আমেনার লাশ সরিষাক্ষেতে ফেলে রাখেন সৎবাবা

আপডেট : ০৮ মার্চ ২০২৬, ০২:৩৫ এএম

নরসিংদীর মাধবদীতে বহুল আলোচিত আমেনা আক্তার (১৫) হত্যাকা-ের রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। মেয়ের কর্মকা-ে বিরক্ত হয়েই তাকে  হত্যা করেন সৎবাবা আশরাফ আলী। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৯ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গতকাল শনিবার বেলা ২টার দিকে নরসিংদীর পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান পুলিশ সুপার মো. আবদুল্লাহ-আল-ফারুক।

তিনি আরও জানান, ধর্ষণ ও হত্যা মামলার মূল আসামি নূর মোহাম্মদ ওরফে নূরা (২৮) আমেনার সঙ্গে আগে থেকে প্রেমের সম্পর্ক থাকার সূত্র ধরে শারীরিক সম্পর্কে লিপ্ত ছিল। অপরদিকে আসামি হযরত আলী, এবাদুল, জামান ও গাফফার আমেনা হত্যাকা-ের ১০ থেকে ১২ দিন আগে হযরত আলীর কোতালিরচরের নিজ বাড়িতে দলবদ্ধভাবে আমেনাকে ধর্ষণ করে।

সৎবাবা আশরাফ আলী আদালতে ১৬৪ ধারা জবানবন্দিতে বলেন, তার সৎমেয়ে আমেনাকে সঙ্গে নিয়ে গত ২৫ ফেব্রুয়ারি রাতে পূর্বপরিকল্পনা মোতাবেক সুমন নামে এক সহকর্মীর বাড়ির উদ্দেশে রওনা হন। রাত সাড়ে ৮টার দিকে পথিমধ্যে একটি সরিষাক্ষেতে আমেনা সামনের দিকে হাঁটার সময় পেছন দিক থেকে আশরাফ ওড়না দিয়ে আমেনার গলায় ফাঁস দিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করেন। পরে ওই ওড়না দিয়েই আমেনা দু’হাত পেছন দিকে বেঁধে রাখেন। পরে তিনি ঘটনাস্থল থেকে চলে এসে তার পরিবারকে জানান নূরা এবং অন্যরা তার কাছ থেকে আমেনাকে ছিনিয়ে নিয়ে যায়।

আশরাফ জবানবন্দিতে আরও উল্লেখ করেন, আমেনার বিভিন্ন অসামাজিক কর্মকা-ের কারণে তিনি দীর্ঘদিন যাবৎ বিরক্ত ছিলেন এবং সামাজিকভাবে বিভিন্ন সময়ে হেয়প্রতিপন্ন হওয়ার কারণেই এ হত্যাকা- ঘটিয়েছেন। হত্যার দায় স্বীকার করা আমেনার সৎবাবা আশরাফ আলী শেরপুর জেলার নালিতাবাড়ী থানার মোয়াকুড়া গ্রামের কুব্বাত আলীর ছেলে। তিনি বর্তমানে নরসিংদীর মাধবদীর কোতয়ালিরচর দড়িকান্দি গ্রামে মতির বাড়িতে সপরিবারে ভাড়ায় বসবাস করে রাজমিস্ত্রির কাজ করতেন। ইতিপূর্বে ধর্ষণে জড়িত প্রেমিক নূর মোহাম্মদ ওরফে নূরা, এবাদুল্লাহ, হযরত আলী ও গাফফার এবং ধর্ষণের ঘটনায় সালিশ দরবার করে আমেনার পরিবারকে এলাকাছাড়া করার অভিযোগে আহাম্মদ আলী মেম্বার ওরফে আহাম্মদ দেওয়ান, তার ছেলে মো. ইমরান দেওয়ান, প্রতিবেশী মো. আইয়ুব ও

ইছাহাক ওরফে ইছাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের প্রত্যেককে বিজ্ঞ আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। তারা সবাই বর্তমানে ৮ দিনের রিমান্ডে রয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত