পারমাণবিক বোমা বাড়াবে ফ্রান্স

আপডেট : ০৪ মার্চ ২০২৬, ১২:৫৪ এএম

ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্র যৌথভাবে ইরানে হামলা করার পর নতুন করে সংঘাতে জড়ানোর ইঙ্গিত দিয়েছে ইউরোপের তিন দেশ। ফ্রান্স, জার্মানি ও যুক্তরাজ্য প্রতিরক্ষামূলক পদক্ষেপের প্রেক্ষাপটে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানকে সতর্কও করেছে। গত সোমবার এক যৌথ বিবৃতিতে প্রয়োজন হলে সামরিক হস্তক্ষেপের কথাও জানিয়েছে এই দেশ। বিশ্বজুড়ে ক্রমবর্ধমান অনিশ্চয়তার মধ্যে কয়েক দশকের মধ্যে প্রথমবারের মতো নিজেদের ভান্ডারে পারমাণবিক বোমার (ওয়ারহেড) সংখ্যা বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ। স্থানীয় সময় সোমবার উত্তর-পশ্চিম ফ্রান্সের ল’ ইল লং সামরিক ঘাঁটিতে দাঁড়িয়ে তিনি এ ঘোষণা দেন। ঘাঁটিটি ফ্রান্সের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র বহনকারী সাবমেরিনগুলোর প্রধান কেন্দ্র।

মাখোঁ বলেন, বর্তমানে ফ্রান্সে ৩০০টির কম পারমাণবিক বোমা আছে। তিনি এই সংখ্যা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তবে ঠিক কতগুলো বাড়ানো হবে, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট করে কিছু বলেননি। ১৯৯২ সালের পর এই প্রথম ফ্রান্স তাদের পারমাণবিক অস্ত্রের মজুদ বাড়াতে যাচ্ছে। মাখোঁ জানান, ক্রমবর্ধমান বৈশ্বিক হুমকি এবং ইউরোপীয় মিত্রদের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা নিশ্চয়তা নিয়ে অনিশ্চয়তার মুখে ইউরোপের নিরাপত্তা কাঠামোতে ফ্রান্সের পারমাণবিক প্রতিরোধ ব্যবস্থার ভূমিকা আরও স্পষ্ট করতেই এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, ফ্রান্স তাদের পারমাণবিক অস্ত্র বহনে সক্ষম বিমানগুলো মিত্র দেশগুলোতে সাময়িকভাবে মোতায়েন করার অনুমতি দেবে। এ ছাড়া তিনি ঘোষণা করেন যে, দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র হামলা সক্ষমতায় গভীর সহযোগিতার অংশ হিসেবে ফ্রান্স, জার্মানি ও যুক্তরাজ্য যৌথভাবে ‘ভেরি লং-রেঞ্জ মিসাইল প্রজেক্ট’ বা অতি-দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র প্রকল্পে কাজ করবে।

ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান সংঘাতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) দেশগুলোকে যোগ না দেওয়ার বিষয়ে হুঁশিয়ার করে দিয়েছে ইরান। গতকাল মঙ্গলবার তেহরানে এক সংবাদ সম্মেলনে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই ওই হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ সক্ষমতা ধ্বংস করার জন্য জার্মানি, ব্রিটেন ও ফ্রান্স ‘প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা’ নিতে পারে বলে জানানোর পর তেহরান ওই হুঁশিয়ারি দিয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেছেন, এটি যুদ্ধের শামিল হবে। ইরানের বিরুদ্ধে এ ধরনের যেকোনো পদক্ষেপকে হামলাকারীদের সঙ্গে যোগসাজশ হিসেবে বিবেচনা করা হবে। একে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা হিসেবেই দেখা হবে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী হামলায় ইরানে প্রাণহানির সংখ্যা বেড়ে ৭৮৭ জনে দাঁড়িয়েছে। গত চার দিনে দেশটিতে চলা হামলায় আহত হয়েছেন আরও হাজার হাজার মানুষ। মঙ্গলবার ইরানের রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির পরিসংখ্যানের বরাত দিয়ে ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপির এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে। তবে ইরানে চলমান সংঘাতে হতাহতের বিষয়ে ইরান রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির দেওয়া তথ্য স্বতন্ত্রভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছে এএফপি।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত