বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান এমপি বলেছেন, সদ্য সমাপ্ত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আমাদের প্রত্যাশার প্রতিফলন হয়নি। নির্বাচনে আমাদের হক কেড়ে নেওয়া হয়েছে, এটি আমাদের কাছে পরিষ্কার। অনেক আসনে আমাদের ইচ্ছাকৃতভাবে হারানো হয়েছে, বিশেষ করে যেসব আসনে ভোটের ব্যবধান ছিল ১০-১২ হাজার। যেখানেই যাই লোকজন আমাদের বলে, নির্বাচনে আপনারা হারেননি, আপনাদের হারিয়ে দেওয়া হয়েছে। গতকাল শুক্রবার দুপুরে সিলেটের একটি কমিউনিটি সেন্টারে জেলা জামায়াত আয়োজিত শূরা ও কর্মপরিষদ সদস্যদের শিক্ষা শিবির অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা হাবিবুর রহমান।
জামায়াত আমির বলেন, সংসদীয় রাজনীতিতে এবারই জামায়াত সবচেয়ে বড় সাফল্য পেয়েছে। এবারের নির্বাচনে আমাদের তিনটি লাভ হয়েছে। প্রথমত, জামায়াতের নেতৃত্বে একটি অর্থবহ ঐক্য হয়েছে। এর আগে আমরা অন্যের নেতৃত্বে ঐক্য করেছিলাম। দ্বিতীয়ত, আল্লাহ আমাদের প্রধান বিরোধী দলের দায়িত্ব প্রদান করেছেন। তৃতীয়ত, এবার আমরা ছয়টি শক্তির বিরুদ্ধে লড়াই করেছি। আমি তাদের নাম বলছি না, আপনারা সবাই তা জানেন। ওই ছয় শক্তির সম্মিলিত শক্তি কতটুকু তা আমরা বুঝে গেছি।
দলীয় নেতাকর্মীদের স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে জামায়াত আমির বলেন, আমাদের প্রথম লড়াই ছিল জাতীয় নির্বাচন। আর দ্বিতীয় লড়াই শুরু হবে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে। এই লড়াইয়ে একটি জায়গাও যেন আমাদের খালি না থাকে। জাতীয় নির্বাচনে মানুষ বার্তা দিয়েছে, আগামীর বাংলাদেশ হবে ইসলামের বাংলাদেশ, মুক্তি পাগল মানুষের বাংলাদেশ।
এর আগে সকালে তিনি ঢাকা থেকে বিমানে সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছালে দলীয় নেতাকর্মীরা তাকে স্বাগত জানান। এ সময় বিমানবন্দরে তার জন্য জেলা প্রশাসনের একটি গাড়ি অপেক্ষায় ছিল। কিন্তু তিনি সরকারি গাড়ি ব্যবহার না করে ফিরিয়ে দেন এবং বলেন, ১২ তারিখের পর সরকারি গাড়ি চড়ব ইনশাআল্লাহ। আমি ক্ষমতার অপব্যবহার করতে চাই না।
জামায়াত আমির নগরীর বন্দরবাজারে কুদরত উল্লাহ জামে মসজিদে জুমার নামাজ আদায় করেন। এরপর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, সরকারের মন্ত্রীদের কাঁচা কথাবার্তা সমাজে অস্থিরতা তৈরি করছে ও অপরাধ প্রবণতা উসকে দিচ্ছে। এ ধরনের দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণ অব্যাহত থাকলে দেশের জন্য মঙ্গল হবে না। রাষ্ট্রপতিকে অভিশংসন করা প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এখনই এ ব্যাপারে মন্তব্য করতে চাই না। বিষয়টি নিয়ে বড় পরিসরে আলোচনা করে যেটা দেশের জন্য ভালো হবে, সেভাবেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
বিকেলে জামায়াত আমির সিলেট প্রেস ক্লাব ও মহানগর জামায়াত আয়োজিত পৃথক ইফতার মাহফিলে যোগ দেন। ইফতার মাহফিলে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
