সংসদ সদস্যদের কথা

আপডেট : ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১২:৫৮ এএম

নারী ও শিশুদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা অগ্রাধিকার পাবে

বস্তি এলাকায় বসবাসকারী নারী ও শিশুদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় প্রতিটি ওয়ার্ডে স্বাস্থ্যকেন্দ্র গড়ে তোলা হবে। নির্বাচনী এলাকায় কিছু বিষয় আছে, যেগুলো (সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, মাদকের বিস্তার ও ইভটিজিং) কোনো ধরনের আর্থিক ব্যয় ছাড়া শুধু জনগণ ও প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে সমাধান করা যায়। আবার আর্থিক খাতের কিছু বিষয় রয়েছে, যেগুলো সরকার ও বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে সেগুলোর পরিকল্পনা প্রণয়ন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পারকি সৈকতকে আন্তর্জাতিক মানের পর্যটন স্পট করতে হবে

শোষণ, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস, দখলদারমুক্ত নিরাপদ ও সমৃদ্ধ জনপদে রূপান্তর করাই আমার মূল লক্ষ্য। পারকি সৈকতে পর্যটনশিল্পের পরিকল্পিত ও টেকসই উন্নয়নের মাধ্যমে অঞ্চলটিকে আন্তর্জাতিক মানের পর্যটন নগরী হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নিতে হবে। একই সঙ্গে গ্রামীণ অর্থনীতি মজবুত করে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, আবাসন সুবিধা, শিল্পের প্রসার ও ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি করে কর্মসংস্থান বাড়ানো হবে।

ন্যায় ও ইনসাফভিত্তিক সমৃদ্ধ বাঁশখালী গড়তে চাই

অবহেলিত জনপদ বাঁশখালীতে মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন করাই অন্যতম লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য। একই সঙ্গে সবার সহযোগিতা নিয়ে সুশাসন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে ন্যায় ও ইনসাফভিত্তিক একটি সমৃদ্ধ এবং মডেল বাঁশখালী গড়তে চেষ্টা করব। শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের অবকাঠামোগত ও গুণগত উন্নয়ন, যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন, টেকসই উপকূলীয় বেড়িবাঁধসহ জনগণের বিভিন্ন প্রত্যাশা এবং স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে সমৃদ্ধ বাঁশখালী গড়তে চাই।

বেড়িবাঁধ নির্মাণে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব থাকবে

ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসে প্রতিবছর মহেশখালী-কুতুবদিয়ায় জানমালের ব্যাপক ক্ষতি হয়। এ থেকে পরিত্রাণ পেতে আমি দুই উপজেলায় বেড়িবাঁধ নির্মাণ সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেব। মূলত এটি দুই দ্বীপের লোকজনের প্রাণের দাবি। বর্তমানে চাষিরা ১৮০ টাকা মণ লবণ বিক্রি করছেন। লবণের ন্যায্য দাম নিশ্চিত ও বিদেশ থেকে লবণ আমদানি বন্ধের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

বিশ্বমানের এলাকা হিসেবে গড়ে তুলতে চাই

আমার এলাকার মানুষ স্বাস্থ্যসেবায় অনেক পিছিয়ে। এ এলাকায় কোনো সরকারি হাসপাতাল নেই। শহরের ভেতর হলেও এ এলাকায় সুপেয় পানির যেমন অভাব রয়েছে, তেমনি ড্রেনেজ সিস্টেমের অবস্থাও বেহাল। ময়লা-আবর্জনায় ভরে গেছে নালা-নর্দমা। রাস্তাঘাটগুলো চলাচলের অনুপযোগী। সব বয়সের মানুষের নিরাপদ দেশ গড়ার পাশাপাশি আমার এলাকাকে একটি বিশ্বমানের এলাকা হিসেবে গড়ে তুলতে কাজ করব।

ইটভাটা থেকে কৃষিজমিকে রক্ষা করা হবে

এলাকার কৃষিজমি ক্রমান্বয়ে হ্রাস পাচ্ছে। জমির ওপরের টপসয়েল একশ্রেণির মাটিখেকোর দল কেটে ইট ভাটায় নিয়ে যাচ্ছে। বেপরোয়াভাবে এলোপাতাড়ি ঘরবাড়ি নির্মাণ করতে থাকায় কমে যাচ্ছে কৃষিজমি। উপজেলায় কলকারখানা নেই বললেই চলে। তাই শিল্পকারখানা স্থাপনের অনুকূল পরিবেশ তৈরি করা। এ ছাড়া এলাকাভিত্তিক যেকোনো পরিকল্পনা এলাকার মানুষের মতামতকে প্রাধান্য দিয়ে বাস্তবায়ন করা হবে।

পাহাড়ি-বাঙালির মধ্যে শান্তি স্থাপন অগ্রাধিকার

পার্বত্য এলাকায় পাহাড়ি-বাঙালিদের মধ্যে শান্তি স্থাপনে কাজ করা হবে। কারণ শান্তি-সম্প্রীতি ছাড়া উন্নয়ন সম্ভব নয়। খাগড়াছড়ির শান্তি স্থাপনের জন্য স্থানীয় কমিউনিটি লিডারদের সঙ্গে বসব। এ ছাড়া বান্দরবানে বিশ্ববিদ্যালয় এবং রাঙ্গামাটিতে মেডিকেল কলেজ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপিত হলেও খাগড়াছড়িতে হয়নি। তাই খাগড়াছড়িতে বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠার কাজ করা হবে। এ ছাড়া যোগাযোগব্যবস্থা উন্নয়নে কাজ করা হবে।

মাদক কারবার নিয়ন্ত্রণ অগ্রাধিকার পাবে

পর্যটন শহর কক্সবাজার। এ শহরকে সাজাতে আমি প্রথমত দুটি বিষয়কে গুরুত্ব দিচ্ছি। মাদক কারবার নিয়ন্ত্রণ ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার জন্য যা যা করতে হয়, তাই করা হবে।  আমার সংসদীয় আসনে চুরি, ছিনতাই, চাঁদাবাজি, মাদক কারবারসহ নানা অপরাধ বন্ধে জিরো টলারেন্স দেখানো যাবে। কোনো অপরাধীকে ছাড় দেওয়া হবে না।

নিরাপদ, উন্নত ও সুশাসিত পটিয়া গড়া আমার অঙ্গীকার

একটি নিরাপদ, উন্নত ও সুশাসিত পটিয়া গড়তে কোনো সন্ত্রাস, দখলবাজি ও চাঁদাবাজি বরদাস্ত করা হবে না। সাধারণ মানুষ যাতে নির্ভয়ে ব্যবসা-বাণিজ্য ও দৈনন্দিন জীবনযাপন করতে পারে, প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে সেই পরিবেশ নিশ্চিত করা হবে। স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মানোন্নয়ন, চিকিৎসক ও নার্স সংকট দূরীকরণ করা হবে। এ ছাড়া চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক সংলগ্ন যানজট নিরসন ও অভ্যন্তরীণ সড়ক সংস্কারেও দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

অপকর্মে জড়িতরা আমার নিজ দলের হলেও ছাড় পাবে না

মাদকের কারণে তরুণ-সমাজ বিপথে যাচ্ছে বলে মাদকমুক্ত সমাজ গঠনের চেষ্টা করব। এলাকায় অবৈধ বালু উত্তোলন, পাহাড় ও মাটি কাটা বন্ধ করা হবে। এসব অপকর্মের সঙ্গে জড়িতরা আমার নিজ দলের হলেও ছাড় পাবে না। এ ছাড়া বটতলী স্টেশনকেন্দ্রিক চাঁদাবাজি বন্ধ করা হবে। চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক ছয় লেনে উন্নীতকরণে দ্রুত উদ্যোগ নেওয়া হবে।

প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন নিশ্চিত করাই প্রধান কাজ 

বান্দরবানে বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর বসবাস রয়েছে, সেসব জনগোষ্ঠীর মধ্যে সম্প্রীতি গড়ে তোলার মাধ্যমে স্থিতিশীল বান্দরবান গড়ে তোলাই প্রধান কাজ। এখানকার অবহেলিত ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন নিশ্চিত করাই হবে প্রধান অগ্রাধিকার। সম্প্রীতি বজায় রেখে শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, যোগাযোগ ও পর্যটন খাতের সমন্বিত উন্নয়নে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে। বিশেষ করে দুর্গম এলাকার মানুষের মৌলিক সেবা সম্প্রসারণে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে।

প্রথম চ্যালেঞ্জ আইনশৃঙ্খলা স্বাভাবিক করা

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে স্বাভাবিক করাকেই আমি প্রথম চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছি। কারণ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ঠিক না থাকলে একটি এলাকার কোনো ধরনের উন্নয়ন সম্ভব নয়। এটি ঠিক করতে পারলেই উখিয়া টেকনাফের চেহারা পাল্টে যাবে বলে আমি আশাবাদী।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত