স্টেট অব দ্য ইউনিয়ন ভাষণ

যুক্তরাষ্ট্রের স্বর্ণযুগ শুরু হয়েছে : ট্রাম্প

আপডেট : ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৭:৫১ এএম

২০২৪ সালের নির্বাচনে জয়ের পর হোয়াইট হাউজের মসনদে ফিরে গত এক বছরের অর্জনকে যুগান্তকারী হিসেবে দাবি করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গত মঙ্গলবার স্টেট অব দ্য ইউনিয়ন ভাষণে তিনি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রে স্বর্ণযুগ শুরু হয়েছে। দেশ এখন আগের চেয়ে শক্তিশালী, উন্নত ও সমৃদ্ধ। ভাষণে অর্থনীতি, অভিবাসন নীতি ও বৈশ্বিক চলমান বিষয়ে গুরুত্ব দেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। দ্বিতীয় মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর মঙ্গলবার প্রথম স্টেট অব দ্য ইউনিয়ন ভাষণ দেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ হাউজ অব রিপ্রেজেন্টেটিভসে ট্রাম্পের ভাষণ শুরু হলে সমর্থকরা ইউএসএ বলে স্লোগান দিতে থাকে। যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসের দীর্ঘতম ১ ঘণ্টা ৪৮ মিনিটের ভাষণে ট্রাম্প বলেন, বাইডেন প্রশাসন ও কংগ্রেসের সমর্থকরা দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছিল। কিন্তু এখন দেশের মনোবল ফিরে এসেছে। আজ আমাদের সীমান্ত সুরক্ষিত। মূল্যস্ফীতি কমছে, আয় দ্রুত বাড়ছে। কিন্তু জনমত জরিপ বলছে, অর্থনীতি নিয়ে মানুষের মধ্যে অসন্তোষ বাড়ছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, রিপাবলিকান নেতারা তাকে এই বার্তা দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন। কারণ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে দলটির জনপ্রিয়তা নিয়ে শঙ্কা সৃষ্টি হয়েছে।

কিন্তু তার এসব মিষ্টি মিষ্টি কথা জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে ক্ষুব্ধ ভোটারদের আশ্বস্ত করতে পারবে কি না, তা স্পষ্ট হওয়া যায়নি। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাড়তি দামের জন্য ট্রাম্প বারবারই পূর্বসূরি জো বাইডেনকে দায়ী করে এসেছেন। তবে জনমত জরিপগুলোতে ভোটাররা ব্যয় সাশ্রয়ে তেমন কিছু না করার জন্য ট্রাম্পকেই দায়ী করছেন; যদিও এই ব্যয় সাশ্রয়ের অঙ্গীকার করেই প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে ট্রাম্প টানা প্রচার চালিয়ে গেছেন। সম্প্রতি এক জরিপে দেখা গেছে, মাত্র ৭৪ শতাংশ মানুষ ট্রাম্পের অর্থনীতি নিয়ে অসন্তুষ্ট। এদিন ডেমোক্র্যাটদের অনেক আসনই ফাঁকা ছিল, অনেকেই ট্রাম্পবিরোধী সমাবেশে অংশ নিতে গিয়ে স্টেট অব দ্য ইউনিয়ন ভাষণ বর্জন করেন। এই ভাষণে ট্রাম্প তার পুরনো বক্তব্যই বহাল রেখেছেন। অভিবাসন নিয়ে কথা বলতে গিয়ে ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে তুমুল বাগ্বিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন তিনি। একপর্যায়ে ডেমোক্র্যাট ইলহান ওমর চিৎকার করে বলেন, ‘আপনি যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের হত্যা করেছেন!’ পরে তাকে হল থেকে বের করে দেওয়া হয়। ভাষণের শুরুতে ট্রাম্প শুধু রিপাবলিকান আইনপ্রণেতাদের কাছেই করতালি পেয়েছেন।

ইরানে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা নিয়ে অনেকের উদ্বেগের পাশাপাশি সুপ্রিম কোর্ট মাত্রই তার ‘সিগনেচার’ শুল্ক নীতিতে বড় ধাক্কাও দিয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের রায়কে ‘দুর্ভাগ্যজনক’ আখ্যা দেওয়া ট্রাম্পের ভাষ্য, সর্বোচ্চ আদালতের রায় তার শুল্ক নীতিতে খুব একটা প্রভাব ফেলতে পারবে না। ভাষণে ট্রাম্প কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়েও কোনো কথা বলেননি। অথচ এই প্রযুক্তি এরই মধ্যে স্টক মার্কেট এবং চাকরির নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কায় থাকা অনেকের উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। দ্বিতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নেওয়ার পর নিজের শক্তি-সামর্থ্যরে বেশিরভাগই পররাষ্ট্র-সংক্রান্ত বিষয়ে কাজে লাগালেও এবারের স্টেট অব দ্য ইউনিয়ন ভাষণে এ বিষয়ে খুব বেশি কিছু বলেননি ট্রাম্প। তবে আগের মতোই ‘আটটি’ যুদ্ধ থামানোর কৃতিত্ব দাবি করেছেন। সেদিনই ইউক্রেনে রাশিয়ার ‘বিশেষ সামরিক অভিযানের’ চতুর্থ বর্ষপূর্তি হলেও কিয়েভকে নিয়ে খুব বেশি কথা খরচ করেননি ট্রাম্প। বলেননি যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান অর্থনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী চীন বা গ্রিনল্যান্ড নিয়েও কিছু। ইরান নিয়েও ‘ধোঁয়াশা’ রেখে দিয়েছেন। ইরান ইস্যুতে বিষয়টির কূটনৈতিক সমাধান চান বলে জানান ট্রাম্প। স্টেট অব দ্য ইউনিয়ন ভাষণের প্রতিক্রিয়ায় ডেমোক্র্যাটরা বলছেন, ট্রাম্প তার বক্তব্যে কোনো বাস্তব সমাধান তুলে ধরেননি। আর প্রেসিডেন্টের বক্তব্য পুরোপুরি সৎ ছিল না বলে মন্তব্য করেছেন ভার্জিনিয়ার ডেমোক্র্যাট গভর্নর অ্যাবিগেল স্প্যানবার্জার। তিনি অভিযোগ করেন, সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার খরচ কমানোর জন্য ট্রাম্প কিছুই করছেন না।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত