গুলশানের নিজ বাসভবনে বার্ধক্যজনিত কারণে প্রয়াত হয়েছেন একুশে পদকপ্রাপ্ত কবি, সাহিত্য সম্পাদক ও বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব জাহানারা আরজু।
সোমবার (২ মার্চ) দুপুর দেড়টার দিকে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত নানা রোগে ভুগছিলেন তিনি। মৃত্যুকালে তিনি দুই ছেলে, এক মেয়ে, নাতি-নাতনিসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।
জাহানারা আরজু আপিল বিভাগের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলামের মা। তার স্বামী মরহুম এ কে এম নুরুল ইসলাম ছিলেন বাংলাদেশের সাবেক উপ-রাষ্ট্রপতি, আইনমন্ত্রী, শিক্ষামন্ত্রী, পাকিস্তান আমলের ঢাকা হাইকোর্টের বিচারপতি এবং সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার।
১৯৩২ সালের ১৭ নভেম্বর জন্ম নেওয়া জাহানারা আরজু বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতির অঙ্গনে দীর্ঘকাল নিষ্ঠা, প্রজ্ঞা ও সৃজনশীলতার স্বাক্ষর রেখে গেছেন। বাংলা সাহিত্যচর্চা ও সম্পাদনা জগতে তার অবদান বিশেষভাবে স্মরণীয়।
তিনি তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের প্রথম নারী সাপ্তাহিক ‘সুলতানা’ পত্রিকার প্রতিষ্ঠাকালীন সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন, যা নারী সম্পাদিত সাহিত্যধারায় এক ঐতিহাসিক মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত। অল্প বয়সে তার সাহিত্য সাধনার সূচনা; ১৯৪৫ সালে ‘আজাদ’ পত্রিকার ‘মুকুলের মাহফিল’-এ তার প্রথম কবিতা প্রকাশিত হয়। পরে ‘সওগাত’, ‘মোহাম্মদী’, ‘বেগম’, ‘মিল্লাত’ ও ‘ইত্তেহাদ’সহ বিভিন্ন সাময়িকীতে তার কবিতা ও রচনা নিয়মিত প্রকাশিত হতে থাকে।
তার কাব্যকর্মে মানবতাবোধ, মানবিক চেতনা ও প্রকৃতিপ্রেমের অনন্য সমন্বয় লক্ষণীয়। মাটি, মানুষ ও সমাজের বহুমাত্রিক অভিজ্ঞতাকে তিনি সহজ, স্বচ্ছ ও আবেগঘন ভাষায় রূপ দিয়েছেন। তার লেখনীতে যেমন ছিল অন্তর্গত বেদনার অনুরণন, তেমনি ছিল আশাবাদ ও আলোকিত মানবিকতার দীপ্ত প্রকাশ।
বাংলা সাহিত্যে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি ১৯৮৭ সালে একুশে পদক লাভ করেন। সাহিত্য সাধনার জন্য তিনি সর্বমোট ২৬টি সাহিত্য পুরস্কারে ভূষিত হন। তার উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ ও রচনাবলি বাংলা সাহিত্যভাণ্ডারকে সমৃদ্ধ করেছে এবং আগামী প্রজন্মের জন্য প্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।
মরহুমার প্রথম নামাজে জানাজা আজ বাদ মাগরিব গুলশানের আজাদ মসজিদে অনুষ্ঠিত হয়। দ্বিতীয় জানাজা আজ বাদ ঈশা ও তারাবির নামাজের পর মানিকগঞ্জ জেলার হরিরামপুর থানার খলিলপুর নিজ গ্রামে অনুষ্ঠিত হবে। জানাজা শেষে মরহুমাকে সেখানেই তার স্বামীর কবরের পাশে দাফন করা হবে।
