১৭ বছর পর জুতা পরলেন বিএনপি নেতা সুরুজ পাঠান

আপডেট : ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৮:০৫ এএম

গ্রীষ্মের তীব্র তাপপ্রবাহ কিংবা মাঘ মাসের কনকনে শীত সবকিছুকে উপেক্ষা করে দীর্ঘ ১৭ বছর খালি পায়ে কাটিয়েছেন সুরুজ পাঠান। দৈনন্দিন কাজ থেকে শুরু করে ব্যবসা-বাণিজ্য, এমনকি দলীয় সব কার্যক্রমও তিনি খালি পায়েই সম্পন্ন করেছেন। তবে দীর্ঘ ১৭ বছর পর বিএনপি আবার ক্ষমতায় আসায় সুরুজ পাঠান পায়ে জুতা পরেছেন। সুরুজ পাঠানের এই অটল রাজনৈতিক বিশ্বাস ও প্রতিজ্ঞার গল্প এখন কলমাকান্দার মানুষের মুখে মুখে ফিরছে। ২০০৮ সাল থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত তিনি খালি পায়ে চষে বেড়িয়েছেন পুরো উপজেলা। এমনকি আশপাশের জেলা শহরগুলোতেও গিয়েছেন খালি পায়েই।

নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলার লেঙ্গুরা ইউনিয়নের ইয়ারপুর গ্রামের বাসিন্দা সুরুজ পাঠান ওই ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি। পেশায় তিনি ধান-চালের ব্যবসায়ী। জুতা না পরার প্রতিজ্ঞার বিষয়ে সুরুজ পাঠান বলেন, ২০০৮ সালের জাতীয় নির্বাচনের দিন ভোটকেন্দ্রে ভোট দেওয়া শেষে আসরের নামাজের পর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও স্থানীয়দের সঙ্গে তার বাগ্বিতণ্ডা হয়। সে সময় ভিড়ের মধ্যে তার পায়ের একটি জুতা কাদায় আটকে খুলে যায়। অনেক চেষ্টা করেও সেটি আর তুলতে পারেননি। ক্ষোভ ও অভিমানে অপর জুতাটিও তিনি সেখানেই ফেলে আসেন। এরপর তিনি প্রতিজ্ঞা করেন, যতদিন তার দল বিএনপি ক্ষমতায় না আসবে, ততদিন তিনি আর জুতা পায়ে দেবেন না। এরপর দীর্ঘ ১৭ বছর রোদ-বৃষ্টি উপেক্ষা করে খালি পায়েই ব্যবসা ও দলীয় কার্যক্রম চালিয়ে গেছেন সুরুজ পাঠান। সম্প্রতি দেশে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের মাধ্যমে দল ক্ষমতায় আসার পর তার সেই দীর্ঘদিনের অপেক্ষার অবসান হয়। গত বুধবার উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. সাইদুর রহমান ভূইয়া ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা মিলে তাকে নতুন জুতা পরিয়ে দেন। দীর্ঘদিনের কষ্ট সার্থক হওয়ায় তিনি মহান আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করেন।

প্রতিজ্ঞা পূরণ হলেও একান্ত আলাপচারিতায় সুরুজ পাঠান তার মনের একটি সুপ্ত বাসনার কথা জানিয়েছেন। তার দীর্ঘদিনের আকাক্সক্ষা ছিল, যেদিন দল ক্ষমতায় আসবে এবং তারেক রহমান দেশের দায়িত্ব নেবেন, সেদিন তারেক রহমানের পক্ষ থেকে উপহার হিসেবে পাঠানো একজোড়া স্যান্ডেল বা জুতা তিনি পায়ে দেবেন। সেই স্বপ্নটি পুরোপুরি পূরণ না হওয়ায় তার মনে একটি ছোট্ট আক্ষেপ রয়ে গেছে।

এ বিষয়ে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মো. সাইদুর রহমান ভূঁইয়া বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছর আমি বারবার অনুরোধ করার পরও সুরুজ পাঠান জুতা পরেননি। এমনকি তীব্র শীতেও, যখন আমরা জুতা-মোজা পরেও থাকতে পারি না, সেই শীতেও তিনি খালি পায়ে হেঁটেছেন। তাকে এ অবস্থায় দেখে আমাদের খুব কষ্ট হতো। তখন তাকে জুতা পরতে বললেও তিনি তা পরেননি। দলের জন্য তার এই প্রতিজ্ঞা ও ত্যাগ সত্যিই অসাধারণ।

তিনি বলেন, বিএনপির জন্য এমন হাজার হাজার নেতাকর্মী রয়েছেন, যারা দলকে ভালোবেসে নিজেদের জীবন উৎসর্গ করতে প্রস্তুত। সুরুজ পাঠান তাদেরই একজন। তার কাছ থেকে আমরা অনেক অনুপ্রেরণা পাই। এমন ত্যাগী নেতাকর্মীদের যদি আমরা সঠিকভাবে মূল্যায়ন করি, তবে দল আরও সুসংগঠিত হবে এবং সামনের দিকে এগিয়ে যাবে।

সাইদুর রহমান ভূঁইয়া আরও বলেন, সুরুজ পাঠানের মতো নেতাকর্মীদের যেন আমরা যথাযথভাবে মূল্যায়ন করতে পারি। তার একটি বিশেষ দাবিও রয়েছে। আমি যখন তাকে জুতা পরিয়ে দিই, তখন তিনি জানান যে ব্যারিস্টার কায়সার কামাল মহোদয়ের মাধ্যমে আজকের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সামনে জুতা পরতে পারলে তিনি মনে শান্তি পেতেন। তার এই আকুতি ও মনের ইচ্ছাটুকুও আমাদের মনে রাখা প্রয়োজন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত