সাগরে আবারও জলদস্যুদের উৎপাত, আতঙ্কে জেলেরা

আপডেট : ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১২:৪৭ এএম

বৈরী আবহাওয়াসহ নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও জীবিকার টানে বঙ্গোপসাগরে দিনের পর দিন পরে থাকেন জেলেরা। স্ত্রী-সন্তান ছেড়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সাগরে মাছ ধরায় ব্যস্ত থাকলেও শান্তি নেই তাদের। শীত মৌসুমের শেষে হঠাৎ করে সাগরে জলদস্যুদের দৌরাত্ম্য বেড়েছে। তারা এখন জেলেদের জন্য মূর্তিমান আতঙ্ক হয়ে দেখা দিয়েছে।

রমজানের শুরু থেকে চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপকূলের বেশ কিছু মাছ ধরার ট্রলারে ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় জলদস্যুদের হামলায় একজন গুলিবিদ্ধসহ অন্তত অর্ধশত মাঝিমাল্লা আহত হয়েছেন। ফলে জলদস্যু আতঙ্কে অনেক জেলে সাগরে মাছ ধরতে যাচ্ছেন না।

গত বৃহস্পতিবার দুপুরে শঙ্খ নদের মোহনার গহিরা উপকূলে সাগর থেকে মাছ ধরে ফিরে আসা এফবি সিফাত নামক ট্রলারের জেলে মোহাম্মদ খোকনের সঙ্গে কথা হয়। তিনি জানান, গভীর সমুদ্রে মাছ ধরে ফিরে আসার পথে গত বুধবার রাতে কক্সবাজার উপকূলের অদূরে জলদস্যুরা তাদের ওপর হামলা করার চেষ্টা করে। তবে বিষয়টি টের পেয়ে ট্রলারের মাঝি আবারও গভীর সমুদ্রের দিকে ফিরিয়ে নেন ট্রলার। ট্রলারের ইঞ্জিন শক্তিশালী হওয়ায় জলদস্যুরা তাদের ধরতে পারেননি।

এর আগে গত মঙ্গলবার রাতে কক্সবাজারের কুতুবদিয়া উপকূলের পশ্চিমে জলদস্যুদের হামলার শিকার হয় তিনটি মাছ ধরার ট্রলার। এ ঘটনায় এফবি নাজিম উদ্দিন নামের ট্রলারের মাঝি মনির আহমদ গুলিবিদ্ধ হন। তিনি বর্তমানে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন। জলদস্যুদের মারধরে আহত হয়েছেন আরও ১০-১২ জন জেলে। এ সময় তিনটি ট্রলারের মাছসহ আনুমানিক ৮ থেকে ১০ লাখ টাকার মালামাল লুট করে নিয়ে যায় জলদস্যুরা। গত সোমবার ভোরে আনোয়ারা উপকূল থেকে এই তিনটি ট্রলার সাগরে মাছ ধরতে যায়। উপজেলার পূর্ব গহিরা এলাকার তৈয়ব আলী, জসিম উদ্দিন ও মো. ফেরদৌসের মালিকানাধীন এই তিনটি ট্রলারে ১২ জন করে মোট ৩৬ জন মাঝিমাল্লা ছিলেন।

আহত জেলে আকবর হোসেন বলেন, ‘জলদস্যুদের নির্যাতনে প্রাণ যায় অবস্থা। মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে আসতে পেরেছি এটাই বেশি। তবে এখন সাগরে যেতে ভয় হচ্ছে। কারণ এ পর্যন্ত সাগরে অন্তত ২০টিরও বেশি ট্রলার ডাকাতির শিকার হয়েছে।’

আনোয়ারা উপকূলের একাধিক জেলে জানিয়েছেন, শুষ্ক মৌসুমে একদিকে সাগরে মাছ কম ধরা পড়ছে, অন্যদিকে হঠাৎ করে বেড়ে চলেছে জলদস্যুদের আক্রমণ। এতে সাগরে যাওয়া অনিরাপদ হয়ে পড়েছে। উপজেলা মৎস্য দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, আনোয়ারা উপকূলে সরকারি নিবন্ধিত ছোট-বড় মিলে ৯৭৮টি মাছ ধরার নৌযান রয়েছে। এ উপজেলায় নিবন্ধিত মৎস্যজীবী রয়েছে ৭ হাজার ৩৩৯ জন।

সদরঘাট নৌপুলিশের ওসি মিজানুর রহমান বলেন, সাগরের বিষয়টি নৌবাহিনী ও কোস্টগার্ড সদস্যরা দেখেন। ডাকাতির বিষয়টি তাদের অবগত করা হয়েছে। 

কোস্টগার্ড সাঙ্গু স্টেশনের কন্টিনজেন্ট কমান্ডার জামাল উদ্দিন বলেন, সাগরে তাদের টহল দল রয়েছে। তবে গভীর সমুদ্রে জলদস্যুতা রোধে নৌবাহিনীর জাহাজের টহল জোরদার করার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত