গলাকাটা অবস্থায় উদ্ধার শিশু ইরার মৃত্যু

আপডেট : ০৪ মার্চ ২০২৬, ০৭:৩৮ এএম

সীতাকুণ্ডের ছোট কুমিরার সেই টিনের ঘরে এখন গভীর নিস্তব্ধতা। বাড়ির উঠোনের এক কোণে পড়ে আছে ছোট্ট স্কুলব্যাগটি; খাতার পাতায় কাঁচা হাতের লেখা নাম ইরা। কিন্তু জান্নাতুল নাইমা ইরা আর কখনো এ ঘরে ফিরবে না। নিদারুণ নির্মমতার শিকার মাত্র সাত বছর বয়সী ইরা গতকাল মঙ্গলবার ভোরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছে।

প্রতিদিনের মতো গত রবিবার সকালে বাড়ি থেকে বের হয়েছিল ইরা। মা রোকেয়া বেগম ভেবেছিলেন, কিছুক্ষণ পরই ফিরে আসবে। কিন্তু দুপুর গড়ালেও মেয়ের কোনো সন্ধান না মেলায় শুরু হয় উৎকণ্ঠা ও খোঁজাখুঁজি। কিন্তু কয়েক ঘণ্টা পর তিনি যে খবর পান তা হতভম্ব করে দেয় পুরো দেশকে। সেদিন সীতাকুণ্ড পৌরসভার ইকোপার্কের ভেতরের দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় গলাকাটা অবস্থায়ই সে কিছুক্ষণ হেঁটে বেড়ায়। পরে বোটানিক্যাল গার্ডেনের সহস্রধারা ঝরনার দিকের নির্জন পথে সড়ক সংস্কারের কাজে থাকা শ্রমিকরা প্রথম তাকে দেখতে পান। তখনো তার গলা থেকে রক্ত ঝরছিল। শ্রমিকরা নিজেদের পরনের কাপড় ছিঁড়ে গলায় চেপে ধরে রক্ত বন্ধের চেষ্টা করেন। পরে দ্রুত তাকে সীতাকুণ্ড উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। ওই রাতেই তার গলায় অস্ত্রোপচার করা হয়। পরদিন নেওয়া হয় ওয়ান-স্টপ ক্রাইসিস সেলে। সেখানে গতকাল ভোর রাতে মারা যায় সে।

এদিকে শিশু জান্নাতুল নাইমা ইরা হত্যার ঘটনায় প্রধান সন্দেহভাজন বাবু শেখকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গত শনিবার রাতে ইরার মায়ের করা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।

পুলিশ জানায়, অভিযুক্ত চকলেটের লোভ দেখিয়ে শিশুটিকে পাহাড়ে নিয়ে যায়। গ্রেপ্তারের পর তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ঘটনাস্থল থেকে নিহতের জুতা, রক্তমাখা পায়জামা ও প্রলোভনের চকলেটসহ বিভিন্ন আলামত জব্দ করা হয়। এ ছাড়া রক্তমাখা পোশাক ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সামগ্রীও উদ্ধার করা হয়েছে।

চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার নাজির আহমেদ খান সাংবাদিকদের বলেন, ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় দ্রুত তদন্ত শেষে আসামিকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে। তিনি জানান, এ ধরনের নৃশংস অপরাধীদের আইনের আওতায় এনে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা হবে। এ সময় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম ব্রাঞ্চ) সিরাজুল ইসলাম, সীতাকুণ্ডের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শাকিলা ইয়াসমিন সূচনা ও সীতাকুণ্ড থানার ওসি মাহিনুল ইসলাম।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত