জাতীয় সংসদ নির্বাচনের রেশ শেষ হতে না হতেই স্থানীয় সরকার নির্বাচনের আলোচনা শুরু হয়েছে। স্থানীয় সরকারমন্ত্রী ইতিমধ্যে বিভিন্ন সিটি করপোরেশনের নির্বাচন করার ইঙ্গিতও দিয়েছেন। দলগুলোর মধ্যেও শুরু হয়েছে ‘গুছিয়ে নেওয়ার’ কাজ। রমজান মাস হওয়ায় ইফতার মাহফিলেই প্রাথমিক গণসংযোগের কাজটি করতে শুরু করেছেন সম্ভাব্য প্রার্থীরা। বন্দর নগরী চট্টগ্রামেও জমে উঠেছে ‘ইফতার রাজনীতি’।
এবার রমজানের শুরু থেকেই চট্টগ্রাম নগরী ও জেলায় শুরু হয় বিভিন্ন পর্যায়ের রাজনৈতিক ব্যক্তিদের ইফতার আয়োজন। গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট, ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দলের প্রার্থীদের অনেককে নিজেদের কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে ইফতার ও নির্বাচন পর্যালোচনা সভার আয়োজন করতে দেখা গেছে। নগরী ও জেলায় বিএনপির বিভিন্ন ইউনিট সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জন্য দোয়া কামনা ও ইফতার আবার স্থানীয় সরকার পরিষদের বিভিন্ন পর্যায়ের সম্ভাব্য প্রার্থীদের উদ্যোগে নিজ নিজ এলাকায় চলছে ইফতার আয়োজন।
২০২৪ সালের আগস্ট মাসে স্থানীয় সরকার পরিষদ দেশের সব জেলা পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, পৌরসভার জনপ্রতিনিধিদের অপসারণ করে প্রজ্ঞাপন জারি করে। একই বছর সেপ্টেম্বরে অপসারণ করা হয় দেশের ১২টি সিটি করপোরেশনের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের। অবশ্য পরবর্তী সময়ে আদালতের রায় নিয়ে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র হিসেবে বিএনপির ডা. শাহাদাত হোসেন দায়িত্ব নিলেও ওয়ার্ড কাউন্সিলরবিহীন অবস্থাতেই চলছে করপোরেশনের কার্যক্রম। বিএনপি সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর স্থানীয় সরকার বিভাগের বিভিন্ন পর্যায়ের নির্বাচন আয়োজনের বিষয়টি এখন সর্বত্র আলোচনায়। জেলা পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা, ইউনিয়ন পরিষদ ও সিটি করপোরেশন নির্বাচনের সম্ভাব্য প্রার্থীরা স্থানীয় লোকজনের সমর্থনের পাশাপাশি প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতাদের আশীর্বাদ পেতে চালিয়ে যাচ্ছেন নানা তদবির। তাই নিজেরা যেমন বিভিন্ন স্থানে ইফতারের আয়োজন করছেন তেমনি দলের প্রভাবশালী নেতারা কোনো ইফতার আয়োজনে উপস্থিত থাকলে সেখানেও তারা হাজিরা দিচ্ছেন।
সদ্যসমাপ্ত নির্বাচনে বিজয়ী সাংসদদের অনেকে নিজ নিজ এলাকায় লোকজনের জন্য ইফতারের আয়োজন করছেন। অনেকে এটাকে ইফতারের আড়ালে তাদের নির্বাচনোত্তর বিজয়োৎসব হিসেবেও দেখছেন।
নতুন সরকারের অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর নির্বাচনী এলাকার লোকজনের জন্য গত শুক্রবার চট্টগ্রাম বন্দর স্টেডিয়ামে ইফতারের আয়োজন করা হয়। চট্টগ্রাম-১১ আসনের অন্তর্ভুক্ত বিভিন্ন ওয়ার্ডের জন্য সেখানে আলাদা আলাদা স্থানও নির্ধারণ করে দেওয়া হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, অন্তত আট হাজার মানুষ ইফতারে অংশ নেন। এ ইফতার আয়োজনে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের আগামী নির্বাচনের সম্ভাব্য কাউন্সিলর প্রার্থীদের তৎপরতা ছিল লক্ষণীয়।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী চট্টগ্রাম মহানগরী আজ রবিবার নগরীর জিইসি কনভেনশন সেন্টারে ইফতার মাহফিলের আয়োজন করেছে। দলের সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। দলটির অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি জেনারেল মুহাম্মদ শাহজাহান ও চট্টগ্রাম-১৫ আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী এতে বিশেষ অতিথি থাকবেন।
মহানগর জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি মুহাম্মদ উল্লাহ দেশ রূপান্তরকে বলেন, বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সম্মানে এ ইফতার মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে। পুরো রমজান মাস জুড়ে নগরীর বিভিন্ন ওয়ার্ডে দলীয়ভাবে ইফতার আয়োজন চলছে বলেও জানান তিনি।
এদিকে, চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির উদ্যোগে আগামী ৬ মার্চ জমিয়তুল ফালাহ মসজিদে ইফতার মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে। অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন। পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন ও সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন এতে বিশেষ অতিথি থাকবেন।
মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব নাজিমুর রহমান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘এ ইফতার মাহফিলে রাজনীতিবিদ, সাংবাদিক, পেশাজীবী প্রতিনিধিসহ প্রায় ৮ হাজার রোজাদারের ইফতারের আয়োজন থাকবে।’
