সাবেক উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানকে আইনের আওতায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ ও তার বিচার দাবি করেছে জামায়াত। একটি সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাবেক এ উপদেষ্টার বক্তব্যকে ‘রাজসাক্ষী’ হিসেবে ধরে নিয়েছে দলটি। পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের বিষয়েও একই দাবি তুলেছে তারা। এ দুই সাবেক উপদেষ্টার বিরুদ্ধে ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের অভিযোগ তুলেছেন সংসদে বিরোধীদলীয় উপনেতা ও জামায়াতের নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের।
গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর মগবাজারে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, বিরোধীদলীয় হুইপ রফিকুল ইসলাম খান, ঢাকান্ড১২ আসনের সংসদ সদস্য সাইফুল আলম খান, জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য আইনজীবী শিশির মনির ও জাহিদুর রহমান।
আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের বলেন, আমরা একটা রাজসাক্ষী পেয়েছি। সেই রাজসাক্ষীর নাম হচ্ছে রিজওয়ানা হাসান। তিনি গণমাধ্যমকে বলেছেন, ‘যারা নারীদের উপযুক্ত অধিকারকে নিশ্চিত করতে পারেনি, তারা বিরোধী দলে থাকলেও আমরা কিন্তু তাদের মূলধারায় বা প্রধান শক্তি হিসেবে আসতে দিইনি।’ এ থেকেই বোঝা যায়, ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের যে কথা এসেছে, সেটাকে উনি নিজেই স্বীকার করে এক প্রকার রাজসাক্ষী হয়েছেন।
বিরোধীদলীয় উপনেতা বলেন, তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকার এবং বর্তমান সরকারের কাছে জানতে চাই কেন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মাধ্যমে জামায়াতকে মূলধারা বা প্রধান দল হিসেবে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন থেকে বাধাগ্রস্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে সাবেক ওই উপদেষ্টার কাছে জানতে চাই, এই ইঞ্জিনিয়ারিং প্রক্রিয়ায় তার সঙ্গে আর কারা জড়িত ছিলেন। পুরো গভর্নমেন্ট ছিল, নাকি গভর্নমেন্টের একটি অংশ ছিল; যারা নির্বাচনকে প্রভাবিত করেছে এবং তাদের ডিজাইন অনুসারে সেখানে ডিসি, এসপি, ইউএনও, ওসি, প্রিসাইডিং কর্মকর্তা ইত্যাদি নিয়োগ করে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর লোকদের নিয়োগ করে তারা সেই তাদেরই কাক্সিক্ষত সংখ্যা, সেই সংখ্যায় একটি দলকে জেতানোর জন্য তারা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছিল। জাতির কাছে এটা স্পষ্ট করতে হবে।
ডা. তাহের বলেন, নির্বাচনের আগে জামায়াত অন্তর্বর্তী সরকারের কিছু উপদেষ্টার বিষয়ে অভিযোগ জানিয়েছিল। অন্তর্বর্তী সরকার নিজেদের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সমপর্যায়ের নিরপেক্ষ বলেছিল। এমন নীতিগত কথা ছিল, তাদের কেউ দলীয় সরকারের মন্ত্রিত্ব নেবেন না। তবে নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন। এটি তিনি আগের শপথের পরিপন্থী কাজ করেছেন।
খলিলুর রহমানকে লন্ডন ষড়যন্ত্রের হোতা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সেখান থেকে তিনি (ড. খলিলুর) সরকারকে মোটিভেট করে, ষড়যন্ত্র করে বর্তমানে যারা সরকারে আছেন, তাদের সুবিধা দেওয়ার জন্যই অব্যাহতভাবে কাজ করেছেন এবং সেই কাজের পুরস্কার হিসেবেই উনি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এই রিওয়ার্ডটা উনি পেয়েছেন।
বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিন আহমদ খলিলুর রহমানের বিরুদ্ধে বক্তব্য রেখেছিলেন এবং তাকে সরকার থেকে বের করে দিতে বলেছিলেন। তারপরও ‘বিতর্কিত ব্যক্তিকে’ পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেওয়ায় বিস্ময় প্রকাশ করে ড. তাহের বলেন, উনি বিএনপির সঙ্গে নিশ্চয়ই গোপনে এমন এক কন্ট্রাক্টে গেছেন, তারা বিএনপির স্বার্থ সংরক্ষণের জন্য উলঙ্গভাবে ভূমিকা নিয়েছেন, যে কারণে বিএনপির আস্থাভাজন হয়ে আবার তিনি বিএনপির মন্ত্রী হয়েছেন।
বিরোধীদলীয় উপনেতা বলেন, জামায়াত একটি সুষ্ঠু নির্বাচন চেয়েছিল। তবে তারা জাতিকে সুষ্ঠু নির্বাচন থেকে বঞ্চিত করেছেন। সুষ্ঠু নির্বাচন যারা ভ-ুল করেছেন, তারা মীরজাফর। সরকারের উপদেষ্টারা বিএনপিকে জেতানোর জন্য কী ধরনের ষড়যন্ত্র করেছেন, তা সামনে আসা দরকার। তিনি বলেন, তাদের বক্তব্যে স্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হচ্ছে যে, সাবেক এই দুই উপদেষ্টা ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। তাদের দ্রুত জিজ্ঞাসাবাদের আওতায় এনে বিচারের দাবি জানাচ্ছি।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির বিষয়ে ডা. তাহের বলেন, গত কয়েক দিনে বেশ কয়েকটি শিশু ধর্ষণের পর হত্যার শিকার হয়েছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এ ছাড়া সারা দেশে সরকারদলীয় নেতাকর্মীদের ছত্রছায়ায় হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনাও বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। উদ্বেগজনক বিষয় হলো ন্যায়বিচার পাওয়া তো দূরের কথা, এসব ঘটনায় অনেক ক্ষেত্রে থানা মামলা নিতেও গড়িমসি করছে।
ডেপুটি স্পিকার পদে নাম প্রস্তাব প্রসঙ্গে ডা. তাহের বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে সংবিধানের আলোকে লিখিত প্রস্তাব পাওয়া গেলে এবং জুলাই সনদ বাস্তবায়নে সরকারের অবস্থান স্পষ্ট হলে আমরা বিষয়টি বিবেচনা করে দেখব।
