চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার নাজিরহাট বিবিরহাট এলাকায় হঠাৎ করেই পেট্রোল পাম্পে জ্বালানি তেল বিক্রি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন যানবাহন চালকরা। প্রয়োজনীয় পেট্রোল ও অকটেন না পেয়ে অনেক চালককে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে, আবার কেউ কেউ বাধ্য হয়ে খালি ট্যাংক নিয়েই ফিরে যাচ্ছেন।এতে দৈনন্দিন চলাচলে ভোগান্তি বেড়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জ্বালানি তেল সংকটের অজুহাতে ফটিকছড়ি উপজেলা সদরের একমাত্র পেট্রোল পাম্প মেসার্স সুন্দর অয়েল ফিলিং স্টেশনে হঠাৎ করে বিক্রি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। শুক্রবার রাত পর্যন্ত পাম্পটিতে মোটরসাইকেল ও বিভিন্ন যানবাহনের দীর্ঘ লাইন দেখা গেলেও কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে অকটেন, পেট্রোল ও ডিজেল সংকটের কথা জানিয়ে বিক্রি বন্ধ করে দেয় কর্তৃপক্ষ।
শনিবার বিকাল ৪টার দিকে দেখা যায়, পাম্পের তিনটি তেল সরবরাহ মেশিন বাঁশ ও ড্রাম দিয়ে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছে। তেল না পেয়ে বিভিন্ন ধরনের যানবাহনকে ফিরে যেতে দেখা যায়। এতে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন মোটরসাইকেল চালকরা। এক মোটরসাইকেল চালক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ইরান যুদ্ধের প্রভাব ইরানে পড়ার আগে বাংলাদেশে পড়েছে। সিন্ডিকেট করে তেল সংকট দেখিয়ে আমাদের জিম্মি করা হচ্ছে। স্থানীয় চালকদের অভিযোগ, কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করেই তেল বিক্রি বন্ধ রাখা হয়েছে।
জানতে চাইলে সুন্দর অয়েল ফিলিং স্টেশনের ব্যবস্থাপক সজল নাথ বলেন, গতকাল পর্যন্ত আমাদের কাছে পর্যাপ্ত অকটেন, পেট্রোল ও ডিজেল ছিল। তবে যানবাহনের চাহিদার কারণে মজুত দ্রুত শেষের দিকে চলে গেছে। বর্তমানে সামান্য তেল রয়েছে, যা ফায়ার সার্ভিস, অ্যাম্বুলেন্স, পুলিশসহ সরকারি জরুরি যানবাহনের জন্য রাখা হয়েছে।
এদিকে সম্প্রতি ইরান-ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের চলমান যুদ্ধের প্রভাব দেশের জ্বালানি তেলের বাজারেও পড়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। জ্বালানি তেল সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে সরকার ইতোমধ্যে বিভিন্ন নির্দেশনা ও বিধিনিষেধ আরোপ করেছে।
ফটিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাঈদ মোহাম্মদ ইব্রাহিম বলেন, গতকাল রাতে পাম্পে অতিরিক্ত যানবাহনের চাপ ছিল। এ কারণে সাময়িকভাবে তেল সরবরাহ বন্ধ রেখেছে কর্তৃপক্ষ। তবে আগামীকাল থেকে গ্রাহকরা স্বাভাবিকভাবেই তেল পাবেন। তেলের কোনো সংকট নেই।
এদিকে স্থানীয় বাসিন্দা ও চালকদের দাবি, দ্রুত জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক করা না হলে উপজেলার বিভিন্ন সড়কে যান চলাচল এবং সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন কার্যক্রমে আরও ভোগান্তি বাড়বে।
