চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলায় নুরজাহান বেগম (৫৫) নামে এক মধ্যবয়সী নারীর গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলার রূপসা উত্তর ইউনিয়নের রুস্তমপুর ভাটেরহাট মসজিদ বাড়ি এলাকায় নিজ বাড়ির বাথরুমে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনাটি হত্যা নাকি আত্মহত্যা সে বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য দিতে পারেনি পরিবারের কোনো সদস্য কিংবা পুলিশ।
নিহত নুরজাহান বেগম কুয়েতপ্রবাসী আবুল কালামের স্ত্রী। তাদের দুই ছেলে ও দুই মেয়ে রয়েছে। নিহতের ছোট মেয়ে নুর সুলতানা তানহা জানান, সকালে কলেজে যাওয়ার সময় মাকে ঘরে শুয়ে থাকতে দেখেন। যাওয়ার আগে মায়ের কাছে টাকা চাইলে ২০০ টাকা দেন। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে কলেজ থেকে ফিরে ঘরের দরজা বন্ধ দেখেন। ডাকাডাকি করেও সাড়া না পেয়ে পাশের চাচাতো বোনের ঘরে যান। ফিরে এসে দরজা খোলা পান। ঘরে ঢুকে বাথরুম থেকে শব্দ পেয়ে সেখানে গিয়ে মায়ের গলা কাটা ও রক্তাক্ত অবস্থায় দেখেন। তিনি চিৎকার করে সবাইকে ডাকেন। পরে বড় ভাই নুর হোসেন রনিকে খবর দিলে পরিবারের সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে ফরিদগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতের বড় ছেলে নুর হোসেন রনি বলেন, সকাল প্রায় ১০টার দিকে তিনি রুস্তমপুর বাজারে যান। দুপুরে ছোট বোনের ফোনে খরব জানতে পারেন। তিনি এসে মাকে হাসপাতালে নিয়ে যান। হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসক জানান, তার মা আগেই মারা গেছেন।
ফরিদগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক মোর্শেদ আখন জানান, গলাকাটা অবস্থায় নারীকে হাসপাতালে আনা হয়। হাসপাতালে আনার আগেই তার মৃত্যু হয়েছে।
পরিবারের সদস্যরা দাবি করেছেন, নুরজাহান বেগমের সঙ্গে কারও কোনো বিরোধ ছিল না। তাদের ধারণা, তিনি নিজেই গলায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে আত্মহত্যা করতে পারেন।
ঘটনাস্থলে গিয়ে পুলিশ সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করেছে। ফরিদগঞ্জ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) এমদাদুল হক বলেন, সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থল ও হাসপাতাল পরিদর্শন করা হয়েছে। এটি হত্যা না আত্মহত্যা তা নিশ্চিত হতে তদন্ত চলছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলমান। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
