বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আর্থিক লেনদেন সহজ হলো

আপডেট : ১০ মার্চ ২০২৬, ১২:৩৮ এএম

বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের শেয়ার হস্তান্তর এবং বিক্রয়লব্ধ অর্থ দেশে ফেরত নেওয়ার (রিপ্যাট্রিয়েশন) প্রক্রিয়া সহজ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এই লক্ষ্যে একটি নতুন মাস্টার সার্কুলার জারি করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, ১ কোটি টাকা পর্যন্ত লেনদেনের ক্ষেত্রে স্বাধীন মূল্যায়ন ছাড়াই ক্রেতা ও বিক্রেতার যৌথ ঘোষণার ভিত্তিতে শেয়ার হস্তান্তর করা যাবে। নির্ধারিত মূল্যায়ন পদ্ধতি অনুসরণ করলে অনুমোদিত ডিলার (এডি) ব্যাংকগুলো এখন ১০০ কোটি টাকা পর্যন্ত লেনদেন প্রক্রিয়া করতে পারবে। গতকাল সোমবার বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) এক বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

নতুন সার্কুলারের মাধ্যমে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত নয় এমন বেসরকারি ও পাবলিক লিমিটেড কোম্পানিতে অনিবাসী বিনিয়োগকারীদের শেয়ার হস্তান্তর এবং বিক্রয়মূল্য প্রত্যাবর্তনের নিয়ম আরও সহজ ও স্বচ্ছ করা হয়েছে। নতুন সার্কুলারে অনুমোদিত ডিলার (এডি) ব্যাংকগুলোর ক্ষমতা বাড়ানো হয়েছে এবং লেনদেনের সীমা বৃদ্ধি করা হয়েছে। ফলে অনেক ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংকের পূর্বানুমোদন ছাড়াই এসব ব্যাংক বিদেশি বিনিয়োগকারীদের শেয়ার হস্তান্তর ও অর্থ প্রত্যাবর্তনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পারবে।

নতুন সার্কুলারে প্রক্রিয়া সম্পন্নের নির্দিষ্ট সময়সীমাও নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় নথিপত্র সম্পূর্ণ থাকলে শেয়ার হস্তান্তর ৪৫ দিনের মধ্যে এবং বিক্রয়লব্ধ অর্থ পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে বিদেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করতে হবে। পাশাপাশি প্রতিটি এডি ব্যাংককে জ্যেষ্ঠ ব্যবস্থাপনার নেতৃত্বে একটি অভ্যন্তরীণ কমিটি গঠন করে মূল্যায়ন ও অর্থ প্রত্যাবর্তন-সংক্রান্ত আবেদন পর্যালোচনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এডি ব্যাংকগুলো যেসব লেনদেন প্রক্রিয়া করবে, সেগুলোর তথ্য ১৪ দিনের মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকে জানাতে হবে।

এ ছাড়া অডিট করা আর্থিক বিবরণীর ভিত্তিতে নিট সম্পদমূল্য (এনএভি) অনুযায়ী চুক্তির মূল্য নির্ধারণ করা হলে অনেক ক্ষেত্রে এডি ব্যাংক সরাসরি লেনদেন প্রক্রিয়া করতে পারবে। মূল্যায়নের ক্ষেত্রে নেট অ্যাসেট ভ্যালু (এনএভি), বাজারমূল্য বা ডিসকাউন্টেড ক্যাশ ফ্লো (ডিসিএফ) পদ্ধতি বহাল রাখা হয়েছে, তবে এ বিষয়ে নির্দেশনা আরও স্পষ্ট করা হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী বলেন, বিদেশি বিনিয়োগের জন্য ভালো পরিবেশ তখনই তৈরি হয়, যখন বিনিয়োগকারীরা বিনিয়োগের প্রতিটি ধাপে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে এগোতে পারেন। অনুমোদনের জটিলতা কমিয়ে আনা, বিক্রয়লব্ধ অর্থ সহজে দেশে ফেরত নেওয়ার সুযোগ দেওয়া এবং বিনিয়োগ থেকে প্রস্থানের ধাপগুলো সহজ করার মাধ্যমে বাংলাদেশ সেই লক্ষ্যেই এগোচ্ছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, নতুন এই উদ্যোগ বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য বিনিয়োগ থেকে বেরিয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়া সহজ করবে এবং দেশের সামগ্রিক বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নত করতে সহায়ক হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত