ঘটায়। শীতের নির্জীব আবহ বিদায় নিয়ে চারপাশে ছড়িয়ে পড়ে প্রাণের উচ্ছ্বাস, আর প্রকৃতি রঙিন সাজে সেজে ওঠে পলাশের লাল রঙে। বসন্তের স্নিগ্ধ আবহে ববির প্রাঙ্গণ নানা রঙের ফুলে সেজে ওঠে, যেন প্রকৃতি নিজ হাতে দক্ষিণাঞ্চলের এই শ্রেষ্ঠ বিদ্যাপীঠকে সাজিয়ে দিয়েছে।
পলাশ ফুলে মুগ্ধ হয়ে ববি শিক্ষার্থী সানজিদা আক্তার বলেন, ‘দূর থেকে দেখলে মনে হয় সড়কের দুপাশে আগুনের ঝলক কিংবা অরণ্যের অগ্নিশিখা। প্রকৃতির এই দৃশ্যকে উপভোগ করার আনন্দ প্রকাশের ভাষা নেই।’