গোমতী নদীর মাটি কাটার বৈধতার দাবিতে বিক্ষোভ, মহাসড়ক অবরোধ

আপডেট : ০১ মার্চ ২০২৬, ০৭:০৪ পিএম

কুমিল্লার দেবীদ্বারে বৈধভাবে মাটি কাটার সুযোগ তৈরির দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও অবস্থান ধর্মঘট করেছেন মাটিকাটা ও মাটি পরিবহন শ্রমিকেরা। এ সময় প্রায় এক ঘণ্টা কুমিল্লা-সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়ক অবরোধ করে রাখেন তারা। এতে যান চলাচল বন্ধ হয়ে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয় এবং যাত্রীদের দুর্ভোগে পড়তে হয়।

আজ রবিবার (১ মার্চ) দুপুরে ‘ট্রাক্টর পরিবহন শ্রমিকবৃন্দ, দেবীদ্বার, কুমিল্লা’ ব্যানারে এ কর্মসূচি পালিত হয়। পরে শ্রমিকেরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে স্মারকলিপি দেন। বিক্ষোভ চলাকালে মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে যানবাহন আটকে যায়। বিশেষ করে পবিত্র রমজান মাসে নারী ও শিশুসহ যাত্রীরা ভোগান্তিতে পড়েন বলে জানান কয়েকজন ভুক্তভোগী। অবরোধের একপর্যায়ে উপজেলা সদরের নিউমার্কেট এলাকায় সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করেন বিক্ষোভকারীরা।

সেখানে মাটি ব্যবসায়ী ও শ্রমিকদের পক্ষে আবদুর খালেক বলেন, গোমতী নদী থেকে মাটি কাটা বন্ধ থাকায় প্রায় ২০ হাজার শ্রমিক, রাজমিস্ত্রি ও জোগালি বেকার হয়ে পড়েছেন। বন্ধ রয়েছে দুই শতাধিক ট্রাক্টর, ড্রেজার ও ভেকু। উপজেলার ২৩টি ইটভাটা বন্ধের পথে। এতে আবাসন নির্মাণ, সরকারি-বেসরকারি ভবন নির্মাণ ও সড়ক উন্নয়নকাজ ব্যাহত হচ্ছে। তিনি বৈধ উপায়ে মাটি কাটা ও ব্যবসার সুযোগ দেওয়ার দাবি জানান। দাবি না মানা হলে কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারিও দেন।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাকিবুল ইসলাম বলেন, শ্রমিকদের স্মারকলিপি গ্রহণ করা হয়েছে। তবে বিষয়টি অনেকটাই ‘অবৈধ কাজের বৈধতার দাবি’ বলে মনে হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে নদী ও চরাঞ্চল থেকে অবৈধভাবে মাটি-বালু উত্তোলন হয়েছে। এ ধরনের কার্যক্রমের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে।

এর আগে গত ২৫ ফেব্রুয়ারি উপজেলা পরিষদের মাসিক আইনশৃঙ্খলা সভায় স্থানীয় সংসদ সদস্য ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ কঠোর হুঁশিয়ারি দেন। তিনি বলেন, গোমতী নদী থেকে কেউ যেন আর এক কোদাল মাটিও কাটতে না পারে, তা পুলিশ ও প্রশাসনকে নিশ্চিত করতে হবে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিনের অবৈধ মাটি কাটার ফলে গোমতী নদীর পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বেড়িবাঁধ, সড়ক ও আবাদি জমি। ট্রাক্টরের ধুলাবালুতে বাড়িঘরের ক্ষতি হচ্ছে, শিশু ও বৃদ্ধরা বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। এ ছাড়া অবৈধ ইটভাটার কারণে পরিবেশদূষণ ও ফসলের ক্ষতি হচ্ছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক উপজেলা সদরের কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে যারা নদী লুট করেছে, তারাই এখন শ্রমিকদের সামনে এনে আবারও অবৈধভাবে মাটি কাটার চেষ্টা করছে। এ ব্যাপারে প্রশাসনের কঠোর অবস্থান নেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করেন তারা।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত