আধিপত্য বিস্তারের দ্বন্দ্বেই শ্রমিক নেতা মাসুম হত্যা

আপডেট : ০৬ মার্চ ২০২৬, ০২:১৩ এএম

খুলনায় পূর্বশত্রুতা ও রূপসা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে রূপসা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি এবং উপজেলা শ্রমিক দলের সাবেক আহ্বায়ক মাসুম বিল্লাহকে হত্যা করা হয়েছে। এই হত্যাকাণ্ডে তিনটি গ্রুপ অংশ নিয়েছে বলে পুলিশ ও নিহতের স্বজনরা জানিয়েছেন। এর মধ্যে গুলি করার জন্য ছিল একটি গ্রুপ, ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপানোর জন্য আরেকটি গ্রুপ এবং কিলিং মিশনে অংশ নেওয়া সন্ত্রাসীদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার জন্য ছিল অন্য গ্রুপ।

এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশ অশোক ঘোষ নামে এক সন্ত্রাসীকে বিদেশি অস্ত্রসহ আটক করেছে। এ ছাড়া জাভেদ পাটোয়ারী নামে আরেকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে এখনো হত্যা মামলা না হলেও পুলিশ বাদী হয়ে অস্ত্র আইনে খুলনা থানায় মামলা করেছে।

নিহত মাসুম বিল্লাহর পারিবারিক সূত্র জানায়, গত বুধবার বেলা সাড়ে ৩টার দিকে স্ত্রী ও ভাতিজার মেয়েকে নিয়ে রূপসা উপজেলার বাগমারা গ্রামের বাড়ি থেকে খুলনায় আসেন তিনি। প্রথমে খুলনা বিশেষায়িত হাসপাতালে একজন রোগী দেখতে যান। সেখান থেকে বিকেলে নিউ মার্কেটে কেনাকাটা শেষ করে নগরীর শিববাড়ী মোড়ে ইফতার করেন। ইফতার শেষে ডাকবাংলো মোড়ে কেনাকাটার জন্য গেলে দুর্বৃত্তরা তাকে ঘিরে ধরে। প্রাণ বাঁচাতে তিনি বাটার শোরুমে প্রবেশ করেন। তখন পেছন থেকে কোপানো গ্রুপের

সদস্যরা তার ডান পায়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে। রক্তাক্ত অবস্থায় লুটিয়ে পড়লে দুর্বৃত্তরা প্রকাশ্যে আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে গলায় ও পিঠে গুলি করে। পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনার সময় উপস্থিত লোকজন ও পুলিশ অশোক ঘোষকে বিদেশি রিভলবারসহ আটক করে।

নিহতের চাচা মহিউদ্দীন শেখ বলেন, মাসুম বিল্লাহ রূপসা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি ছিলেন। তার ব্যাপক জনপ্রিয়তা ছিল। সে কারণে তিনি ফের সভাপতি পদে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন। এ কারণেই প্রতিপক্ষ গ্রুপ পরিকল্পিতভাবে ভাড়াটে খুনি দিয়ে তাকে হত্যা করিয়েছে। তিনি আশা করেন, পুলিশ সঠিক কারণ তদন্ত করে আসামিদের গ্রেপ্তার করবে।

খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের (দক্ষিণ) উপপুলিশ কমিশনার মো. তাজুল ইসলাম বলেন, পূর্বশত্রুতার জের ধরে প্রতিপক্ষ গ্রুপের সন্ত্রাসীরা মাসুম বিল্লাহকে হত্যা করেছে। এতে তিনটি গ্রুপ অংশ নিয়েছে। গুলি করার গ্রুপে ছিল আটজন, যাদের মধ্যে দুজন মূল খুনি। কিলিং মিশন শেষে পালানোর সময় অশোক ঘোষকে আটক করা হয়। গতকাল বৃহস্পতিবার জাভেদ পাটোয়ারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

অস্ত্রধারীসহ সাত-আটজনের নাম-পরিচয় পাওয়া গেছে। তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। অস্ত্র আইনে মামলা হয়েছে। ভিকটিমের স্ত্রী গতকাল বৃহস্পতিবার রাতের মধ্যেই হত্যা মামলা করবেন বলে জানা গেছে।

নিহত মাসুম বিল্লাহ রূপসা উপজেলার বাগমারা গ্রামের মৃত মিনহাজ উদ্দীন মুনসির ছেলে এবং নৈহাটি ইউনিয়নের সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মোস্তফা কামাল ওরফে মিনা কামালের ছোট ভাই। তিনি রূপসা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি এবং উপজেলা শ্রমিক দলের সাবেক আহ্বায়ক ছিলেন। তিনি দুটি মামলার আসামি ছিলেন এবং র‌্যাবের হাতে অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। তার বড় ভাই মোস্তফা কামাল ওরফে মিনা কামাল ২০২০ সালের ৩০ জুলাই র‌্যাবের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হন।

অন্যদিকে, খুলনায় দুর্বৃত্তের ছোড়া গুলিতে হাবিবুর রহমান নামে এক রিকশাচালক আহত হয়েছেন। গত বুধবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে লবণচরা থানার রহমতিয়া মসজিদের পাশে এ ঘটনা ঘটে। আহত হাবিবুর সাতক্ষীরা আশাশুনি এলাকার নুর মোহাম্মদের ছেলে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সন্ত্রাসীরা এক যুবককে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। হাবিবুর সামনে চলে আসায় গুলি তার পিঠের ডান পাশে লাগে। গুলির শব্দ শুনে স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে গেলে সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যায়। পরে তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। লবণচরা থানার ওসি মো. তুহিনুজ্জামান জানান, জড়িতদের গ্রেপ্তারে চেষ্টা চলছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত