ফেব্রুয়ারিতে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৪৩২

আপডেট : ০৯ মার্চ ২০২৬, ০৮:১৫ এএম

গত ফেব্রুয়ারি মাসে দেশে ৫১৭টি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে। এসব দুর্ঘটনায় ৪৩২ জন প্রাণ হারিয়েছে এবং আহত হয়েছে ১ হাজার ৬৮ জন। একই সময়ে ৮টি নৌ-দুর্ঘটনায় তিনজন নিহত ও ৯ জন আহত হয়েছে। এ ছাড়া ৪৩টি রেলপথ দুর্ঘটনায় ২৮ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং আহত হয়েছে আরও ১৪ জন।

গতকাল রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক সাইদুর রহমান ‘ফেব্রুয়ারি মাসের সড়ক দুর্ঘটনার প্রতিবেদনে’ এসব তথ্য তুলে ধরেন। ফাউন্ডেশনটি ৯টি জাতীয় দৈনিক, ৭টি অনলাইন সংবাদমাধ্যম, বিভিন্ন ইলেকট্রনিক মিডিয়া ও নিজস্ব তথ্যের ওপর ভিত্তি করে এ প্রতিবেদন তৈরি করেছে। প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, দুর্ঘটনায় নিহতদের মধ্যে মোটরসাইকেল চালক ও আরোহী ছিলেন ১৭৪ জন। এ ছাড়া বাসের যাত্রী ২২ জন, ট্রাক, পিকআপ, ট্রাক্টর ও লরির আরোহী ২৪ এবং প্রাইভেট কার ও মাইক্রোবাসের আরোহী ১৬ জন মারা গেছে। থ্রি-হুইলার যাত্রী (ইজিবাইক, সিএনজি, অটোরিকশা, অটোভ্যান ও লেগুনা) ৬৪, স্থানীয়ভাবে তৈরি যানবাহনের যাত্রী (নসিমন, ভটভটি, আলমসাধু, টমটম ও মাহিন্দ্রা) ২৩ এবং বাইসাইকেল আরোহী সাতজনের মৃত্যু হয়েছে। দুর্ঘটনার স্থানভিত্তিক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ১৫৭টি জাতীয় মহাসড়কে, ২১৩টি আঞ্চলিক সড়কে, ৫৬টি গ্রামীণ সড়কে, ৮৪টি শহরের সড়কে এবং ৭টি অন্যান্য স্থানে ঘটেছে। অন্যদিকে দুর্ঘটনার ধরন অনুযায়ী ১১৩টি মুখোমুখি সংঘর্ষ, ২২৮টি নিয়ন্ত্রণ হারানোর কারণে, ১০৪টি পথচারীকে চাপা বা ধাক্কা দেওয়ার ঘটনায়, ৬৮টি যানবাহনের পেছনে আঘাত করার ফলে এবং ৪টি অন্যান্য কারণে ঘটেছে।

বিভাগভিত্তিক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ঢাকা বিভাগে দুর্ঘটনা ঘটেছে ২৩ দশমিক ৫৯ শতাংশ এবং প্রাণহানি হয়েছে ২৫ দশমিক ২৩ শতাংশ। রাজশাহী বিভাগে দুর্ঘটনা ১৪ দশমিক ৭০ শতাংশ ও প্রাণহানি ১৪ দশমিক ৮১ শতাংশ। চট্টগ্রাম বিভাগে দুর্ঘটনা ১৭ দশমিক ৯৮ শতাংশ এবং প্রাণহানি ১৬ দশমিক ৮৯ শতাংশ। খুলনা বিভাগে দুর্ঘটনা ১৩ দশমিক ১৫ শতাংশ ও প্রাণহানি ১৩ দশমিক ১৯ শতাংশ। বরিশাল বিভাগে দুর্ঘটনা ৫ দশমিক ৪১ শতাংশ এবং প্রাণহানি ৫ দশমিক ০৯ শতাংশ। সিলেট বিভাগে দুর্ঘটনা ৭ দশমিক ১৫ শতাংশ ও প্রাণহানি ৬ দশমিক ৭১ শতাংশ। রংপুর বিভাগে দুর্ঘটনা ১১ দশমিক ৬০ শতাংশ এবং প্রাণহানি ১২ দশমিক ০৩ শতাংশ। আর ময়মনসিংহ বিভাগে দুর্ঘটনা ৬ দশমিক ৩৮ শতাংশ এবং প্রাণহানি ৬ শতাংশ। বিভাগগুলোর মধ্যে ঢাকা বিভাগে সবচেয়ে বেশি ১২২টি দুর্ঘটনা ঘটেছে, এতে নিহত হয়েছে ১০৯ জন। অন্যদিকে বরিশাল বিভাগে সবচেয়ে কম ২৮টি দুর্ঘটনায় ২২ জনের মৃত্যু হয়েছে। আর রাজধানী ঢাকায় ৩২টি দুর্ঘটনায় ১৭ জন নিহত ও ৪৬ জন আহত হয়েছে।

প্রতিবেদনে সড়ক দুর্ঘটনার জন্য ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন ও সড়ক, অতিরিক্ত গতি, চালকদের বেপরোয়া মনোভাব, অদক্ষতা ও শারীরিক-মানসিক অসুস্থতা, নির্দিষ্ট বেতন ও কর্মঘণ্টার অভাব, মহাসড়কে ধীরগতির যান চলাচল, তরুণদের বেপরোয়া মোটরসাইকেল চালানো, ট্রাফিক আইন না জানা বা না মানা, দুর্বল ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, বিআরটিএর সক্ষমতার ঘাটতি এবং গণপরিবহন খাতে চাঁদাবাজিকে দায়ী করা হয়েছে। প্রতিবেদনে সুপারিশ করা হয়েছে যে, দক্ষ চালক তৈরির উদ্যোগ বৃদ্ধি করতে হবে, চালকদের বেতন ও কর্মঘণ্টা নির্ধারণ করতে হবে এবং বিআরটিএর সক্ষমতা বাড়াতে হবে। এ ছাড়া পরিবহন মালিক, শ্রমিক, যাত্রী ও পথচারীর প্রতি ট্রাফিক আইন বাধাহীনভাবে প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। মহাসড়কে স্বল্পগতির যানবাহনের চলাচল বন্ধ করে আলাদা পার্শ্বরাস্তা (সার্ভিস রোড) তৈরি, সব মহাসড়কে পর্যায়ক্রমে রোড ডিভাইডার নির্মাণ, গণপরিবহনে চাঁদাবাজি বন্ধ এবং রেল ও নৌপথ সংস্কারের মাধ্যমে সড়ক পথের চাপ কমানো প্রয়োজন। এর পাশাপাশি টেকসই পরিবহন কৌশল প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন এবং সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮ বাধাহীনভাবে কার্যকর করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত