শত শত প্রাণহানিও দমাতে পারেনি তেহরানকে

আপডেট : ০৪ মার্চ ২০২৬, ০৯:০১ এএম

মার্কিন-ইসরায়েলি যৌথ বাহিনীর নজিরবিহীন বিমান ও মিসাইল হামলায় রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে ইরান। গত চার দিন ধরে চলা এই ‘এপিক ফিউরি’ অভিযানে ইরানের রাজধানী তেহরানসহ প্রধান শহরগুলোতে ধ্বংসযজ্ঞ চালানো হয়েছে। তবে পশ্চিমা এই আগ্রাসনের মুখে মাথানত না করে পাল্টা আঘাত হানার ঘোষণা দিয়েছে তেহরান। ইতোমধ্যে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দিয়েছে ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি), যা বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধরনের অস্থিরতার আভাস দিচ্ছে।

তেহরান থেকে প্রাপ্ত খবরে জানা গেছে, মঙ্গলবার (৩ মার্চ) রাতেও শহরের বিভিন্ন স্থানে বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটেছে। মার্কিন বি-২ স্টিলথ বোমারু বিমান থেকে ছোড়া ২ হাজার পাউন্ডের বোমা আঘাত হেনেছে জনবহুল এলাকা ও সরকারি স্থাপনায়। তেহরানের কেন্দ্রীয় এনকেলাব চত্বরের একটি পুলিশ স্টেশন এবং বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হামলার শিকার হয়েছে। 

রেড ক্রিসেন্টের তথ্য অনুযায়ী, ইরানে এ পর্যন্ত প্রায় ১০০ জন নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক নারী ও শিশু। মিনাব অঞ্চলে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ১৫৮ জন শিক্ষার্থীর মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে, যা ইরানি জনগণের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।

ইরানের ওপর হামলার প্রতিবাদে লেবানন থেকে হিজবুল্লাহ ব্যাপক পাল্টা আক্রমণ শুরু করেছে। গোষ্ঠীটি দাবি করেছে, তারা ইসরায়েলের উত্তরাঞ্চলীয় মেটুলা শহরে সেনা অবস্থানে রকেট বর্ষণ করার পাশাপাশি হাইফার দক্ষিণে ‘মিশমার হাকারমেল’ নামক গুরুত্বপূর্ণ মিসাইল প্রতিরক্ষা সাইটে ড্রোন ও নির্ভুল মিসাইল হামলা চালিয়েছে।

অন্যদিকে, আইআরজিসি এক কঠোর বিবৃতিতে জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালি এখন থেকে সব ধরনের নৌ-চলাচলের জন্য বন্ধ। তারা সতর্ক করেছে যে, কোনো জাহাজ এই পথ অতিক্রম করার চেষ্টা করলে সেটিকে পুড়িয়ে দেওয়া হবে। ইতোমধ্যে প্রণালিটির দিকে অগ্রসর হওয়া ১০টিরও বেশি তেলবাহী ট্যাংকারকে লক্ষ্যবস্তু করার দাবি করেছে তারা।

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই আকস্মিক ও বেআইনি যুদ্ধের বিরুদ্ধে খোদ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রেই অস্থিরতা শুরু হয়েছে। কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া ইরানে হামলা চালানো এবং ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির ওপর হামলার ঘটনায় আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে। এই প্রেক্ষাপটে ট্রাম্পের যুদ্ধ করার ক্ষমতা কমিয়ে আনতে মার্কিন সিনেটে বুধবার (৪ মার্চ) ওয়ার পাওয়ারস রেজোলিউশন-এর ওপর ভোটাভুটি হতে যাচ্ছে। ডেমোক্রেটিক ও কতিপয় রিপাবলিকান সিনেটররা এই বিলের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন।

ইরান সরকার এই হামলাকে ‘সন্ত্রাসবাদী আগ্রাসন’ হিসেবে অভিহিত করে বলেছে, তাদের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় তারা যেকোনো সীমানা অতিক্রম করতে প্রস্তুত। বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের বাজারে ইতোমধ্যে এই যুদ্ধের নেতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে।

সূত্র: আল-জাজিরা

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত