নারী এশিয়ান কাপের অভিষেকেই বর্তমান চ্যাম্পিয়ন চীনের মুখোমুখি হয়ে ভড়কে যায়নি বাংলাদেশ। বরং শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে সমানে সমান লড়াই করে ফুটবল বিশ্বের নজর কেড়েছে সাবিনা-আফঈদা বাহিনী। ০-২ গোলের হারেও ভেঙে না পড়ে বরং আগামীর বড় স্বপ্ন বুনছেন দলের রক্ষণভাগের অতন্দ্র প্রহরী ও অধিনায়ক আফঈদা খন্দকার।
চীনের মতো দলের বিপক্ষে বড় বিপর্যয়ের আশঙ্কা থাকলেও বাংলাদেশ মাঠের পারফরম্যান্সে ছিল সুসংগঠিত। এ নিয়ে অধিনায়ক বলেন, "ওরা গতবারের চ্যাম্পিয়ন টিম, তাই শুরুতে একটু চিন্তিত ছিলাম যে কীভাবে ওদের সাথে ফাইট করব। কিন্তু যেহেতু আমরা ওদের বিপক্ষে চোখে চোখ রেখে লড়াই করতে পেরেছি, ইনশাল্লাহ এখন উত্তর কোরিয়া এবং উজবেকিস্তানের সাথেও আমরা একইভাবে লড়াই করব।"
অধিনায়ক হিসেবে ব্যক্তিগত পর্যায়ে একটি আক্ষেপের কথা অকপটে স্বীকার করেছেন আফঈদা। ম্যাচের দ্বিতীয় গোলটি নিয়ে তিনি বলেন, "আমার একটাই আক্ষেপ। সেকেন্ড গোলটা যেহেতু আমার পাশ দিয়েই হয়েছিল, আমি যদি ওটা ঠেকাতে পারতাম তবে হয়তো এই আক্ষেপটা থাকত না।" পাশাপাশি সতীর্থ ঋতুপর্ণা চাকমার শট গোল না হওয়া প্রসঙ্গে তিনি প্রতিপক্ষ গোলকিপারের উচ্চতার সুবিধাকেই মূল কারণ হিসেবে দেখছেন। তার মতে, চীন বিশ্বমানের দল হওয়ার পেছনে তাদের শারীরিক গঠন ও উচ্চতা বড় একটি প্রভাব ফেলে।
বাংলাদেশের লড়াকু মানসিকতা দেখে চীন কিছুটা অবাক হয়েছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে আফঈদা বলেন, "হতে পারে। ওরা তো প্রেস কনফারেন্সেও বলেছিল যে বাংলাদেশকে ছোট করে দেখবে না। আমরা যে ভালো খেলেছি, সেটা নিশ্চয়ই ওরা বুঝতে পেরেছে।"
প্রথমবারের মতো এশিয়ান কাপে খেলতে আসা বাংলাদেশ দল প্রতিটি ম্যাচ থেকেই শিখছে। তবে কেবল ‘শিখতে আসা’র তকমা নিয়ে সন্তুষ্ট থাকতে চান না অধিনায়ক। আফঈদা স্পষ্ট করে বলেন, "আমরা এখানে শিখতে এসেছি ঠিকই, তবে আমাদের লক্ষ্য অর্জন করা। রাতারাতি হয়তো সব হবে না, কিন্তু আমরা সাফে চ্যাম্পিয়ন হয়েছি, এবার এশিয়ান কাপে খেলছি। ধাপে ধাপে ইনশাল্লাহ আমরা ভালো রেজাল্ট উপহার দেব।"
গ্রুপের বর্তমান সমীকরণে উজবেকিস্তানের চেয়ে গোল ব্যবধানে এগিয়ে থেকে পয়েন্ট টেবিলের তিনে অবস্থান করছে বাংলাদেশ। চীনের বিপক্ষে এই লড়াই থেকে পাওয়া ‘নতুন বিশ্বাস’ আগামী দুই ম্যাচে লাল-সবুজের প্রতিনিধিদের আরও সাহসী করে তুলবে বলেই বিশ্বাস দেশের ফুটবল ভক্তদের।
গোল না পাওয়ার আক্ষেপ থাকলেও লড়াকু পারফরম্যান্সে খুশি ঋতুপর্ণা
এই হারে গ্লানি নেই, আছে লড়াই করার গর্ব