মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে ব্যাংক কর্মকর্তার রহস্যজনক মৃত্যু

আপডেট : ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০১:১৭ পিএম

বগুড়ায় মায়ের আশ্রয় মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে এক ব্যাংক কর্মকর্তার রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) রাতে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তাকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা। এর আগে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে ব্যাংক কর্মকর্তা কে হাসপাতালে নিয়ে যান নিরাময় কেন্দ্রের লোকজন।

নিহত সামিউল হাসান শুভ (৩৩) জেলার কাহালু উপজেলার বাসিন্দা এবং শহরে বসবাস করতেন। জনতা ব্যাংক বগুড়ার দুপচাঁচিয়া শাখার সিনিয়র কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

নিহতের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন দেখে স্বজনরা এটিকে হত্যাকাণ্ড বলে অভিযোগ করছেন। তবে ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন হাতে পেলে জানা যাবে প্রকৃত রহস্য বলে জানান পুলিশ। 

পুলিশ ও স্বজনরা জানান, কিছুদিন আগে হঠাৎ ছিনতাইকারীর কবলে পরে মানসিকভাবে অসুস্থ্য হয়ে পড়েন শুভ। মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের কাছে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন কয়েক মাস ধরে। সর্বশেষ চলতি মাসের শুরুতে মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞ ডাক্তার বাপ্পা তার শারীরিক ও মানসিক অবস্থার অবনতির কারণে, তাকে একটি মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে ভর্তির পরামর্শ দেন।

চিকিৎসকের পরামর্শে গত ১৩ ফেব্রুয়ারি শহরের সাবগ্রাম এলাকায় মায়ের আশ্রয় মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে ভর্তি হয়েছিলেন শুভ। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় শুভ অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে নিরাময় কেন্দ্রের লোকজন। কিছুক্ষণ পর চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

কিন্তু তার আকষ্মিক মৃত্যুর খবরে হতবাক স্বজনরা জানান , তারা হাসপাতালে গিয়ে দেখেন, শুভ্র শরীরের বিভিন্ন স্থানে অসংখ্য আঘাতের চিহ্ন। মাদকাসক্ত নিরাময় কেন্দ্রে শারীরিক নির্যাতনে ব্যাংক কর্মকর্তার মৃত্যু হয়েছে এমন দাবি করছেন তারা। 

মায়ের আশ্রয় মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে কর্মরতরা জানান, তাকে সঠিকভাবে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছিল, কোন শারীরিক আঘাত করা হয়নি। 

বগুড়া শহিদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ডিউটি ডাক্তার অমিত সাহা বলেন, তাদের সিফটিং ডিউটি। যিনি তার আগে দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি জানিয়েছেন যে মৃত অবস্থায় শুভকে হাসপাতালে আনা হয়েছিল।

এদিকে মায়ের আশ্রয় মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠানটির এক কর্মীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে পুলিশ। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন ও তদন্তের মাধ্যমে নেওয়া ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান বগুড়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোস্তফা মঞ্জুর। তিনি বলেন, সিসিটিভি ফুটেজ কিছুটা দেখা হয়েছে, আরো বিস্তারিত দেখে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর বগুড়ার উপ-পরিচালক জিললুর রহমান বলেন, এ বিষয়ে পরিবার অভিযোগ করলে অবশ্যই আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত